শিরোনাম
◈ ক্ষমতার পতন ও অপেক্ষার মিষ্টি ফল-মহসীন ভূঁইয়া ◈ নাঙ্গলকোটে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাকে খাল বানিয়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার! ◈ নাঙ্গলকোটের তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের টিম ◈ নাঙ্গলকোটে শত বছরের পানি চলাচলের ড্রেন বন্ধ ,বাড়িঘর ভেঙ্গে ২’শ গাছ নষ্টের আশংকা ◈ পদ্মা সেতুর রেল সংযোগে খরচ বাড়লো ৪ হাজার কোটি টাকা ◈ অরুণাচল সীমান্তে বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান! চীন-ভারত সংঘাতের আশঙ্কা ◈ কুমিল্লার বিশ্বরোডে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইউলুপ- লোটাস কামাল ◈ দুই মামলায়খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি আজ ◈ মাদকবিরোধী অভিযানএক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১ ◈ নাঙ্গলকোটে চলবে ৩ দিন ব্যাপী মাটি পরীক্ষা
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

আগামীকাল তেরখাদার ছাগলাদহের বুড়োমায়ের গাছতলায় বার্ষিক মহৌৎসব

১৪ মে ২০১৮, ১০:৩৪:১২

রাসেল আহমেদ, বিশেষ প্রতিবেদক ঃ
উপজেলার ছাগলাদাহে ঐতিহ্যবাহী বুড়োমায়ের গাছতলায় বাৎসরিক মহৌৎসব আজ মঙ্গলবার। হিন্দু সম্প্রদায়ের এ মিলন মেলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে সকল প্রস্তুতি। দুর-দূরান্ত থেকে এসেছে, আসছে বুড়িমার ভক্তরা। তবে প্রতিবারের চির চেনা চিত্র- পুতুল নাচের আড়ালে বিকৃত, রুচিহীন, অশীলনতা; জুয়ার আসর ও মাদকের আখড়া রুখতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বহু বছর ধরে বৈশাখের শেষদিনে আজ মঙ্গলবার তেরখাদার ছাগলাদহ বাজারে বুড়োমায়ের গাছতলায় সনাত্মন ধর্মাবলম্বীদের একদিনের মেলা বসে। জনাকীর্ণ মেলায় হিন্দু-মুসলিমের ভীড়ে মিলনমেলায় পরিণত হয় তেরখাদাবাসীর। শুধু তেরখাদা বা খুলনা নয়; পাশ্ববর্তী জেলা ও দূর-দুরন্ত থেকে আসেন বুড়োমায়ের ভক্তরা।

বুড়োমায়ের গাছতলায় এসে সিঁদুর মাখানো, মিষ্টি-ফিন্নি ও বিভিন্ন প্রসাদ বিতরণে মেতে উঠেন পূজারীরা। পরে পাশের চিত্রা নদীতে পুর্ণ্য ¯œানে মনবাসনা পূরণে মান্নত করে তারা। মেলাস্থলের বিশাল বাজারে বিকিকিনি হয় গ্রাম্য বাংলার সব ঐতিহ্যবাহী পন্য সামগ্রী। যেমন- কুলা, ঝুড়ি বপুল সংখ্যক মানুষের ভীড়ে এক শ্রেণির স্বার্থন্বেষী মহল মেতে উঠেন অবৈধ পথে অর্থ আয়ের কৌশলে। সন্ধ্যায় টিকিটের বিনিময় আয়োজন করে পুতুল নাচ; যার আড়ালে রাত ভর চলে অশালীন নৃত্য ও যুবতীদের দেহ প্রদর্শন। পাশাপাশি আয়োজনের কমতি থাকে না মাদক ও জুয়ার বোর্ডের। প্রতিবার থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলে এসব অনৈতিকতা। কিন্তু ওইসব অশালীনতা বন্ধে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছে প্রশাসন।

মেলার আদি কথা ঃ এলাকায় কথিত আছে ছাগলাদহ ইউনিয়নে মইজো সাপুড়ে নামের একজন খ্যাতমানা সাপুড়ে ছিল। তিনি একদিন মন স্থির করলেন ছাগলাদহ বাজারের বটগাছ তলা ও পাশ্ববর্তী বেত বাগানে বীণ বাজিয়ে সাপ ধরবেন। যে কথা সেই কাজ। সাপ্তাহিক হাটবারের দিন মইজো সাপুড়ে বাজাতে শুরু করলেন বীণ। কিচ্ছুক্ষনের মধ্যেই বটগাছের শাখা-প্রশাখা ও গাছের গোড়া এবং পাশ্ববর্তী বেত বাগান থেকে ডজন ডজন সাপ বেরিয়ে আসতে শুরু করে। কত সাপ চাই তার। বিশটি হাড়ি ভরে ফেললো মইজো সাপুড়ে; তবুও কমছে না সাপ বের হওয়া। কিছুটা ভড়কে গেলেন সাপুড়ে। সেই মুহুর্তে বিশাল আকৃতির এক অজগর সাপ তেড়ে বের হল মইজো সাপুড়ের সামনে। প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলে সাপুড়ে। বীন ফেলে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন বিশাল আকৃতির অজগরের কাছে। আর জীবনে এমন কাজ করবে না, বলেও প্রতিজ্ঞা করে মইজো সাপুড়ে। হাটের বিপুল সংখ্যক মানুষ এসব ঘটনা দাড়িয়ে দেখেছেন বলে প্রচলিত আছে। কিছুক্ষণ পরে ফিরে গেল অজগর। সাপুড়েও ছেড়ে দিল সব সাপ। এঘটনার পরদিন মরে যায় মইজো সাপুড়ে। সেই থেকে প্রতি বৈশাখের শেষ শনি অথবা মঙ্গলবার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পুজা করে গাছটিতে। আর নামকরণ হয়ে উঠে বুড়োমায়ের গাছতলা।

ঐ দিন গাছতলায় হাজার হাজার হিন্দু ও মুসলমান নর নারীর আগমেন এক মিলন মেলায় পরিনত হয়। অনেক ভক্তবৃন্দ কঠিন রোগ মুক্তির কামনায় গাছতলায় রাত দিন শুয়ে শুয়ে বুড়ো মায়ের প্রার্থনা করে। কিন্তু সেটা এখন আর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; মুসলমানরাই এখন সবকিছুরই নিয়ন্ত্রক। পুতুল নাচ, জুয়া ও মাদক সবকিছুই পরিচালনা করেন তারা। এ প্রসঙ্গে খুলনার এসপি সার্কেল মোাঃ বদিউজ্জামান বলেন, কোন প্রকার জুয়া, মাদক ও পুতুল নাচ চলবে না। শান্তিপূর্ণভাবে পুজা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ লিটন আলী বলেন, বুড়ো মায়ের গাছতলা মহৌৎসবে কোন প্রকার অসামাজিক কার্যকলাপ চলবে না। শান্তিপূর্ণ ভাবে মহৌৎসব অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সালেকুজ্জামান বলেন, কোনভাবে মেলায় অশীলতা বরদস্ত করা হবে না।

সেই ভাবেই আয়োজকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারপরও শান্তি-শৃঙ্খলার স্বার্থে মেলাস্থলে সার্বক্ষনিক পুলিশ মোতায়েন থাকবে। উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অরবিন্দ প্রসাদ সাহা ও সাধারন সম্পাদক শংকর কুমার বালা বলেন, ৫২ তম বুড়ো মায়ের গাছতলায় বার্ষিক অনুষ্ঠানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতির মানুষের এক মিলন মেলা বসে। এই মিলন মেলায় সকলের মনবাসনা পূর্ণ হোক, এবং সকল হানাহানি বন্ধ করে অনুষ্ঠান সু-সম্পন্ন হক এই কামনা করি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: