আদর্শ জীবন যাপন | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা ◈ কুমিল্লায় বিপুল ইয়াবাসহ দম্পতি আটক!
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

আদর্শ জীবন যাপন

14 July 2014, 2:56:08

 স্কো. লি. আহসান উল্লাহ (অব.)

 

আপনার সবচেয়ে ভাল দিনটি কি? আপনি কি সত্যিই জানেনÑ আগামী ছয়দিন, ছয় সপ্তাহ, ছয় মাস বা ছয় বছর কিভাবে কাটাবেন? আপনার অতীত জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনটির কথা মনে পড়ে কি? ভবিষ্যতে কখন আপনার সবচেয়ে ভাল লাগবে, জানেন কি? ভেবে-চিন্তে উত্তর দিন। কি পারলেন না তো? জানি পারবেন না। কারণ কি জানেন ?

 

কারণ, আমাদের প্রত্যেকের জীবনের সবচেয়ে ভাল বা আনন্দের বা সুখের দিনটিই আজ, এখন। জীবনের জন্য অতীত কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। অতীতকে নিয়ে কখনো সুখী হওয়া যায় না। অতীত নিয়ে ভাবতে থাকা মানে বর্তমানের আনন্দ নষ্ট করা। আর ভবিষ্যততো এক প্রতিশ্রুতি মাত্র; কেবল বাকীই থাকে, কখনো আসে না। আমাদের হাতে নগদ থাকে কেবল বর্তমান বা আজ বা এখন। দার্শনিক কথাবার্তা মনে হচ্ছে? মোটেই না। আমি দর্শন চর্চা করছি না। বাস্তব সত্য হচ্ছে, আপনি যদি বর্তমানকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তবেই ভবিষ্যত আপনার কাজে লাগবে। যার বর্তমান ভাল তার ভবিষ্যতও ভাল অতীতও ভাল।

 

ধরুন, যদি আমরা আরও ত্রিশ বছর বেঁচে থাকি তবে ভবিষ্যতে ১০,৯৫৭টি বর্তমান বা আজ-এর অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাব। অনেক দিনতো সামনে পড়ে আছে, তাই, আজ নয় কাল করব বা দেখব, এটা ভেবে সময় নষ্ট করা খুবই সহজ। কিন্তু এই সহজ ভাবনার আড়ালে আমাদের যে একটি করে দিন হারিয়ে যাচ্ছে তা কি টের পাচ্ছি?  প্রতিটি নতুন দিন মানে আমাদের আয়ু ক্রমশ ক্ষয়ে যাচ্ছে এটা কি আমরা ভাবি?

আমরা যে কেউ যে কদিন বাঁচব, তার কত সময় পরিবার, বন্ধুজন, সহকর্মী এবং পাড়াপড়শীদের সঙ্গে সম্পর্ক বা সখ্যতা গড়তে ব্যয় করব? কতদিন নতুনকে জানার পেছনে নিয়োগ করব? কতদিন সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভের চেষ্টা করব? কতদিন মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ বোঝার জন্য ব্যয় করব? আর কতদিনই বা নিজেকে এবং নিজের নিয়তিকে বোঝার জন্য ব্যয় করব? আর এই ১০,৯৫৭ দিনের মধ্যে কতদিনই বা দুঃখ-কষ্ট, ক্ষোভ-বিরাগ, ভয়-ভীতি ও হতাশার মধ্যে থাকব?

 

পৃথিবীর সব ধর্মগ্রন্থে এবং দর্শন, বিজ্ঞান ও সাহিত্যে বারবার এক কথাই বলা হয়েছে বা হচ্ছে এবং প্রকৃতিজগতও একই সংকেত বহন করে আসছে। আর তা হচ্ছে, যার যার চিন্তা ও চেতনায়, ধারণা ও কল্পনায় সব সময় জ্ঞান-মনিষাকে ধারণ করুন। হৃদয় বা অন্তরাত্মাকে সব সময় জ্ঞান-মনীষায় ভরপুর রাখুন। বলা হয়, জ্ঞানই শক্তি, জ্ঞানই বল। বাস্তবে আপনি আমি তার কতটুকু আত্মস্থ করেছি? জ্ঞানশক্তি কি সত্যি আমাদের পরিচালিত করে? বিষয়টি নিয়ে কি আমরা ভেবেছি? কিংবা কোন সিদ্ধান্তে কি আসতে পেরেছি? যদি  পেরে থাকি, ভাল। যদি না পেরে থাকি, আজই, এখনই চেষ্টা করি না কেন?

 

প্রতিদিনই সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন

এখন বা আজ যা-ই করি না কেন, তা-ই আমাদের সিদ্ধান্ত। এই যে আমি ভাবছি এবং লিখছি, আমি নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এখন এছাড়া আর অন্যকিছু করব না। এখন কেবল চিন্তা করব আর লিখব। আর আপনিও  যে লেখাটি পড়ছেন, আপনিও সিদ্ধান্ত নিয়েই আপনার মূল্যবান সময় আমাকে দিচ্ছেন বা আমার সঙ্গে আছেন। কেউ কেউ ভবিষ্যত পরিকল্পনা করেন। মনে হয় যেন, ভবিষ্যত এমন একটা কিছু, যার কাছে সোজা পথ ধরে পৌঁছানো যায়। বাস্তবে কিন্তু তা নয়। প্রতিটি মূহুর্তই একেকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূহুর্ত। তবে কিছু কিছু মূহুর্তে যখন আমরা বড় বড় সিদ্ধান্ত নিই, তখন ধরেই নিই যে, তার আগে অনেকগুলো ছোট ছোট সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নিয়ে ফেলেছি।

কেউ পা পিছলে বা হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়ে ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠেন। কেউ তা দেখে মুখটিপে হাসেন। আবার  কেউ দেখেও না দেখার ভান করেন। আবার কেউ সমব্যাথী হয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসেন। এই ব্যাথা পাওয়া, হাসা, ভান করা, সাহায্য করা একেকটি কাজ এবং একেকটি সিদ্ধান্ত।

 

আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, কিছু লোক সব সময় দেরী করে কাজ শুরু করেন? এই লোকগুলোই যানজট, ড্রাইভারের খামখেয়ালীপনা, সরকারের ব্যর্থতা, প্রতিকূল আবহাওয়া ইত্যাদিকে দোষ দেন? এঁরাই আবার বিভিন্ন পরিবেশ-পরিস্থিতির দোষ-ক্রটি খুঁজে বেড়ান? এবং এঁরাই মনে করেন, তাঁদের দিনকাল খুব খারাপ যাচ্ছে! আসলে দেরি তাঁরা করবেনই। কারণ, এটা তাঁদের সিদ্ধান্ত। এবং এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করার জন্য বাকি সবই তাঁদের অযুহাত। এসব অভিযোগপ্রবণ নেতিবাচক লোকজনকে পরিহার করুন। তাঁরা নিজেরাই তাঁদের জীবনকে বিষিয়ে তুলছেন। এবং তাঁরা চান আপনিও তাই করুন। এদের পরিহার করতে হলে আপনি যেভাবে জীবন যাপন করেন বা করতে চান, তা নিজ দায়িত্বে করুন, অন্য কারো উপর ভরসা করবেন না। মনে রাখবেন, আপনিই আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মালিক, অন্য কেউ নয়। ভুল বুঝবেন না, আমি আল্লাহ, ঈশ্বর, ভগবান বা সৃষ্টিকর্তাকে বাইরে রাখার কথা বলছি না। তিনিতো সবসময়ই আমাদের সঙ্গে থাকেন। তিনিই আমাদের এই শক্তি দিয়েছেন। প্রতিদিনই বেঁচে থাকার দিন আজকের দিনটি সত্যিকার অর্থে আমাদের জন্য এক আর্শীবাদ বা উপহার। দিনটি আমরা কিভাবে যাপন করব, সেটা নির্ভর করে আমাদের নিজেদের ওপর। প্রতিটি দিনই নতুন এবং শুভ। এই শুভ দিনের বা উপহারের মোড়ক খুলে আপনি কি গ্রহণ করবেন, নাকি এক কোণে রেখে দিবেন, সে আপনার ইচ্ছে ? জগত সংসারে বহুলোক আছেন যাঁরা দেহ ধারণ করেন কিন্তু জীবন ধারণ করেন না। দেহধারীরা প্রতিদিনই ভোরে জাগেন কিন্তু কি করবেন জানেন না। তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করুনÑ স্কুলে বা কাজে যাবেন কেন, তাঁরা অবাক হয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকবেন,  কেন এ প্রশ্ন করা হয়?

 

জীবন ধারণ করতে হলে কাজ করতে হবে। কাজ করতে হলে তা খুঁজে পেতে হবে। আর একটি কাজ পেয়ে ধরে রাখতে হলে কর্তা যা বলেনÑ তাই আপনি করেন বা অনিচ্ছা সত্ত্বেও করতে হয়। আসলে কাজ কি তাই? একজন কর্মীকে প্রশ্ন করলাম, কেন আপনি কাজে যান?

তিনি উত্তর দিলেন, সবাই যায়, তাই আমিও যাই।

 

অর্থাৎ সবাই ঘুষ খায় তাই তিনিও খান। সব দোকানী দাম বাড়ায়, তাই তিনিও বাড়ান। সবাই অন্যায্য কাজ করে তাই তিনিও করেন। কারণ তিনি ড়ফফ সধহ ড়ঁঃ হতে চান না। এর মনস্তাত্বিক অর্থ হচ্ছে যে, তিনি নিতান্ত অনিচ্ছায় কাজের জন্য দিনের মূল্যবান কিছু অংশ ব্যয় করেন। অনুরূপ, যার সাথে থাকতে পছন্দ করেন না তার সঙ্গেই থাকতে হয়, যে স্থান পছন্দ নয় বা যেখানে যেতে ইচ্ছে করেনা সেখানেই যেতে হয়।

 

এই অবস্থায় চলতে চলতে একসময় ব্যক্তি নিজের কাছে নিজেই ভেঙ্গে পড়ে এবং অতঃপর অভিযোগ করে মানসিক অসুস্থতার। আজকের দিনটি তার জন্য হয়ে পড়ে ক্লান্তিকর, হতাশাজনক। তারপরের পদক্ষেপ মানসিক সুস্থতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। তার জন্য চিকিৎসকের বা মনোচিকিৎসকের বা কাউন্সেলরের বা ঝাড়-ফুঁক কবিরাজের বা ঋষি-বৈদ্যের বা গুরুজীর বা পীর ফকিরের শরণাপন্ন হয়। তা-ও একদিন মাত্র আধা ঘন্টা এক ঘন্টার জন্য। তাদের কাছে চাপ কমানোর কৌশল শিখে আসে এবং সাময়িক তৃপ্তি পায়। মনে মনে আশ্বস্ত হয়, এবার সুস্থ হয়ে যাবেই। কিন্তু পরদিন আবার একই গতানুগতিক না পছন্দের কাজ, না পছন্দের ব্যক্তির সাহচর্য এবং না পছন্দের স্থানে যাতায়াত। ফলে মনটা আবারও বিষিয়ে ওঠে। আবারও মানসিক চাপের সম্মুখীন হয়। তখন আর চাপ কমানোর কৌশল বা অন্যান্য বুজরুকিও কোন কাজ করে না। মনটা হয়Ñ বিকল, জীবনটা হয়Ñ দেউলে, তখন দেহের অস্তিত্বটাই শুধু থাকে। এরই নাম দেহ ধারণ করা।

 

আমাকে বাঁচতে হবে। জীবনটা কর্মে, আনন্দে উপভোগ করতে হবে। কেন বাঁচতে হবে এবং কিভাবে উপভোগ করতে হবে, যদি তা ভালভাবে জানা না থাকে তবে ব্যক্তির ধীরলয়ে আত্মহননের পথে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না। উদ্দেশ্যহীন জীবন কোন জীবন নয়। আর যারা উদ্দেশ্যমূলক আদর্শ জীবন যাপন করেন, জীবনটাকে উপভোগ করার কায়দা-কৌশল জানেন, বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্খা মনে মনে পোষণ করেন, মানসিক চাপ হয় তাদের জন্য আর্শীবাদ, জীবনের চালিকা শক্তি। এরই নাম জীবনধারণ।

 

প্রতিটিদিনই আদর্শজীবন-যাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের দিন। আমাদের একালে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজিডি হচ্ছেÑ  অধিকাংশ লোকের জীবনটা নিয়েই ভাববার অবকাশ নেই, আদর্শ জীবনতো দূরের কথা। সে যা-ই হোক, আপনি আপনার মনের গভীরে আদর্শ জীবন যাপনের বাসনা লালন করুন। কিভাবে প্রতিটি দিন যাপন করতে চান? কি কি জিনিস আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ? চিন্তা করুন, খুঁজে দেখুন। প্রথমে আপনাকে চাইতে হবে বা ইচ্ছা পোষণ করতে হবে, তারপর ইচ্ছাটা প্রকাশ করতে হবে, তবেই সে ইচ্ছা পূরণের সুযোগ ঘটবে। আপনি যদি প্রতিদিনই আদর্শ জীবন যাপনের জন্য দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করেন তবেই জীবন যাপনের সুযোগ পাবেন। অন্যথায় নয়। না চাইলে পাবেন কি করে।

 

ধরুন, আপনি চান, প্রতিদিন সাধারণ মানুষকে সুস্থ্য জীবন যাপন সম্পর্কে সচেতন করবেন। এ জন্য আপনার হাতে সময় থাকে মাত্র চব্বিশ ঘন্টা। এই সময়টায় আপনি কি করবেনঃ

১. দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে সরকার ঠিকমতো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি বলে সমালোচনা রত থাকবেন?

২. ভায়োলেন্স, সেক্স আর নেতিবাচক দুঃসংবাদে ভরা পত্রিকার পাতায় সারাদিন মগ্ন থাকবেন?

৩. মানুষের মূল্যবান সময় নষ্টকারী টিভিশো, সিডি, ডিভিডি ইত্যাদিই কেবল দেখতে থাকবেন?

৪. রাজনীতিকদের শঠতা, হিংস্রতা আর প্রতারণার সমালোচনা করে বা ক্ষোভ প্রকাশ করেই কাল কাটাবেন?

৫. আগামী মাসে কি কাজ করবেন, তার জন্য দিবাস্বপ্ন দেখতে থাকবেন?

৬. কোন কিছু না করেই অলস দিন কাটাবেন?

 

আদর্শ জীবন যাপনকারীরা হাতাশায় বিশ্বাস করেন না। নিজের উদ্দেশ্য যথার্থভাবে সাধনের জন্য, প্রতিটি ব্যক্তিকে প্রতিটি নতুন দিনেই সম্ভাব্য সবকিছু করতে হবে। তার জন্য বেশী সময় লাগে না, নিমেষেই সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। এখনই সিদ্ধান্ত নিন, কি করবেন? তারপর ভাবুন কাজটি আপনার উদ্দেশ্য সাধন করবে কী? লক্ষ্য স্থীর করুন, অতঃপর দেরী না করে শুরু করুন। প্রথমে খানিকটা জড়তা কাজ করবে। জড়তা কেটে  গেলেই দেখবেন সবকিছু সহজ ও সাবলীল হয়ে গেছে। আর তখনই স্পষ্ট দেখতে পাবেন আপনার সামনের  খোলা এবং পরিষ্কার দিগন্ত, খোলা মাঠের দিকে তাকালে যেমনটা দেখা যায়। এবার আপনি আত্মবিশ্বাস ও সাহস নিয়ে উদ্দেশ্য সাধনের পথে এগুতে থাকুন। এজন্য আপনার সৎবিশ্বাস, ধর্ম, দর্শন বা মতাদর্শও আপনাকে দিক-নিদের্শনা দিতে পারে। তবে বিজ্ঞান ও যুক্তিকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে।

 

আদর্শ নীতি-নৈতিকতার ভিত্তিতে চলতে গেলে কখনো কখনো প্রিয়জন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা অফিসের বসও অসন্তুষ্ট বা দুর্বোধ্য হতে পারেন। তাতে মুষড়ে পড়লে বা ভয় পেলে চলবে না। নিজেকে উপলব্ধি করতে হবে  যে অসন্তোষ বা বিরাগ প্রকাশ করা সমস্যার সমাধান নয়। আপনি শত চেষ্টা করেও বসের রাগ-বিরাগের দিনটি ভাল করতে পারবেন না। তার জন্য আপনার নিজের দিনটি নষ্ট করার কোন দরকার নেই।

 

কেউ কেউ আপনার বদনাম করতে পারে বা বিরূপ সমালোচনা করতে পারে। তাতে কান না দিয়ে নিজে সঠিক পথে আছেন কিনা যাচাই করুন। নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করুন। আপনার প্রতিদিনের জীবনে আপনার মত বা ঠিক উল্টো অনেককেই পাবেন। আপনি বরং লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করতে থাকুন। অন্যের বদনাম বা বিরূপ সমালোচনা যেন আপনার আজকের দিনটি নষ্ট না করতে পারে। গভীরভাবে দেখলে বুঝবেন, আপনার দিন নষ্ট করা তারও উদ্দেশ্য ছিল না।

 

আপনি দেরীতে ঘুমান এবং রাত জেগে টিভিশো দেখেন। তাতে কারো কিছু যায় আসে না। কিন্তু সত্য হচ্ছে এই যে, দেরী করে ঘুমানো কারো জন্যই কল্যাণকর নয়। আর কারো পছন্দের কাজটির চেয়ে টিভি দেখা বা রাত জাগা কোনক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। দ্বিতীয়তঃ দেরীতে ঘুমালে প্রচুর জীবনীশক্তির অপচয় হয়। কারণ, দেরীতে ঘুমালে দেরীতেই উঠা হয় ও দেরীতেই কাজ-কর্ম শুরু করতে হয়, যা কিছুতেই উৎপাদনশীল ও ফলপ্রসু হয় না। কাজেই জীবনের মহামূল্যবান সময় ও সুযোগ নষ্ট করবো কেন, যা এক নিমেষের জন্য হলেও, এই পৃথিবীতে আমাকে মূল্যায়ন করবে ও সম্মান দেবে। অতএব, আসুন আমরা যার যার নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে, আজই একটি আদর্শ জীবন যাপনের জন্য নিজে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: