আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের উপর ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের উপর ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে

6 June 2014, 6:08:39

"আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের উপর ১৫% ভ্যাট আরোপ করা হচ্ছে: উপকৃত হবে দেশীয় মোবাইল ফোন শিল্প"

২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে আমদানি করা বিদেশী মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেটের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশীয় মোবাইল ফোনসেট উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোকে সুরক্ষা দিতে এবং নিম্নমানের বিদেশি ফোনসেটের আমদানি নিরুৎসাহিত করতেই সরকারের এ উদ্যোগ।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, দেশীয় শিল্পের বিকাশে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

“দেশে কিছু কোম্পানি উন্নত মানের মোবাইল ফোন সংযোজন করছে। তাদের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ মূসক দিতে হচ্ছে। অথচ আমদানি পর্যায়ে মোবাইল ফোনে শুধু ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য আছে।”

“এর ফলে দেশীয় সংযোজন কোম্পানিগুলো অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে,” বলে মোবাইল ফোন সেটের আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর আরোপের প্রস্তাব করেন তিনি।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, এরই মধ্যে দেশীয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ফোন হ্যান্ডসেট উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহ দিতেই আমদানি পর্যায়ে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এপ্রিল শেষে দেশে সেলফোনের গ্রাহক সংখ্যা ১১ কোটি ৫৬ লাখ ছাড়িয়েছে। গ্রাহক বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে হ্যান্ডসেট আমদানিও।

২০০৯-১০ অর্থবছর ১ কোটি ২ লাখ, ২০১০-১১ অর্থবছর ১ কোটি ২৮ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছর ১ কোটি ৫০ লাখ ও ২০১২-১৩ অর্থবছর ১ কোটি ৯৮ লাখ হ্যান্ডসেট আমদানি হয়।

এছাড়া বাজেটে প্রতিটি সিম রিপ্লেসমেন্টের ওপর ১০০ টাকা করারোপ করা হচ্ছে।

টেলিকম বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে মোবাইল ফোনসেট উৎপাদনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিও সম্ভব। সেই সঙ্গে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান হবে বিপুলসংখ্যক মানুষের। বর্তমানে দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন মানসম্মত মোবাইল ফোনসেট তৈরি করছে। ওয়ালটনের মতো আরো প্রতিষ্ঠানকে এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে এই ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন।

ওয়ালটন অন্যান্য খাতের মত মোবাইল ফোন শিল্পেও বাংলাদেশের মানুষদের অন্যতম প্রধান পছন্দে পরিনত হচ্ছে। বিশেষ করে স্মার্টফোন বাজারে রীতিমত বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডদের ব্যবসাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে তারা। কম মুল্যে উচ্চমানের স্মার্টফোন মানেই এখন ওয়ালটন। মুলত প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণ প্রজন্মই ওয়ালটনের স্মার্টফোনের মুল ক্রেতা। তবে এবার ফ্ল্যাগশিপ ফোনের মত উচ্চমানের ফোন এনে এলিট ক্লাসের ক্রেতাদেরও টার্গেট করছে ওয়ালটন।

আরেক দেশীয় ব্রান্ড সিম্ফনির অবস্থানও বেশ শক্ত। বিশেষ করে কম বাজেটের বেসিক/ফিচার ফোনের মার্কেটে এক প্রকার রাজত্বই করছে সিম্ফনি। পাশাপাশি স্মার্টফোন বাজারে আশাব্যঞ্জক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

বাংলাদেশ টেলিকম রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল ফোনের গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ কোটি। অর্থাৎ দেশের ৭২ শতাংশেরও বেশি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর গ্রাহকসংখ্যা বেড়েছে ১১ শতাংশ।

বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় মোবাইল ফোনসেট আমদানির পরিমাণও বাড়ছে সমান হারে। অথচ বছরে বৈধ-অবৈধ পথে দেশে আসছে প্রায় ১ কোটি মোবাইল ফোনসেট। এর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা।

দেশেই মোবাইল ফোনসেট তৈরির শতভাগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগালে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ করা যাবে এবং রাজস্বও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: