আইন থাকলেও নেই প্রয়োগ… অবাধে চলছে কোচিং বাণিজ্য! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

আইন থাকলেও নেই প্রয়োগ… অবাধে চলছে কোচিং বাণিজ্য!

19 June 2014, 8:09:44

 

alauddin

 

 

 

 

 

 

 

 


মোঃ আলাউদ্দিন মজুমদার

শিক্ষা জাতির মেরুন্ড। যে জাতি যত বেশি শিতি, সে জাতি তত বেশি উন্নত। দুইটি চিরন্তন সত্য প্রবাদ বাক্য। তাই প্রত্যেক সচেতন অভিভাবক তার সন্তানকে যুগপোযোগী শিায় শিতি করতে চায়। তাদের সন্তানরা মেধায় মননে সকল প্রতিযোগিতায় অন্যদের সাথে টিকে থাকুক সেটা প্রত্যেক অভিভাবকের কাম্য। তাই অভিভাবকরা তাদের সন্তানকে নাম করা শিাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি করে এবং স্বনামধন্য শিকদের তত্ত্বাবধানে রাখতে চেষ্টা করে। বাংলাদেশে আয়তন ও জনসংখ্যা অনুযায়ী শিা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা খুবই কম। কাজেই উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে যেমন প্রতিটি কাসের জন্য নির্ধারিত আসন থাকে আমাদের দেশের শিাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সে রকম খুব একটা দেখা যায় না। দেশের শিা প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রেণি করে অধিকাংশতেই অধিক শিার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। ফলে সকল শিার্থীদের প্রতি নজর দেয়া শ্রেণি শিকের পে সম্ভব হয়না। এতে কিছু শিার্থী শিকের লেকচার শুনে বুঝে পড়া আত্মস্থ করতে পারলেও অধিকাংশই সেটা করতে পারেনা। যার কারণে অভিভাবকদেরকে তাদের সন্তানের পড়ালেখা নিয়ে ভাবনায় পড়তে হয় এবং কাস শেষে বিভিন্ন কোচিংয়ের দ্বারস্থ হতে হয়। একটা সময় ছিল যখন কোচিংকেও কাসের অংশ হিসেবে ধারণা করা হতো। সময়ের তালে তালে কোচিং তার অতিতের মহিমা হারিয়ে বাণিজ্যে রূপ লাভ করেছে। দেশের অসাধু শিকদের অর্থলোভ এর পিছনে অনেকাংশেই দায়ী। দিনের পর দিন কোচিং ফি বেড়েই চলেছে। যে কারণে বিত্তবানদের সন্তানরা কাস কিংবা কোচিংয়ের মাধ্যমে শিা অর্জন করতে পারলেও গরিব পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে অতিরিক্ত ব্যয় নির্বাহ করে কোচিংয়ে ভর্তি করাতে পারছেনা। এমনি এক অবস্থায় ২০১২সালে অভিভাবকদের কয়েকজন হাইকোর্টে কোচিং বাণির্জ্য বন্ধে রিট পিটিশন দাখিল করে। যাতে উল্লেখ করা হয়- “দেশের সরকারি ও বেসরকারি শিা প্রতিষ্ঠান সমূহের নিম্ন মাধ্যমিক থেকে স্নাতোকোত্তর, মাদ্রাসায় দাখিল থেকে কামিল ও কারিগরি শিা প্রতিষ্ঠান সমূহের এক শ্রেণির শিক বানিজ্যিক ভিত্তিতে কোচিং পরিচালনা করে আসছে। এটি বর্তমানেন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে- যেখানে অভিভাবক ও শিার্থীরা কোচিং বানিজ্যের সাথে সম্পৃক্ত শিকদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন। যা পরিবারের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে এবং ব্যয় নির্বাহে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া অনেক শিক কাসের পাঠদানে মনোযোগী না হয়ে কোচিংয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন। এতে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিার্থীরা ও তাদের অভিভাবকরা চরমভাবে তিগ্রস্থ হচ্ছেন। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টে রিট পিটিশন নাম্বার ৭৩৬৬/২০১১ এর আদেশের প্রেেিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ কোচিং বাণিজ্য বন্ধে একটি গেজেট প্রকাশ করে। যার পরিপ্রেেিত শিামন্ত্রী এবং শিা মন্ত্রনালয় কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কিছু নীতিমালা প্রণয়ন করে। যে নীতিমালাকে শিাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ নামে অভিহিত করা হয়।


এ নীতিমালায় কোচিং বাণিজ্যের সংজ্ঞা ছিল- শিা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিার্থীদের শিা কার্যক্রম চলাকালীন নির্ধারিত কাসের বাইরে বা এর পূর্বে অথবা পরে শিক কর্তৃক শিা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বা বাইরে কোন স্থানে পাঠদান করাই কোচিংয়ের আওতাভুক্ত হবে। সরকার এবং দেশের জনগণ দেশের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অভহিত হওয়ার কারণে শিার্থীরা যেন সু-শিায় শিতি হতে পারে তার জন্য কতগুলো শর্ত এবং সুযোগ শিকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালায় সংযোজন করে দেয়া হয়। সে সকল শর্তের মধ্যে অন্যতম ছিল- আগ্রহী শিার্থীদের জন্য শিা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের পূর্বে বা পরে শুধু অভিভাবকদের আবেদনের প্রেেিত প্রতিষ্ঠান প্রধান অতিরিক্ত কাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন।


শিা মন্ত্রনালয় এ নীতিমালার বাইরে আরও কতগুলো নীতিমালা প্রণয়ন করে। তা হলো- কোন শিক তার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শিার্থীদেরকে প্রাইভেট বা কোচিং করাতে পারবেনা। তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের পূর্ব অনুমতি সাপেে দৈনিক অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠানের ১০জন শিার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন। এেেত্র শিার্থীদের তালিকা (শ্রেণি ও রোল নং সহ) প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিত আকারে জানাতে হবে।
কোন শিক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে উঠা কোন কোচিং সেন্টারে যুক্ত হতে পারবেনা। নিজেও কোন কোচিং সেন্টার গড়ে তুলতে পারবেন না। কোন শিক কোন শিার্থীকে কোচিংয়ে উৎসাহিত বা বাধ্য করতে পারবেন না। এমনকি কোন শিক বা শিার্থীর নাম ব্যবহার করে প্রচারণা চালাতে পারবেনা। কোচিং সেন্টারের নামে বাসা ভাড়া নিয়ে কোচিং বাণিজ্যি পরিচালনা করা যাবেনা।


যারা বা যে শিাপ্রতিষ্ঠান কোচিং বাণিজ্যের ক্ষেত্র উপোরোক্ত নীতিমালা ভঙ্গ করবে তাদের জন্য কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালায় শাস্তির সুপারিশ এবং শাস্তির ধরন প্রকাশ করা হয়েছে। যা হলো-
এমপিও ভুক্ত শিা প্রতিষ্ঠানে এমপিও ভুক্ত কোন শিক কোচিং বাণিজ্য জড়িত থাকলে তার এমপিও স্থগিত, বাতিল, বেতন-ভাতাদি স্থগিত, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, বেতন একধাপ অবনমিতকরণ, সাময়িক বরখাস্ত, চুড়ান্ত বরখাস্ত ইত্যাদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কর্তৃপ গ্রহণ করতে পারবে।
এমপিও ভূক্ত শিা প্রতিষ্ঠানে এমপিও বিহীন কোন শিক, এমপিও বিহীন শিাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকলেও উপোরোক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কর্তৃপ গ্রহণ করতে পারবে।
কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিকদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সরকার পরিচালনা পর্ষদ ভেঙ্গে দেয়াসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি, অধিভুক্তি বাতিল করতে পারবে।
সরকারি শিা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ১৯৮৫ এর অধীনে অসদাচরন হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ অপরাধের জন্য বিভাগীয় জেলা এবং উপজেলা শিা অফিসার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিবর্গ এ শাস্তি প্রদান করতে পারবে।
কোচিং বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সরকার প্রণীত নীতিমালা অত্যন্ত সময় উপযোগী। যা প্রণয়নের পর শিার্থীসহ অভিভাবকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় ২০১২ সালের ২০ জুন শিা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী স্বারিত কোচিং বাণিজ্য নীতিমালা দীর্ঘ ২ বছর পেরিয়ে গেলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তির কারণে আজও বাস্তবায়ন হয়নি। বরং কোচিংয়ের উৎপাতে শিার্থী ও অভিভাবকরা অতিতের তুলনায় আরও অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন ব্যাঙের ছাতার মত কোচিং সেন্টারে গজিয়ে উঠেছে। শিকরা শিার্থীদেরকে জিম্মি করে তাদের অভিভাবকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে ল ল টাকা। এদিকে কোচিং সেন্টার বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশের শিা প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিার মান কমে যাচ্ছে। যদি শিকদের এ কোচিং বানিজ্যে লাগামহীনভাবে চলতে থাকে, তবে অদূর ভবিষ্যতে শিার্থীরা সম্পূর্ণভাবে কোচিংয়ের দিকে ধাবিত হবে। শিা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র সনদ অর্জনের মাধ্যম হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় কোচিং বাণিজ্য বন্ধে সরকারের সচেতনার সাথে সাথে আইন প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।
তাই আমি মনে করি, শিার মান উন্নয়নে সরকার অবশ্যই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

 

লেখকঃ মো: আলাউদ্দিন মজুমদার
সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক
উদ্যোক্তা- নাঙ্গলকোট ইয়ূথ জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন
সাধারণ সম্পাদক- নাঙ্গলকোট লেখক ফোরাম
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা।

 

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: