অর্থপাচার ও ঋণ খেলাপীর অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট: বললেন শাহজাহান বাবলু

১১ অক্টোবর ২০১৯, ৪:৩৮:৪৩

স্টাফ রিপোর্টারঃ কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের তরুণ শিল্প উদ্যোক্তা শাহজাহান বাবলুর বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপীর অভিযোগ এনে কিছু গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, আমি আমি ঋণ খেলাপী নই। ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম-নীতি মেনেই একজন ঋণ গ্রহীতা। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্যেও তিনি যে ঋণ খেলাপি নন তার সত্যতা মিলেছে। সিঙ্গাপুরে আড়াই লাখ ডলার পাচারের অভিযোগ আনা হলেও তিনি ব্যাংকের নিয়ম-নীতি মেনেই এ টাকা পাঠিয়েছেন। রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে তিনি দুবাই থেকে প্রায় ৫০ লাখ ডলার পাঠিয়ে ব্যবসায়ী ক্যাটাগরিতে  ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স পদক-২০১৮’ পেয়েছেন।

জানা যায়, শাহজাহান বাবলু ‘এসবি গ্রপ’-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বর্তমানে তিনি দেশ-বিদেশে একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি বিশিষ্ট সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিত।
তাকে ঋণ খেলাপী উল্লেখ করে সাম্প্রতিক কিছু গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত সংবাদে তিনি কমার্স ব্যাংক থেকে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে সত্যতা জানার জন্য বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ডিএমডি রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শাহজাহান বাবলু বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের একজন ঋণ গ্রহীতা। তিনি পূর্বের ঋণ ৪৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা পরিশোধ করে নতুন করে ১৭৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। ৪০০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের বিষয়টি সত্য নয় বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের মাধ্যমে আড়াই লাখ ডলার সিঙ্গাপুরে পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকের যাবতীয় নিয়ম-নীতি মেনে সিঙ্গাপুরের দু’টি প্রতিষ্ঠানে শাহজাহান বাবলু আড়াই লাখ ডলার পাঠিয়েছেন। টাকা পাঠানোর জন্য যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন সবই সংরক্ষিত আছে।
ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাঠানো মানি লন্ডারিং হয় কিনা এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় তিনি দু’টি প্রতিষ্ঠানে টাকা পাঠিয়েছেন এটা মানি লন্ডারিং হয়না।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে শাহজাহান বাবলুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমার ব্যবসায়িক সফলতায় ইর্ষান্বিত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হেয় করতে এমন মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অপার সম্ভাবনার দেশ। বাংলাদেশের সন্তান হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। আমি বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে ভালোবাসি।
শাহজাহান বাবলু বলেন- বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় রূপান্তরের যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখে আসছিলেন সে স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ আজ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। আগামীর বাংলাদেশ হবে উন্নয়নে সাফল্য মোড়ানো।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠছে। প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহে তরুণ উদ্যোক্তারা অসংখ্য শিল্প কারখানা গড়ে তুলে বাংলাদেশের বেকার সমস্যার সমাধানে অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন। একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে আমারও স্বপ্ন দেশ-প্রবাসে শিল্প কারখানা গড়ে তুলে বেকার সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখা। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে যখন এগিয়ে যাচ্ছি ঠিক সে সময়ে একটি মহল আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
তিনি বলেন, আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ীই আমি একজন ঋণ
গ্রহীতা। আমি ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছি। ঋণের শর্তাবলী মেনেই ব্যাংকের সাথে লেনদেন অব্যাহত রেখেছি। আমি ঋণখেলাপী না হলেও স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্রে আমাকে মিডিয়ায় ঋণ খেলাপী বানানো হয়েছে। যা মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি এমন মিথ্যা প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মিথ্যা অপপ্রচারে কর্নপাত না করতে তিনি সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।
শাহজাহান বাবলু বলেন, আমি কমার্স ব্যাংকের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরে আড়াই লাখ টাকা পাঠিয়েছি, এজন্য বিদেশে অর্থপাচার করেছি মর্মে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ দুবাইয়ে আমার ব্যবসায় উপার্জিত প্রায় ৫০ লাখ ডলার জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়েছি। এজন্য একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে আমাকে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক রেমিটেন্স পদক-২০১৮’ প্রদান করা হয়েছে।
শাহজাহান বাবলু একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে ‘জাতীয় মৎস্য পদক-২০১৪’ স্বর্ণপদক অর্জন করেন। ওইসময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে স্বর্ণপদক ও সনদ গ্রহণ করেন। তিনি ২০১৫ সালে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লর্ডসে এনআরই গ্লোবাল এচিভারস এর স্বর্নপদক ও সনদ এবং একই বছর তিনি থাইল্যান্ডে ফাস্টয়েস্ট গ্রোয়িং কোম্পানী এক্সিলেন্স ক্রেষ্ট ও সনদ লাভ করেন। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সময়ে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেন।
একজন তরুণ সমাজ সেবক ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী হিসেবে শাহজাহান বাবলু সামাজিক কর্মকা-, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: