বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আমাকে সমঝোতা করে চলতে হয়: সাক্কু

২০ মে, ২০১৬ ৯:২২:৪৩

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) প্রথম নির্বাচিত মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারিতে দেশে প্রথমবারের মতো ইভিএম ভোটিং পদ্ধতিতে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে নির্বাচিত হোন তিনি। নতুন এই সিটি কর্পোরেশনটিতে তিনি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর কেটে গেছে প্রায় চার বছর চার মাসের মতো। সিটি করপোরশেনটিতে আর কয়েকমাস পরেই আবারো শুরু হবে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনী আমেজ। এই চার বছরে সিটি করপরোশনের উন্নয়ন আর নিজ দলের অবস্থান নিয়ে ঢাকাস্থ বাসভবনে   কথা বলেছেন তিনি।

প্রশ্ন: মেয়র হওয়ার পর প্রথমে কাজ করতে কি কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন?

মনিরুল হক সাক্কু: আমিতো আগে পৌর মেয়র ছিলাম । তাই শহরের সমস্যা গুলো আমার মোটামুটি খুব চেনা ছিল। বর্তমানে পৌর মেয়র বা সিটি মেয়র হিসেবে আমি প্রায় সাত বছরের মতো আছি এই দায়িত্বে। সিটি মেয়র হিসেবেই আমি বেশী দিন থাকতে পেরেছি। তবে যে যাই বলুক কুমিল্লার সন্তান হিসেবে কুমিল্লাকে ভালোবাসি সেই জন্যই আমি কুমিল্লার সমস্যা গুলো আগে থেকেই জানি। কিন্তু সত্য কথা বলতে কি, শপথ নেয়ার পরে আমার কাছে মনে হয়েছে আমি অথৈই সাগরে পড়েছি। কি করবো না কি করবো তা ভেবে পাচ্ছিলাম না।

 

সাক্কু

 

প্রশ্ন:শহরের সমস্যাগুলো কি?

সাক্কু: কুমিল্লার প্রধান সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। রাস্তা সরু। শহরে কিন্তু পানি যাওয়ার রাস্তা একটাই। পশ্চিম দিকে ক্যান্টেনমেন্ট,ওই দিকে পানি নিতে পারি না। উত্তর দিকে গোমতি নদী সেটা শহর থেকে প্রায় ১৫ ফুট উচু।পূর্ব দিকেও পানি নিতে পারি না। তাই আমাকে দক্ষিন দিক দিয়েই শহরের সকল পানি নিতে হয় ডাকাতিয়া নদীতে। আমরা যতরকমের ড্রেন করি না কেন অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে আমাদের জলাবদ্ধতা তৈরী হয়ই হয় । সেই জন্য সবাইকে একটু সচেতন হতে হবে।

13234586_1039753852769087_273645064_o

প্রশ্ন: আচ্ছা শহরে অনেক ফুলের বাগান,ডাস্টবিন গুলোকে ফুলের বাগান বানানোর ধারনা আসলো কোথায় থেকে?

সাক্কু: শহরে মানুষের তৈরী ডাস্টবিন থেকে ফুলের বাগানের আইডিয়াটা আসলে আমার কাজ করতে করতে হয়েছে। তবে আমি চেষ্ঠা করেছি বাকিটা শহরের মানুষই দেখছে । কিন্তু আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। মূলত মানুষকে সচেতন করার জন্যই আমি ফুলের বাগান করেছি। শহরের যে জায়গা গুলোতে মানুষ একসময় ময়লা ফেলতো,মল মূত্র করতো সেই জায়গা গুলোতে এখন ফুলের বাগান করে দেয়ার ফলে এখন সেই জায়গা গুলোতে আর মানুষ ময়লা ফেলছে না । শহরে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমি মনে করি এ্টা একটা পজেটিভ দিক। আমি যখন রাস্তায় দাড়িয়ে কাজ দেখা শুরু করলাম তখন দেখলাম ওভার ফ্লু পানি হওয়ার মূল কারন হচ্ছে অতিরিক্ত ময়লা আবর্জনা। আমি অনেক বিদেশীকে দেখেছি তারা একটি টিস্যু ব্যবহার করার পর ওই টিস্যুটি হাতে করে আমার অফিসে এসে ময়লা জুড়িতে ফেলেছে। শহরকে পরিস্কা রাখতে হলে মূলত আমাদেরকে তাদের মতোই হতে হবে। কিন্তু মানুষতো সচেতন হচ্ছে না। এই যে,শহরের ফুয়ারা বলেন,ফুলের বাগান বলেন আমি বড় গলায় বলতে পারবো এগুলো সিটি করপোরশনের একটি টাকাও না। এই সবগুলো আমার টাকা আমি তা বড় গলায় বলতে পারবো। এসব উন্নয়নের টাকা বিভিন্ন ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান দিয়ে থাকে কিন্তু কুমিল্লার প্রতিষ্ঠান গুলো করতে চায় না। আর তা ছাড়া এগুলো করতে গেলে অনেক জামেলার ব্যাপার । বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না,এই সিটি করপোরশন থেকে মাত্র ছয়টা লেবারের টাকা পাই।

প্রশ্ন : শহরে যানযট নিরশনে কি করেছেন?

সাক্কু: কান্দির পাড়ের ফুটপাত গুলো আমি তুলে দিয়েছি গত দুই মাস আগে। যা গত ৪২ বছরের কেউ পারে নি । যার কারনে জনগনের হাটতে চলতে সমস্যা তো হতোই ,আর যানযট প্রতিদিন লেগে থাকতো। এক ধরনের প্রতিনিয়ত ভোগান্তি তৈরী হতো মানুষের। কান্দির পাড়ের মতো এতটুকু একটা জায়গায় প্রায় ৯২টি দোকান চিন্তা করা যায়? তাদের বহু বোঝানোর পর তাদেরকে নিউমার্কেট জায়গা দিয়েছি এখন তারা সেখানে আছে। জিলা স্কুলের সামনেও একটা মার্কেট ছিল তাদেরকেও আমি তুলে দিয়ে নিউ মার্কেটের চার তলায় জায়গা দিয়েছি। আলেখারচর থেকে নদীর পার দিয়ে শহরে ডুকার ব্যবস্থা করছি। গাড়ি নিয়ে আর শহরের ভিতর ডুকতে হবে না ।শহরে যানযটও সৃষ্টি হবে না ।ঢাকার মতো করে সিটি করপোরশনের বিভিন্ন জায়গায় ডিবাইডার দিয়ে লাইট লাগিয়ে দিয়েছি। এই লাইট গুলো আমার নিজের খরচের।

প্রশ্ন: আচ্ছা জিলা স্কুল মার্কেটটি নিয়ে সিটি করপোরেশন এবং জেলা প্রশাসকের মধ্যে একটি দন্ধ আছে এই ব্যাপারটি আসলে কি?

সাক্কু: জিলা স্কুল মার্কেটতো এটা অনেক আগেই চার তলা ছিল। এটাতো আর নতুন না। যখন সিটি করপোরশনের প্রশাসক ছিলেন তখন মার্কেটির একটা দূর্ঘটনা ঘটেছিল উনি তখন কারো কথা না শুনে দোকান গুলো উচ্ছেদ করে দিয়েছে।তখন আবার প্রশাসক নাসির সাহেব এবং এমপি সাহেবের কাছে সাকের্ট হাউসে দোকান মালিকরা তাদের কাছে একটি আন্ডারটেকেন দিয়েছে। এতে বলা ছিল পরবর্তী মেয়র যে আসবে সে যে সিদ্ধান্ত নিবে তাই মানতে হবে এই শর্তে আবার তারা দোকানে ফিরে গেছে। এবার সেখানে তারা নিজ দায়িত্বে দোকানদারী করতে হবে। পরে আবার আমি মেয়র হওয়ার পর এটাকে অনুমতি নিয়ে দুইটা টেন্ডার দিয়েছি। একটি ভাঙ্গার টেন্ডার,আরেকটি গড়ার টেন্ডার। সাড়ে তিন বছর হয়ে গেলো কেউ এটাকে দাবী করলো না। যখন গড়ার কাজ ৯৫ ভাগ শেষ হয়ে গেছে তখন ডিসি বললো এ্টা তাদের জায়গা। আরএস,সিএস ওনার নামে। বিল্ডিংটা ৬৫ সালের গড়া। ডিসিকে বললাম, এটা যদি আপনার জায়গা হয়,তাহলে আমাকে আগে চিঠি দিলেন না কেন? আমাকে যদি শুরু করার সময় চিঠি দিতেন তাহলে আমি অব্যশই বসে একটা সিদ্ধান্তে আসতাম। ২০০৯ সালের একটা আইন আছে আমরা এগুলো করতে পারবো কিন্তু জনগনের কোন সমস্যা করে করা যাবে না।সেই কথা চিন্তা করে আমরা মার্কেটটা আরো পিছিয়ে দিয়েছি। ড্রেনের ওপর করেছি।রাস্তা অনেক বড় করেছি। আমাদের আয়ের উৎস রাজস্ব। সিটি করপোরশনের যত বড় বাজেট হোক না কেন সিটি কপোরশেনের বেতন কিন্তু দিতে হয় রাজস্বের টাকা থেকে।শুনেন ,একটি জেলার সবকিছুইতো ডিসি সাহেবের। এই মার্কেটটির সামনে আরেকটি মার্কেট আছে মসজিদ মার্কেট,তার পর শহরের অনেক মার্কেট আছে সে গুলোকে উচ্ছেদের নিদের্শ না দিয়ে এ্টাকে দিয়েছে। এ্টাতো উদ্দেশ্য মূলক। বোঝাই যায়।যা হোক সেটা নিয়ে এখন মামলা চলছে।

13271982_1039752966102509_619740444_o
প্রশ্ন: সিটি করপোরেশনের বাজেটের কি অবস্থা?

সাক্কু: প্রত্যেকটি বাজেটেই আশি,নব্বই কোটি টাকার কম বাজেট হয় না । তবে সরকারের পক্ষ যে টাকাটা দেয়া হয় তা ধারাবাহিক ভাবে ক্রমস কমে আসছে। বুঝেনেইতো আমি সরকারী দলীয় মেয়র না। তবে সিটি কপোরেশনের টাকা ,বিশ্বব্যাংকের টাকা,সরকারের টাকার উন্নয়নের বাইরে আমাদের আরো উন্নয়ন আছে। আমরা মসজিদ মাদ্রসা ,স্কুল কলেজে উন্নয়ের জন্যও প্রচুর টাকা খরচ করছি। আমরা প্রত্যেকটি বাজেটের আগে একটা প্রাক বাজেট করে থাকি। এখানে সাংবাদিক,এলিট পারসন থেকে শুরু করে সবাই থাকে তাদের পরামর্শই আমরা পরবর্তী বাজেট গুলো করে থাকি। তবে এই পর্যন্ত গত চার বছরে প্রায় ৮’শ ১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি আর ১৪০টির মতো চলমান আছে।

প্রশ্ন: কুমিল্লাকে এক সময় পুকুরের নগরী বলা হলেও এখন তো আর পুকুরে নগরী বলা যাচ্ছে না,পুকুর ভরাট নিয়ে আপনি কি করলেন?

13235950_1039752936102512_1832471936_n
সাক্কু: কুমিল্লা শহরকে ব্যাংকের আর ট্যাংকের নগরী বলা হতো কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক আরো বেড়েছে কিন্তু ট্যাংক দিনে দিনে কমে যাচ্ছে।নানর দিঘি,ধর্ম সাগর,উজির দিঘি আর রানীর দিঘি এই চারটি দিঘি ছাড়া আর কোন দিঘি নাই ।ভাই সত্যি কথা বলতে কি,সরকারটা কার? আমার না। যদিও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশ আছে যেন কোন পুকুর ভরাট না করা হয়। কিন্তু কে শুনে কার কথা! শহরের ব্যপক পুকুর ভরাটের ব্যাপার থানায় আমার জিডি করা আছে । কিন্তু আমিতো প্রশাসনের কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাই না। আমার কথা না শুনে এসপি না শুনে ডিসি। তাহলে আমি কিভাবে কাজ করবো বলেন।

প্রশ্ন: একটু ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি,বিএনপির মেয়র হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কি কি সমস্যা হচ্ছে? যদিও আপনাকে বিএনপির মেয়র বলা যায় না কারন আপনি নাগরিক ফোরামের ব্যানের নির্বাচন করেছেন।

সাক্কু: আমি একটু আগেই বললাম, আমিতো সরকারী দলীয় মেয়র না । যার কারনে কাজ করতে আমার অনেক সমস্যা হয়। তারপরও আমি সমঝোতা করে কাজ করি। বলতে পারেন আমি সিটি করপোরশেনের উন্নয়নের জন্য সবার সাথে সমঝোতা করে চলতে হয়।এই যেমন আমি স্থানীয় এমপির সকল কথা শুনে কাজ করতে হয়। যদিও আমার প্রতিমন্ত্রীর স্যাটাস। এইখানেও মারপ্যাচ আছে। কাগজে কলমে আমাকে সেই দাম দেয়া হচ্ছে না। এই দু:খ আমার সারা জীবন থেকে যাবে। জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মিটিং এ যেতে পারি না।আমি আমার নির্বাহীকে পাটাই। কে বড় কে ছোট এই নিয়ে একটা দ্বিধা থেকেই থাকে। সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে ঘান ম্যান দেয়া হয়েছে এটাকে কোথাও নিয়েও যাই না। তবে আমি মেয়র হওয়ার পর এমপি বাহার ভাইয়ের সাথে বলেছি,আমরা দুই জনে মিলে কুমিল্লার উন্নয়ন করবো। আমরা যদি লেগে থাকি তাহলে সাধারন নাগরিকদের সাথে আমাদের প্রতারনা করা হবে। কারন তারা আমাদের ভোট দিয়ে মেয়র বানিয়েছে,এমপি বানিয়েছে। তবে উনি কিন্তু আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছে। তাছাড়া বিভিন্ন সময় আমি ওনার পরামর্শ নেই। এমপি সাহেবে চাইলেই কিন্তু সিটি কর্পোশনের বাজেট কমিয়ে দিতে পারে কিন্তু তিনি সেটা করছেন না। পার্টিতো আমাকে সমর্থন দিয়েছে আর ভোট তো দিয়েছে সাধারন মানুষ। তাহলে আমি কেন সাধারন মানুষের সাথে প্রতারনা করবো। বিএনপির মেয়র হিসেবে আমিই একটু আধা সস্তিতে আছি। ম্যাডামের বিরুদ্ধে ত্রিশটি মামলা হতে পারে তাহলে আমিতো কিছুই না। আমি এমপি সাহেবকে বলে দিয়েছি আমার কোন সমস্যা হলে মামলা দিয়ে দিবেন এগুলো আমি ভয় পাই না। আমি জেলে যাবো,নিরাপদে থাকবো ।কিন্তু এর জন্য ভোক্তভোগী হবে সাধারন জনগন। এমপি সাহেব আমাকে নানান ভাবে সহযোগিতা করছে। এটাও আমার জন্য এক প্রকার পাওয়া।

প্রশ্ন: আমি আপনাকে প্রথমে বিএনপির মেয়র বলেছি এবং পরে কিন্তু সংশোধনও করে নিয়েছি। আপনি কিন্তু বলেই যাচ্ছেন আপনি বিএনপির মেয়র..

সাক্কু: দেখেন আমি নাগরিক ফোরাম থেকে নির্বাচন করেছি ঠিক,সাধারন মানুষ আমাকে ভোটও দিয়েছে। কিন্তু আমিতো এই দলটা করি। আর তাছাড়া সিটি নির্বাচন কিন্তু দলীয় নির্বাচন না। আমি যেহেতু বিএনপি করে আসছি। সেই ক্ষেত্রে আমাকে সেই দলের মেয়র বলা যায়।

প্রশ্ন: অভিযোগ আছে আপনি আপনার দলে নিষ্ক্রিয় ,আসলে কি তাই?
সাক্কু: দলে আমি আন্দোলন করছি না সেটা ঠিক। আমি আমার জায়গায় থেকে দলের জন্য যা করছি তা আমার কর্মীরা বলতে পারবে। মামলা,হামলা খেয়ে বহু নেতাকর্মী জেলে গিয়েছে আমি ছাড়িয়ে এনেছি। সবার সাথে সসম্পর্ক থাকার কারনে কিছু কিছু কাভার করে এনেছি। ঢাকা থেকে যখন অর্ডার আসতো তখন আমি আমার কর্মীদের লাগিয়ে দিয়েছি আন্দোলন করার জন্য। আমি এই পার্টিকে ভালোবাসি। ৩৮ বছর ধরে আমি এই পার্টি করে আসছি। যখন খালেদা জিয়া শেষবার কুমিল্লায় আসলো তখন আমি আর ইয়াসিন সাহেব মিলে কাজ করেছি। পরে ম্যাডাম এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল এতো বড় আয়োজন তোমরা কিভাবে করেছো,তখন আমি ম্যাডামকে বলেছি আমাদের দদ্ধ যতই থাকুক দলের ব্যাপারে আমরা সবসময় এক।এর পর থেকে আমরা মিলে কাজ করার চেষ্ঠা করি। মানুষ যে বলে আমি দলে নিষ্ক্রিয় কিভাবে বলে আমি কিছুই বুঝিনা। বিএনপির কোন আয়োজনটাতে আমার অংশগ্রহন নেই? জিয়াউর রহমান জন্ম-মুত্যু বার্ষিকীতে আমি নিজে গরু জবাই করে ভুরি ভোজের আয়োজন করি। নিয়মিত দুই আড়াইশো নেতাকর্মীর সাথে আমার কথা হয়,সরাসরি বা ফোনে। আচ্ছা আমি নিষ্ক্রিয় বুঝলাম কিন্তু অন্যরা কি করছে?

প্রশ্ন: ইয়াসিন -সাক্কুর কোন্দল নিয়ে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ অনেক কথা হয় সেটাকে কিভাবে দেখেন?

সাক্কু: দেখেন, আমি মহানগর জেলা বিএনপির জয়েন সেক্রেটারী। আমি ছিলাম সেক্রেটারী ক্যান্ডিটে। আমাকে না দিয়ে দিয়েছে ইয়াসিন সাহেবে কে। আমার এগুলো নিয়ে কোন আক্ষেপনেই। আমি মেয়র হয়েছি আর ইয়াসিন সাহেব এমপি ইলেকশন করবে। আমাদের দুইজনের লক্ষ্য ভিন্ন ভিন্ন। আমাদেরও এক সময় কোন্দল থাকলেও এখন আমরা এক আছি। ইয়াসিন সাহেবের সাথে আমার নিয়মিত কথা হয়।

প্রশ্ন : কোন্দল মিঠানোর গল্পটা একটু বলবেন?

সাক্কু: সর্বশেষ যখন ২০১৪ তে যখন খালেদা জিয়া কুমিল্লায় গিয়েছিল। তখন ম্যাডাম আমাকে বলেছিল আমি কুমিল্লায় যেতে চাই । সেটা তোমরা কিভাবে কি করবা।আমি ম্যাডামকে বলেছিলাম এই নিয়ে আপনার কোন টেনশন করার দরকার নেই। আমাদের জেলায় যতই দ্বিধা থাকুক আপনার ব্যাপারে আমাদের কোন কোন্দল বা দ্বিধা কোনটাই নেই। তাছাড়া ম্যাডাম কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে একটা টিম বানিয়ে কুমিল্লা পাঠিয়েছিল। তারা আমাদের কার্যক্রম দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিল। কিভাবে এতো অ্যারজমেন্ট করলাম তা দেখে। এর আগে ঢাকা থেকে যদি নেত্রী কোন প্রোগ্রাম দিতো তখন ইয়াসিন সাহেব করতো সকাল বেলায় আমি করতাম বিকেল বেলায়।ইয়াসিন সাহেবে পত্রিকা কভারের জন্য সকাল বেলায় প্রোগ্রাম গুলো করতো। যা হোক কোন দিন আমরা এক সাথে প্রোগ্রাম করি নাই।তবে ম্যাডাম যাওয়ার পর থেকে আমরা এই পর্যন্ত সকল অনুষ্ঠান এক সাথে করি। আমি বলতে পারি আমি এখন মন থেকে এক। আমি চাই না আমার কারনে পার্টির কোন ক্ষতি হোক। আমি মনে করি, পার্টির এমন দু:সময়ে সবাইকে এক হয়ে কাজ করা উচিৎ। এখন কারো মধ্যেই কোন্দল রাখা উচিৎ না। ম্যাডাম যাওয়ার পর আমরা এখন এক আছি।

প্রশ্ন: আবার পুরনো প্রশ্নে! মেয়র হওয়ার পর চার বছরে আপনার প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি কি?

সাক্কু: জনগন যে আশা করে আমাকে মেয়র বানিয়েছে,সে আশাগুলো পূরন করার জন্য আমি চেষ্ঠা করেছি। যে কোন একটা জিনিশ করার জন্য কিছু ডিজাইন লাগে,প্ল্যান লাগে আমি মেয়র হওয়ার পর সে গুলো করে দিয়েছি। আমার প্ল্যান অনুযায়ী আমি প্রায় ৫০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছি। এই চার বছর তিন মাসে। আমি যদি মেয়র নাও হই ,পরবর্তীতে মেয়র যে হবে তার জন্য সেই কাজটা সোজা হয়ে যাবে। এক কথা প্রাপ্তি হিসেবে কুমিল্লা শহরের উন্নয়নে অবদান রাখতে পেরেছি। এটা আমার অনেক বড় পাওয়া।আর অপ্রাপ্তি যদি বলেন,আমি মেয়র হওয়ার পর সরকার আমাকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেয়নি। সেটাই অপ্রাপ্তি। হয়তো সেটা দিলে আমি আরো অনেক কাজ করতে পারতাম ।

প্রশ্ন: আপনার সফলতার ব্যাপারে আপনি কি বলতে চান?

সাক্কু: আমার কাজ দিয়ে আমি বলতে চাই আমি সফল। এটা যদি কোন পুরাতন সিটি করপোরেশন হতো তাহলে সেটার মাপকাঠি নির্নয় করা যেতো। নতুন হিসেবে আমি যে কাজ গুলো করেছি সেই হিসেবে আমি বলতে পারি আমি পুরোপুরি সফল। আমি সিটি মেয়র হওয়ার পর সকল কাজ কিন্তু আমাকেই করতে হচ্ছে। মাস্টার প্ল্যান থেকে শুরু করে সকল কাজ। আমি প্রথম যখন কাজ ধরি তখন তো আমার নিজেরই মাথা খারাপ ছিল,কিভাবে কি করবো এই ভেবে। সবতো রাজস্ব থেকে সম্ভব না। বিশ্বব্যাংক,জাইকা তাদের সাথে পর পর মিটিং করে তাদের অর্থায়নে বেশ কিছু কাজ করিয়েছি। দেশে যদি আন্দোলন গুলো না থাকতো তাহলে আমি আরো কাজ আনতে পারতাম তাদের হাত থেকে। আন্দোলন কে কিন্তু বিদেশী দাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ভালো চোখে নেয় না। তারপরও বিরোধী দলীয় মেয়র হিসেবে আমি যা করেছি। আল্লাহর কাছে শুকুর।

প্রশ্ন:আগামী নির্বাচনে আপনার অবস্থা কি হবে?
সাক্কু: আগামী নির্বাচনে অবশ্যই কুমিল্লাবাসীকে আমাকে দেখতে পাবে। আর জনগন যদি আমার কাজের মূল্যায়ন করে তাহলে অব্যশই আমি নিদ্বার্ধায় বলতে পারি আগামী নির্বাচনে আমি জয়ী হবে। ইনশাল্লাহ

প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন কুমিল্লাকে ভবিষ্যৎ কেমন নগরী দেখতে চান?

সাক্কু: ২০২০র মধ্যে নগরীকে দেশের অত্যাধুনিক নগরী করা সম্ভব।এবার যে মেয়রই আসুক আমি যে কাজ গুলো হাত দিয়ে রেখেছি সে গুলো সফল ভাবে করতে পারলে আমার মনে হয় কুমিল্লা হবে দেখার মতো একটি নগরী।

সাক্কু সাহেব আপনাকে ধন্যবাদ

আপনাকেও ধন্যবাদ

সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন: মোহাম্মদ ওমর ফারুক

সর্বশেষ

সম্পাদক ও প্রকাশক:- বাপ্পি মজুমদার ইউনুস , নির্বাহী সম্পাদক- ফারুক আল শারাহ্ বার্তা সম্পাদক-  খন্দকার আলমগীর হোসাইন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক- ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান মিলন, সহযোগী সম্পাদক- আজিম উল্লাহ হানিফ নিউজ রুম- dailyamadernangalkot@gmail.com

© আমাদের নাঙ্গলকোট-২০১০-২০১৮, সম্পাদক বাপ্পি মজুমদার ইউনুস কর্তৃক প্লট নং-২২১/১৬, ব্লক-বি, কুমিল্লা-৩৫০০ থেকে প্রকাশিত।