আত্মিক শুদ্ধতায় রমজান | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা

আত্মিক শুদ্ধতায় রমজান

13 June 2017, 10:23:23

বর্ষপরিক্রমায় রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের দরজায় কাড়া নাড়ছে মাহে রমজান বা সিয়াম সাধনার মাস।
রমজান (রামাদান)আরবি শব্দ। রামদুন শব্দমূল থেকে এসেছে। এর বাংলা আভিধানিক অর্থ হচ্ছে জ্বালিয়ে দেয়া,পুড়িয়ে দেয়া,দগ্ধ করা,ভস্ম করা। ইংরেজিতে Burnt, Scorch, Parch, Roast, Afflict, distress, Char.
এখন প্রশ্ন থাকতে পারে রমজান শব্দের অর্থ জ্বালিয়ে দেয়া হয়। রমজান কি জ্বালিয়ে দেয়?
মানুষের দুটি সত্ত্বা আছে।

এক.পাশবিক সত্ত্বা (কু-রিপু)
দুই. মানবিক সত্ত্বা (সু -রিপু)
রমজান মাসে রোযাব্রত পালন করার কারণে মানুষের পাশবিক সত্ত্বাকে দমিয়ে দেয়া হয়।
রমজানের আরেক অর্থ হলোঃ
বসন্তকালের বৃষ্টি।
প্রচন্ড শীতের আদ্রতায় যখন গাছের পাতা শুকিয়ে যায়, এরপর যখন ঋতুরাজ বসন্তের আগমন ঘটে এবং বৃষ্টি হয় তখন পত্র পল্লবে সুশোভিত হয়। তেমনিভাবে রমজানে সিয়াম সাধনা কারণে মানবিকতার উৎকর্ষ সাধিত হয়।

*রোযা কি?
রোযা একটি ফার্সি শব্দ।আরবীতে সিয়াম।
ইংরেজীতে Fast,Fasting, starving শাব্দিক অর্থ বিরত থাকা।
ইসলামি শরিয়তে সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কিছু পানাহার, পাপাচার ও কামাচার থেকে বিরত থাকার নামই সিয়াম বা রোজা।

আল্লাহতালা মানবজাতির দুনিয়ার জীবনযাত্রার শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত যতগুলি শরীয়ত বা জীবন বিধান নাযিল করেছেন এই সিয়াম সাধনা তার প্রত্যেকটিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এখনও আছে। এই সিয়াম সাধনাকে সকল যুগের মানুষের জন্য ফরজ ছিল।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ কোরআনে বলেন: হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরয করা হয়েছে যেমনি ফরয করা হয়েছিল তোমাদের তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর।যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো। (সুরা বাকারা আয়াত ১৮৩)

রোযার গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে রাসুর সা: বলেন :ইসলামের ভিত্তি হচ্ছে পাঁচটি বিষয়ের উপর আর বিষয় গুলি হচ্ছে কালেমা, নামাজ , রোযা , হজ্জ ও যাকাত।রাসুল সা: আরো বলেন : রোযা মানুষের জন্য ঢাল স্বরূপ। যুদ্ধের ময়দানে ঢাল যেমন প্রতিপক্ষের আঘাত কে প্রতিহত করে। রোযাওঠিক তেমনি আমাদের বাস্তব জীবনে শয়তানের কুমন্ত্রনা থেকে ফিরিয়ে রাখে।

*রোযার বিধানের উদ্দেশ্য কী?

কোরআন ও হাদিসের ভাষ্যমতে আমরা জেনেছি সিয়াম সাধনা আমাদের জীবন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিধান।এখন আমরা জানবো এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানের উদ্দেশ্য কী। রোযার বিধান ফরজ করার উদ্দেশ্য বলতে গিয়ে আল্লাহ সুরা বাকারার১৮৩ নং আয়াতের শেষে বলেন লা’আল্লাকুম তাত্তাকুন যার অর্থ আল্লাহভীতি বা তাকওয়া অর্জন করতে পারা।
এখন আসুন আমরা জানবো তাকওয়া শব্দের অর্থ কি?
‘তাকওয়া’শব্দটি আরবি এর শাব্দিক অর্থ হলো:
*বেচে চলা।
*ভয় করা।
ইংরেজীতে Avoid, fear of God.
হযরত উমর (রাঃ) একজন সাহাবীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন তাক্ওয়া কি?
উক্ত সাহাবী বললেন, হে উমর তুমি কি কন্টাকাকীর্ন পথ অতিক্রম কর নাই?
উত্তরে উমর বলল হ্যাঁ, চলেছি
ঐ সাহাবী বলল কিভাবে চলেছ? উমর (রাঃ) বলল খুব সতর্কতার সাথে পথ চলেছি,যেন কোন কাঁটা আমার পায়ে বা জামায় না বিঁধে। সাহাবী বললেন হে উমর এটাই হচ্ছে তাক্ওয়া।

আমাদের সমাজে অন্যায় অশ্লীলতাগুলো থেকে বেচেঁ চলার নামই তাক্ওয়া। আরও একটা উদাহরণের মাধ্যমে পরিষ্কার করা যাক। আমরা সবাই বাইন মাছ সম্পর্কে জানি, এ মাছটি কাদার মধ্যে থাকে যখন আমরা এটাকে ধরি তখন এর গায়ে কাদা থাকে না, মাছটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকে। কাদার মধ্যে থেকে স্বচ্ছ থাকা। অর্থাৎ সমাজে পাপ পঙ্কিলতা, অন্যায়, অশ্লীলতা,অপসংস্কৃতি সবই আছে এগুলো থেকে স্বচ্ছ থাকার নামই তাক্ওয়া।
রমজান হচ্ছে তাক্ওয়ার মাস।
রমজানের রোযাব্রত পালন করে
আত্মিক পরিশুদ্ধতা অর্জন করতে সচেষ্ট হই।

যৌক্তিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা যদি একটু চিন্তা করি তবেই বুঝতে পারবো সিয়াম সাধনা কালে আমাদের মাঝে কোন প্রকার কুপ্রবৃত্তি বাসা বাধতে পারে না। এ মাসে আমরা সকল প্রকার পাপাচার, মিথ্যচারিতা, বেহায়াপনা, সুদ, ঘুষ, ও যৌন আকর্ষন ইত্যাদি থেকে বিরত থাকে একমাত্র আল্লাহভীতির কারনেই।এই রমজানে যদি আমরা তাকওয়া অর্জন করতে না পারি, বেয়াপনা, বেপর্দা,অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকতে না পারি তাহলে দিনভর না খেয়ে থেকে পিপাসার কষ্ট নিয়ে থাকার কোন লাভ নেই। এ সম্পর্কে রাসুল সা: বলেন: যে ব্যক্তি রোযা রাখা সত্ত্বেও মিথ্যা কথা নিষিদ্ধ কাজ ত্যগ করতে পারলো না, অযথা তার পানাহার বর্জন করে উপবাস থাকার আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (বুখারী )

রোযার ফজিলত।রোযার ফজিলত আমরা নিন্মের কয়েকটি হদিস থেকে আমরা জেনে নেই।
১. হযরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন,রাসুল সা. বলেছেন : যে লোক রমযান মাসে রোযা রাখবে ঈমান ও চেতনা সহকারে তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।(বুখারী ও মুসলিম)

২. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা: হতে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি রাসুলুল্লাহ সা: কে বলতে শুনেছি, যে লোক একটি দিন রোযা রাখবে, আল্লাহ তার মুখমন্ডল জাহান্নাম হতে সত্তর বছর দূরে সরিয়ে রাখবেন। (বুখারী ও মুসলিম)
৩. হযরত সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত নবী কারীম সা. বলেন, জান্নাতে রাইয়ান নামক একটি বিশেষ দরজা রয়েছে। সে দরজা দিয়ে শুধুই রোযাদাররাই প্রবেশ করবে।
৪. হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন : তোমাদের নিকট রমযান মাস সমুপস্থিত । তা এক অত্যান্ত রবকতময় মাস । আল্লাহ এ মাসে তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজসুমূহ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় শয়তানগুলো আকট করে রাখা হয়। এ মাসে একটি রাত আছে যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। যে লোক এ মাসে তার মহা মহাকল্যাণ লাভ হত বঞ্চিত থাকল, সে সত্যিই হতভাগা। (নাসাঈ ও বায়হাকী)
তাকওয়া অর্জন, আল্লাহ কাছে নিজেকে তাঁর প্রিয় এক বান্দা হিসেবে উপস্থাপন, নিজের গুনাহসমূহ মাফ করানো,বেশী বেশী ইবাদাত করা, নফল নামাজ আদায় করা, আল্লাহর রাস্তায় দান খয়রাত ইত্যাদি কাজ করে আল্লহার নৈকট্য হাসিল করার তাওফিক দান করুক। আমিন।
মু.আফজাল হোসাইন মিয়াজী
বিএ (অনার্স) এমএ ইসলামীক স্টাডিজ।
১৩-০৬-২০১৬ ইং

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: