আজ কাজী নজরুল ইসলামের ১১৫ তম জন্মদিন | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

আজ কাজী নজরুল ইসলামের ১১৫ তম জন্মদিন

25 May 2014, 8:39:17

kazi nuzrul islam

আমাদের নাঙ্গলকোট ডেস্ক:আজ বিদ্রহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১১৩ তম জন্মদিন। আজকের দিনেই ১৮৯৯ সালে ভারতের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন। প্রচন্ড দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে নজরুলকে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেতে হয়। তিনি তাঁর প্রথম জীবনে চায়ের দোকানে কাজ করা থেকে শুরু করে, মসজিদের মৌলবীর কাজও করেছেন।তিনি মাত্র ১৮ বছর বয়েসে ১৯১৭ সালে ব্রিটিস আর্মি তে যোগদান করেন এবং তাঁকে করাচিতে পোষ্টিং করা হয়। সেখানেই তিনি তাঁর প্রথম গল্প "বাউনডুলের আত্মকাহিনী" লেখেন যা ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়।তিনী আর্মির চাকরী ছেড়ে দিয়ে ১৯২০ সালে কোলকাতায় স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেন এবং লেখালেখিতে মন দেন।তাঁর রচিত কবিতার গ্রন্থের মধ্যে "অগ্নিবীণা","সঞ্চিতা","ফনিমনসা" প্রভৃতি উল্লেখ যোগ্য।এছাড়াও তিনী প্রচুর উপনাস, ছোটগল্প, কবিতা, গান, নাটক ইত্যাদি লিখেছিলেন। আর্মি তে থাকাকালীনই তিনী সঙ্গীত চর্চা শুরু করেন। তাঁর রচিত সঙ্গীত "নজরুল গীতি" হিসেবে পরিচিত।তিনী "ভজন", "কীর্তন"থেকে শুরু করে করে "শ্যামা সঙ্গীত "ও লিখেছেন। তাঁর রচিত "শ্যামা সঙ্গীত " আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে। তিনিই প্রথম বাংলায় "গজল"লেখেন এবং সুর দেন। তিনি ১৯২৪ সালে প্রমিলা দেবীকে বিবাহ করেন। কিন্ত ১৯৩৯ সালে যখন প্রমিলা দেবী paralyse এ আক্রন্ত হন তারপর থেকে ধীরে নজরুলও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ১৯৬২ সালে তাঁর স্ত্রী প্রমিলা দেবী মারা গেলে তিনি গভীর দুঃখ পান এবং ধীরে ধীরে তিনি Pick's রোগে আক্রন্ত হন। ১৯৭২ সালে নবগঠিত বাংলাদেশ সরকার তার দেখভালের দায়িত্ব নেয় এবং তাকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়।তিনি ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে ৭৭ বছর বয়েসে ঢাকায় মারাযান এবং তাঁকে "ঢাকা ইউনিভার্সিটি" র পাসেই সমাধিস্থ করা হয়।

‘‘মহাবিদ্রোহী রণক্লান্ত
আমি সেইদিন হব শান্ত,
যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল
আকাশে বাতাসে ধ্বনিবেনা,
অত্যাচারীর খড়গ কৃপাণ
ভীম রণ-ভূমে রণিবে না’’
মহাগর্জনে এমন বিদ্রোহী সুর উচ্চারণের হিম্মত আর কয়জনের আছে?

শির উঁচু করে আর কয়জন বলেছে?
“বল বীর- বল উন্নত মম শির!
শির নেহারী' আমারি নতশির
ওই শিখর হিমাদ্রীর!”

আর কার আছে এমন বুকের পাঠা যে অত্যাচারী ফ্যাসিস্ট শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে উচ্চারণ করে?
‘কারার ঐ লৌহ-কপাট
ভেঙ্গে ফেল্ কর রে লোপাট রক্ত-জমাট..
…………………..
লাথি মার, ভাঙরে তালা! যত সব বন্দী-শালায়-
আগুন জ্বালা, আগুন জ্বালা, ফেল্ উপাড়ি ॥’

হ্যা, যার কন্ঠে বেজেছে এমন শ্বাশত বিদ্রোহের সুর তিনি আমাদের জাতীয় কবি, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ কবিদের অন্যতম। না শুধু কবি হিসেবেই সীমাবদ্ধ নয় এ অসাধারণ প্রতিভার পরিচয়। প্রেম, দ্রোহ ও মানবতামুক্তির মন্ত্র আওড়ে গেছেন কবিতা, গানে, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও চিঠিতে। শুধু সাহিত্যেও সীমাবদ্ধ নয় এ ক্ষণজন্মা প্রতিভাবান এর অবদান। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক, রাজনীতিবিদ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক ও দার্শনিক। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে নির্যাতিত নিপীড়িত হয়েছেন কারার অন্ধপ্রকোষ্ঠে।

অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টিতে অমর হয়ে আছেন এ বিদ্রোহী নজরুল।
শিশুদের জন্যও তিনি লিখেছেন প্রচুর।

"আমি হব সকাল বেলার পাখি
সবার আগে কুসুম বাগে উঠব আমি ডাকি।
সুয্যি মামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে,
‘হয়নি সকাল, ঘুমোও এখন', মা বলবেন রেগে……” এখনও শিশুদের মুখে মুখে।

কিংবা
“কাঠবেড়ালি! কাঠবেড়ালি! পেয়ারা তুমি খাও?
গুড়-মুড়ি খাও? দুধ-ভাত খাও? বাতাবি নেবু? লাউ?
বেড়াল-বাচ্চা? কুকুর-ছানা? তাও?– – “

অসংখ্য মনোমুগ্ধকর সুরে বাংলাগান ও গজলকে তিনি করেছেন সমৃদ্ধ। যেখান কবির উঁচুমাত্রার দার্শনিক সত্ত্বার প্রকাশও ঘটেছে চরমভাবে।

“আমার গানের মালা
আমি করব কারে দান
মালার ফুলে জড়িয়ে আছে
করুণ অভিমান

মালা করব কারে দান
চোখে মলিন কাজল রেখা
কন্ঠে কাঁদে কুহু কেকা
কপোলে যার অশ্রু রেখা
একা যাহার প্রান

শাঁখায় ছিল কাঁটার বেদন
মালায় শুচির জ্বালা
কন্ঠে দিতে সাহস না পাই
অভিশাপের মালা

বিরহে যার প্রেম- আরতি
আঁধার লোকের অরুন্ধতি
নাম না জানা সেই তপোতী
তার তরে এই গান
মালা করব তারে দান ।।”

“হারানো হিয়ার নিকুঞ্জ পথে
কুড়ায়ে ঝরা ফুল একেলা আমি
তুমি কেন হায় আসিলে হেথায়
সুখের স্বরগ হইতে নামি ।

চারিদিকে মোর উড়িছে কেবল
শুকানো পাতা মলীণ ফুলদ্বয়
বৃথাই সেথা হায় তব আঁখিজল
ছিটাও অবিরল দিবসযামী ।

এলে অবেলায় পথিক বেভুল
বিদিছে কাটা নাহি পাবে ফুল
কি দিয়ে বরণ করি ও চরণ
নিভিছে জীবন জীবনস্বামী ।”

“নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল
ফুল নেব না অশ্রু নেব ভেবে হই আকুল।।
ফুল যদি নিই তোমার হাতে
জল রবে গো নয়ন পাতে
অশ্রু নিলে ফুটবে না আর প্রেমের মুকুল।।

মালা যখন গাঁথ তখন পাওয়ার সাধ যে জাগে
মোর বিরহে কাঁদ যখন আরও ভালো লাগে।
পেয়ে তোমায় যদি হারাই
দূরে দূরে থাকি গো তাই
ফুল ফোটায়ে যায় গো চলে চঞ্চল বুলবুল।।”

‘মোর প্রিয়া হবে এসো রাণী
দেব খোঁপায় তারার ফুল…….’

‘আমায় নহেগো ভালবাস শুধু ভালবাস মোর গান…….’

‘শাওনো রাতে যদি স্মরনে আসে মোরে
বাহিরে ঝড় বহে নয়নে বারি ঝরে……’

নজরুল এর কিছু অসাধারণ সাহিত্যকর্ম

কবিতা:
অগ্নিবীণা (১৯২২) • সঞ্চিতা (১৯২৫) • ফনীমনসা (১৯২৭) • চক্রবাক (১৯২৯) • সাতভাই চম্পা (১৯৩৩) • নির্ঝর (১৯৩৯) • নতুন চাঁদ (১৯৩৯) • মরুভাস্কর (১৯৫১) • সঞ্চয়ন (১৯৫৫) • নজরুল ইসলাম: ইসলামী কবিতা (১৯৮২)

কবিতা ও সংগীত:
দোলন-চাঁপা (১৯২৩) • বিষের বাঁশি (১৯২৪) • ভাঙ্গার গান (১৯২৪) • ছায়ানট (১৯২৫) • চিত্তনামা (১৯২৫) • সাম্যবাদী (১৯২৬) • পুবের হাওয়া (১৯২৬) • সর্বহারা (১৯২৬) • সিন্ধু হিন্দোল (১৯২৭) • জিঞ্জীর (১৯২৮) • প্রলয় শিখা (১৯৩০) • শেষ সওগাত (১৯৫৮) •

সংগীত:
বুলবুল (১৯২৮) • সন্ধ্যা (১৯২৯) • চোখের চাতক (১৯২৯) • নজরুল গীতিকা (১৯৩০) • নজরুল স্বরলিপি (১৯৩১) • চন্দ্রবিন্দু (১৯৩১) • সুরসাকী (১৯৩২) • বনগীতি (১৯৩১) • জুলফিকার (১৯৩১) • গুল বাগিচা (১৯৩৩) • গীতি শতদল (১৯৩৪) • সুর মুকুর (১৯৩৪) • গানের মালা (১৯৩৪) • স্বরলিপি (১৯৪৯) • বুলবুল দ্বিতীয় ভাগ (১৯৫২) • রাঙ্গা জবা (১৯৬৬) •

ছোট গল্প:
ব্যাথার দান (১৯২২) • রিক্তের বেদন (১৯২৫) • শিউলি মালা (১৯৩১) •

উপন্যাস:
বাঁধন হারা (১৯২৭) • মৃত্যুক্ষুধা (১৯৩০) • কুহেলিকা (১৯৩১) •

নাটক:
ঝিলিমিলি (১৯৩০) • আলেয়া (১৯৩১) • পুতুলের বিয়ে (১৯৩৩) • মধুমালা (১৯৬০) • ঝড় (১৯৬০) • পিলে পটকা পুতুলের বিয়ে (১৯৬৪) •

প্রবন্ধ এবং নিবন্ধ:
যুগবানী (১৯২৬) • ঝিঙ্গে ফুল (১৯২৬) • দুর্দিনের যাত্রী (১৯২৬) • রুদ্র মঙ্গল (১৯২৭) • ধুমকেতু (১৯৬১) •

অনুবাদ এবং বিবিধ:
রাজবন্দীর জবানবন্দী (১৯২৩) • দিওয়ানে হাফিজ (১৯৩০) • কাব্যে আমপারা (১৯৩৩) • মক্তব সাহিত্য (১৯৩৫) • রুবাইয়াতে ওমর খৈয়াম (১৯৫৮) • নজরুল রচনাবলী ১-৪ খন্ড (১৯৯৩) •

শহীদি ঈদ –
কাজী নজরুল ইসলাম

………………………………
চাহি না ক গাভী দুম্বা উট,
কতটুকু দান? ও দান ঝুট।
চাই কোরবানি, চাই না দান।

রাখিতে ইজ্জত ইসলামের
শির চাই তোর, তোর ছেলের,
দেবে কি? কে আছ মুসলমান?

ওরে ফাঁকিবাজ, ফেরেব-বাজ,
আপনারে আর দিস্নে লাজ,-
গরু ঘুষ দিয়ে চাস্ সওয়াব?

যদিই রে তুই গরুর সাথ
পার হয়ে যাস পুলসেরাত,
কি দিবি মোহাম্মদে জওয়াব!

গরুরে করিলে সেরাত পার,
সন্তানে দিলে নরক নার
মায়া দোষে ছেয়ে গেল দোজখ।

কোরবানী দিলি গরু ছাগল
তাদেরই জীবন হ'ল সফল
পেয়েছে তারা বেহেশতলোক।

শুধু আপনারে বাঁচায় যে,
মুসলিম নহে, ভন্ড সে!
ইসলাম বলে – বাঁচ সবাই!
দাও কোরবানি জান্ ও মাল,

বেহেশ্ত তোমার কর হালাল।
স্বার্থপরের বেহেশ্ত নাই।
খেয়ে খেয়ে গোশ্ত রুটি তো খুব
হয়েছ খোদার খাসি বেকুব,
নিজেদের দাও কোরবানি।”

তিনি লিখেছেন,

'' ধর্মের পথে শহীদ যাহারা ,
আমরা সেই সে জাতি ।
সাম্য মৈত্রী এনেছি আমরা ,
বিশ্বে করেছি জ্ঞাতি ,
আমরা সেই সে জাতি ।”

'' বাজিছে দামামা , বাঁধরে আমামা
শির উঁচু করি মুসলমান ।
দাওয়াত এসেছে নয়া জামানার
ভাঙ্গা কিল্লায় ওড়ে নিশান ।''

এমন অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টিতে অমর হয়ে আছেন অগ্নি বীনার স্রষ্টা আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। আজ এ দিনে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। হে আল্লাহ কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ক্ষমা করে তাঁকে বেহেশতে স্থান দিও।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: