আমার যেভাবে কাটে দিন- আবুল বাশার | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

আমার যেভাবে কাটে দিন- আবুল বাশার

3 October 2016, 2:16:38

আমি থাকি সেই শৈশব কাল চল্লিশ দশক থেকে বৃটিশ শাসিত পল্লী একটি গ্রামে। বর্তমান সময়ে এসে ভারত বিভক্ত হয়ে পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের ও চলছে প্রায় ৪৫ বছর। এখনো রয়েছি বাপ দাদার ভিটে বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার মৌকারা ইউনিয়নের কালেম গ্রামে। আমি প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায় করে তৈরি হয়ে চলে যাই নিজ প্রতিষ্ঠান নাঙ্গলকোট বাজারের বাশার জুয়ের্লাসে। সেখানে দীর্ঘ ৬০ বছরের রুটিন মত সকাল ৬ টা থেকে দিনের সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত আমি সময় দিই,এরপর আমার ছেলেরাই সময় দেয়। প্রতিষ্ঠানে থেকে সাজানো গোছানো আর পরিপাটি করে সুজ্জিত করে রাখা আমার র্দীঘদিনের অভ্যাস। সেখান থেকে ফেরার পথে বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান, পুত্রবধূদের জন্য বাজার সদাই আর প্রিয় জিনিস গুলো কেনা কাটা আমার নিত্য দিনের অভ্যাস । প্রতিদিন আমার হাতে থাকে প্রিয় নাতিন নাতনীদের জন্য চকলেট,চিপস। মাঝে মাঝে কিছুপথ সিএনজি তে করে আসার পর এরপর হেঁেটই আসি। কিন্তু আমার প্রিয় এই গ্রাম বাংলাকেই আমি দেখে আসছি সেই ৬ যুগ আগ থেকে। যে গ্রামের ধূলা বালি কাদা মাটি আমার প্রিয় । যেখানে যা ফসল বুনে তাই ফলে। তা দেখতে দেখতেই চলে আসি আমার প্রিয় ঠিকানা বাড়িতে। কালেমের আপন ঠিকানায়। সবার হাতে তাদের প্রিয় জিনিস গুলো তুলে ফ্রেস হয়ে চলে যাই নিজ রুমে। কিছুক্ষন লেখালেখি করে সময় কাটাই।এরপর নিত্যদিনের অভ্যাস অনুযায়ী গোসল করি, নামাজ পড়ি,খাওয়া দাওয়া করি, একটু ঘুমাই।এরপর আসরের নামাজ পড়ে একটু হাটি। এভাবেই কেটে যায় কালেমে বাকি সময়। মাগরিবের নামাজের পর দীর্ঘক্ষন পর্যন্ত চলে আমার লেখালেখি। একজীবনে লিখে শেষ করেছি প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কবিতা, স্মৃতিকথা, ভ্রমণকাহিনী, জীবনী,আত্মজীবনী, নাঙ্গলকোট উপজেলার ইতিহাস ও ঐহিত্যসহ প্রায় ৩ শতাধিক পান্ডুলিপি। যেদিন লেখি না সেদিন পুরনো লেখার আলমারিটা খুলে ছুয়ে দেখি। স্মৃতিতে ফিরে যাই। পুরনো কালের কথা মনে করি। চল্লিশ আর ৫০ দশকে ফিরে যাই। যেখানে নবীন প্রবীন কবি-ছড়াকারদের কবিতা আর আবৃত্তিতে আমিও একজন হয়ে উঠেছিলাম। আজ আমি বয়সের ভারে নুজ্ব্য। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে ভাবছি জীবনে কত সংগঠন করলাম, কত প্রোগ্রামে গেলাম। কত প্রোগ্রাম করলাম। কত মানুষকে দেখলাম,জানলাম। কবি আল মাহমুদ, সৈয়দ শামসুল হক, আসাদ চৌধুরী, নির্মলেন্দু গুন, মহাদেব সাহা, অসীম সাহা, আল মুজাহিদী, আবুল খায়ের মুসলেহ উদ্দিন, আবদুল গাফফার চৌধুরী, ড. আলী হোসেন চৌধুরী, জহিরুল হক দুলাল, অধ্যাপক আবদুল ওহাব, মোহাম্মদ ফজলে রাব্বীদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম আর ঢাকাতে পাড়ি দিয়েছি। দীর্ঘক্ষন ধরে শুনেছি তাদের বক্তব্য। শুনেছি তাদের উঠে আসার গল্প। কত না জমতো সেসব আড্ডা। বেশ কিছুদিন যাবত দায়িত্ব পালন করছি নিজ উপজেলার লেখকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠিত নাঙ্গলকোট রাইর্টাস এসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে, এছাড়াও দায়িত্ব দিয়েছে ছোট ভাই জনপ্রিয় কবি মাহমুদুল হাসান নিজামীর সংগঠন জাতীয় কবিতা মঞ্চ, কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে। একজীবনে যা পেয়েছি চাওয়ার চেয়ে পাওয়া ও কম নহে। তবু ও আমি প্রভুর কাছে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সকল সময়ে। পাঠকদের বলতে চাই আর পারি না। ভুল ক্রুটি নিয়ে লেখি চলেছি। কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান সময়ে তরুন লেখকদের কবিদের লেখা বেশি বেশি পড়ি আমি। জাতীয় দৈনিক, আঞ্চলিক দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিকসহ নানান পত্রিকার সাহিত্য পাতা গুলো আমি ঘেটে ঘেটে দেখি। ৭০ ও তার পরবর্তী সময়ের কিংবা বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কবিদের মধ্যে লুৎফর রহমান রিটন, রেজাউদ্দিন স্টালিন, মাহমুদুল হাসান নিজামী, হাসান হাফিজ, ফখরুল হুদা হেলাল, সৈয়দ আহমাদ তারেক, ইকবাল আনোয়ার, শাহীন বানু, এবিএম সোহেল রশিদ, মুহাম্মদ নুরুল হুদাদের লেখা ও আমি পড়ি। আমার ভাল লাগে। কখনো বা থানা সদরের লাইব্রেরী গুলোতে চলে যাই বইয়ের খোঁজে,কবিতার খোঁজে। চোখের পাওয়ার কমে আসছে দিনে দিনে। কয়েকদিন আগে ও একটি পান্ডুলিপি প্রকাশের জন্য বাসায় এসেছেন তরুন কবি ও সাংবাদিক আজিম উল্যাহ হানিফ। সে দুইটি নাম্বার দিয়ে গেছে ডায়েরীতে। সেখানে চশমার ফাঁকে দেখতে পেলাম একটি নাম্বার বন্ধু ভাষাসৈনিক আবদুল জলিলের নাম্বারের আরেকটি মেলা প্রকাশনীর এম এস দোহার। যাক এভাবেই আমার প্রতিদিনকার সময়টা কাটে। তবে গতকাল যখন ঢাকা থেকে এক তরুন কবির মুঠোফোনে বন্ধু সৈয়দ শামসুল হকের মৃত্যু সংবাদ পাই, মেনে নিতে পারি নি। কিছুতেই মনকে বুঝাতে পারি নি যে কতটা রক্তক্ষরণ হয়েছিল তার প্রতি। তার সাথের দিনগুলো স্মৃতির পাতা থেকে মুছে ফেলতে পারছি না…..#
লেখক: কবি,চিত্রশিল্পী।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: