অর্জনটি হারিয়ে যেতে দেব না | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

অর্জনটি হারিয়ে যেতে দেব না

4 July 2014, 11:06:56

katon

 

 

 

 

 

 

সাংবাদিক সমাজের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের আমলে ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস আইনের পত্রিকা বন্ধসংক্রান্ত ধারাটি বাতিল করা হয়। বর্তমান সরকার সেই ধারাটি পুনর্বহালের চিন্তা–ভাবনা করছে বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিক ইউনিয়নের দুজন শীর্ষস্থানীয় নেতার অভিমত প্রকাশ করা হলো


জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবদের হঠাৎ কেন মনে হলো যে পত্রিকা বন্ধ করার ক্ষমতাটি তাঁদের খুবই জরুরি? ১৯৭৩ সালের আইন। ১৯৯১ সালে সংশোধন হয়েছে। তারপর চলে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। কত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এলেন-গেলেন কিন্তু তাঁরা কখনো বলেননি যে পত্রিকা বন্ধের ক্ষমতা না থাকায় তাঁদের দাপটের কমতি হচ্ছে! মনে রাখতে বলি: সাংবাদিকদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে একজন বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরে যাচাই-বাছাই হয়। ওই কমিটির সুপারিশেই ১৯৭৩ সালের দ্য প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস (ডিক্লারেশনস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন) অ্যাক্টের শুধু একচ্ছত্র ক্ষমতা বলে সংবাদপত্রের ডিক্লারেশন বাতিলের ক্ষমতা রহিত করা হয়।
যাঁরা আজ পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা চাইছেন, তাঁদের যদি পাল্টা প্রশ্ন করি, এই দুই দশকে তাঁরা কতশত পত্রিকার ডিক্লারেশন দিয়েছেন? তার সবই কি যোগ্যদের দিয়েছেন? কাদের সুপারিশে দিয়েছেন? যাঁদের ডিক্লারেশন দিয়েছেন যোগ্য সাংবাদিক-কর্মচারী দিয়ে তাঁদের পত্রিকা চালানোর যোগ্যতা আছে কি না; সাংবাদিক-কর্মচারীদের আইন অনুযায়ী বেতন দেওয়ার সামর্থ্য আছে কি না, দেখা হয়েছে? ডিক্লারেশন দেওয়ার পরে ছয় মাসে-নয় মাসে খোঁজ নিয়েছেন? সরকার ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ ঘোষণা করেছে, তা যে আইনে পরিণত হয়েছে, তাঁদের ডিক্লারেশন দেওয়া পত্রিকায় সরকারের এই আইন পালিত হচ্ছে কি না তাঁর কি কখনো খোঁজ নেওয়া হয়েছে? মাঠপর্যায়ে আইন প্রয়োগের দায়িত্বে নিয়োজিত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের বুঝতে হবে পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতার চেয়ে এসব প্রশ্নের জবাব নিশ্চিত করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এ এক মহাযন্ত্রণা দেখছি আজকাল। ভালো পায়ে চুলকিয়ে ঘা বানিয়ে তা সারানোর জন্য চিৎকার করা হচ্ছে। যাঁরা গণমাধ্যমের ব্যবসা করার যোগ্য না, তাঁদের দেওয়া হচ্ছে পত্রিকার ডিক্লারেশন বা টেলিভিশনের লাইসেন্স। একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে ‘আবেদনকারী আমাদের সমমনা, ব্যবস্থা নিন’-মার্কা সুপারিশ। কিন্তু পরে যখন হঠাৎ দেখা যাচ্ছে; ডিক্লারেশন বা লাইসেন্স নেওয়ার পর তাঁরা ‘লাইনমতো’ চলছেন না, তখনই যেন হুঁশ হচ্ছে। তখনই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার সবক দেওয়া শুরু। অ-সাংবাদিকতা বা অপসাংবাদিতার দায় চাপানো হচ্ছে পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর।
বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের আবদার: রাষ্ট্রবিরোধী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানে এমন সংবাদ প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি বাতিলের ক্ষমতা দিতে হবে তাঁদের। কেন? এই দুই অপরাধে দোষী হলে যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে [এমনকি তিনি সাংবাদিক হলেও] প্রচলিত আইনেই তো শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। সে ক্ষমতা তো তাঁদের হাতে আছেই। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবরা সেই আইন প্রয়োগ করুন। প্রশ্ন করি, একবারে হালে দিনাজপুরে, ঠাকুরগাঁওয়ে বা যশোরে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে যে তাণ্ডব চালানো হলো, সেখানে কয়জনের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে? ধর্মীয় লেবাসে খোদ রাজধানীতে সরকার, রাষ্ট্র, ধর্ম ও গণবিরোধী যে নরক গোলজার সৃষ্টি করা হয়েছিল, ঢাকার বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব তাদের কয়জনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন?
একটি সংবাদপত্রে বা গণমাধ্যমে অসাবধানতাবশত ভুল হলে তা সংশোধন করা বা ক্ষমা চাওয়ার প্রথাটি যুগ যুগ ধরেই প্রচলিত। পেশাদার সাংবাদিকতার বাইরে গিয়ে যদি কোনো গণমাধ্যম উদ্দেশ্যমূলকভাবে জনস্বার্থবিরোধী কাজ করে বা উন্মাদনা ছড়িয়ে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে, তাহলে চিহ্নিত করতে হবে কে এই

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: