শিরোনাম
◈ ক্ষমতার পতন ও অপেক্ষার মিষ্টি ফল-মহসীন ভূঁইয়া ◈ নাঙ্গলকোটে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাকে খাল বানিয়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার! ◈ নাঙ্গলকোটের তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের টিম ◈ নাঙ্গলকোটে শত বছরের পানি চলাচলের ড্রেন বন্ধ ,বাড়িঘর ভেঙ্গে ২’শ গাছ নষ্টের আশংকা ◈ পদ্মা সেতুর রেল সংযোগে খরচ বাড়লো ৪ হাজার কোটি টাকা ◈ অরুণাচল সীমান্তে বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান! চীন-ভারত সংঘাতের আশঙ্কা ◈ কুমিল্লার বিশ্বরোডে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইউলুপ- লোটাস কামাল ◈ দুই মামলায়খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি আজ ◈ মাদকবিরোধী অভিযানএক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১ ◈ নাঙ্গলকোটে চলবে ৩ দিন ব্যাপী মাটি পরীক্ষা

আজকের সম্পাদকীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী মিলন

১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:২৫:৪৫

বাংলাদেশে প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ভর্তির হার প্রায় শতভাগে পৌঁছাইয়াছে। অথচ এখনো অবকাঠামো ঘাটতি প্রবল। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সর্বশেষ বার্ষিক অগ্রগতি প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ প্রাইমারি এডুকেশন: অ্যানুয়াল সেক্টর পারফরম্যান্স রিপোর্ট ২০১৭’ বলিতেছে, একটিমাত্র শ্রেণিকক্ষ দিয়াই চলিতেছে দেশের ৬ হাজার ৫৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আর মাত্র দুইটি শ্রেণিকক্ষ আছে ২ হাজার ৮০৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে বিদ্যালয় ভবনে ধস, পরিত্যক্ত কিংবা বিলীন হইয়া যাওয়ায় কিছু বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রহিয়াছে। বিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হইলেও তাহা মেরামতে দীর্ঘ সময় চলিয়া যায়। অনেক সময় পুরা বিদ্যালয় ভবনই নদীগর্ভে বিলীন হইলে পার্শ্ববর্তী স্থানে টিনের চালা ও বেড়া দিয়া অস্থায়ীভাবে পাঠদান চলে বত্সরের পর বত্সর। এইরূপ খোলা মাঠে পাঠদানের চিত্রও নিয়মিতই পত্রিকায় উঠিয়া আসে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৩ সহস্রাধিক। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে একটি শ্রেণিকক্ষ রাখিবার নীতি অনুসরণ করিতে বলা হইয়াছে। অথচ, প্রাথমিক বিদ্যালয়শুমারি ২০১৬ অনুযায়ী, এই নীতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হইয়াছে মাত্র ৩৪ দশমিক ৪ শতাংশ বিদ্যালয়ে। সেই হিসাবে দেশের ৬৫ শতাংশের বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট রহিয়াছে। ভবন সংকট ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষায় ঘাটতি আছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আসবাবপত্রেরও। পানি ও স্যানিটেশনেরও অপ্রতুলতা রহিয়াছে। এই সকল সংকট নিয়াই চলিতেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি। যদিও, ইউনেস্কোর নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষাখাতে জিডিপির কমপক্ষে ৪ শতাংশ ব্যয় করিতে বলা হইয়াছে। আমরা তাহা পারিতেছি না। শিক্ষায় মোট সরকারি ব্যয়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে সবচাইতে পিছাইয়া আছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সনের তথ্যের ভিত্তিতে ব্যানবেইসের প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, শিক্ষাখাতে বাংলাদেশের মোট ব্যয় দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) মাত্র ২ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর এই শিক্ষাব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই ব্যয় হয় বেতন-ভাতা বাবদ। ব্যানবেইসের তথ্যমতে, প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যয়িত অর্থের ৪ শতাংশও ব্যয়িত হয় না অবকাঠামো উন্নয়নে। অথচ অবকাঠামো সংকট মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম প্রধান অন্তরায়। শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরিয়া রাখিবার ক্ষেত্রে পাঠদানের পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশ স্বস্তিকর ও আকর্ষণীয় না হইলে শিশুরা বিদ্যালয়বিমুখ হইবে, ইহাই স্বাভাবিক। বর্তমান সরকার প্রতি বত্সর সফলভাবে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলিয়া দিতেছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিসরেও প্রশংসিত হইয়াছে। তবুও কেন আমাদের শুনিতে হয় তৃণমূল পর্যায়ে অসংখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ দশার কথা? উপজেলায় বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা আছেন, আছেন নির্বাহী কর্মকর্তাসহ শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাও। তাহারা তাহাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিলে বিদ্যালয়সমূহের এই দীনদশা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাইত না।

পরিসংখ্যান বলিতেছে, প্রাথমিক শিক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এডুকেশন-৯ (ই-৯) ফোরামভুক্ত দেশগুলির মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে রহিয়াছে বাংলাদেশ। অর্থাত্, এইক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, চীন, এমনকি ব্রাজিলের মতো দেশকেও পিছনে ফেলিয়া আসিয়াছে। এই উদ্দীপনা ও শিক্ষার গুণগত মান ধরিয়া রাখিতে হইলে আমরা মনে করি, মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিতকরণে সর্বাগ্রে অবকাঠামো সংকট দূর করিতে হইবে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: