আমি কবে ভালো ছিলাম- অশ্রু শাহ আলম | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা

আমি কবে ভালো ছিলাম- অশ্রু শাহ আলম

24 April 2017, 8:15:25

কয়েক বছরকার আগের কথা।
আমাদের অচিনপুরে প্রচুর হাড়ি,পাতিল চুরি যেত। আজ এর তো কাল আরেক জনের। রাতে শোবার আগে সব ঠিকঠাক সকালে রান্নাঘর খালি।পানি ভর্তি কলস নেই, দা কোদালের হুদিশ নাই, টিউবওয়েলের মাথাটা পর্যন্ত গায়েব। সারা গ্রাম জুড়ে চলছে যেন হাড়ি পাতিল চোরের রাজত্ব। চোর আতঙ্কে পুরো গ্রাম পড়েছে অসস্তিতে। শুনেছি গ্রামে কলেরা ডায়রিয়ার উপদ্রবে সমস্ত পাড়া অসুস্থ হয়ে পড়ত। তখন পীর ফকির, মাজার জেয়ারত কত কি করা হত এ রোগের অনিষ্ঠ থেকে মুক্তি লাভের আশায়। ঘরেঘরে সিন্নি খাওয়ার ধুম পড়ত।
আর এখন হাড়ি পাতিল চোর ধরতে কত কৌশল যে অপকৌশল হল তার ইয়ত্তা নেই। কঠিন ব্যামো বেধেছে গ্রামজুড়ে।
সর্বক্ষণ একই উৎকন্ঠা, একই মিছিল চোর ধরতে হবে। হাজারো কৌশল ব্যর্থকাম তবু মিললনা চোরের হুদিশ কে বা কারা চুরি করে। পন্ডশ্রমে অবশেষে আল্লাহর কৃপায় শান্তি ফিরে এল অচিনপুরে। চোরের বুঝি মনুষ্যত্ব জেগে উঠেছে।
যা এজন্য কত দোয়া মান্বত হল। তারপর থেকে এ গ্রামে কোন প্রকার চুরির ঘটনা ঘটেনি।
কিছুদিনপর হঠাৎ মাতব্বরের গরু চুরির মত অস্বাভাবিক ঘটনার আবির্ভাব। গ্রামজুড়ে হৈচৈ পড়ে গেল। গরুচোর গরুচোর ধরা পড়েছে গরুচোর। যে যেখান থেকে পারছে এক নজর দেখে যাচ্ছে। যেন কোন বিখ্যাত লোকের ধরায় আগমন। গরুচোর সে আর কেহ নয় আমাদের গ্রামেরই সুরুজ মিয়া।
মাতব্বরের গরু চুরির মামলা বলে কথা। কঠিন বিচারের মুখে। ধরনীর গগন সাঁঝ সাঁঝ সেঁজেছে। বিচার দেখতে অনেকেই এসেছেন।গ্রামের কর্তা ব্যক্তিরাতো আছেনই।
এদিকে গরুচোর সুরুজ মিয়াকে কিন্তু কোন প্রকার চিন্তাযুক্ত মনে হলোনা। মুখে একটু ফ্যাকাসে ভাবটি পর্যন্ত পরিলক্ষিত হলোনা। বরং এক হাড়ি হাসির মাতম মুখে।
কারো কোন উচ্যবাচ্য নেই।কি দিয়ে শুরু করা যায়।
একজন বলে উঠলোঃ আপনারা চুপ কেন? অ্যাঁ! গ্রামে চুরি হইছে তাও আপন ঘরের মানুষ। এটাতো কম কথা না।
আরেক বুড়া মুরুব্বি বললঃ এইডা কোন কাম কইরলো সুরুজ মিয়া? তারে কঠিন শাস্তি দেয়ন লাগবো। এভাবে হরেক রকম বাক্য। গরুর মালিক সে মাতব্বরের কোন মাত বোল নাই। এতক্ষণে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেনঃ আমার ঘরে চুরি!! এত সাহস দেখে বাচিনা। তারে গ্রাম ছাড়া করন লাগবো।
এবার আসামী সুরুজ মিয়ার মুখে কথা ফুটলোঃ কি কইলি তুই? মাতব্বর অইছেন অ্যাঁ। আমারে গ্রাম ছাড়ন লাগলে তুইওতো গ্রাম ছাড়ন লাগবো।
“সুরুজ মিয়ার স্পর্ধা দেখে বাঁচিনা। শুনছেন আপনেরা তার কতা।চুরিয়ে চুরি তার উরপে সিনাজুরি। শালা চোর, কয় কি আমারে গ্রাম ছাড়ন লাগবো! ” কথাকটি বলতে বলতে চটাং করে মেরে দিল গালে।
বিচারালয় একজন বিবেকবান লোকের স্বর শুনে থেমে গেল মাতব্বর।
“থামেন তাকে আত্বপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিন। তার কি কথা আমাদের শুনা উচিত। দু একজন তাকে সমর্থন জানালো।
সুযোগ পেয়ে সুরুজ মিয়া বলে চললঃ আমনেরা জানেন আগে এ গ্রামে হাড়ি পাতিল চুরি অইত সব আমি আর চান মিয়া (মাতব্বর ) মিলে কইরতাম।
তারপর থাইক্যা চান মিয়া একলেবেল উপরে মাতব্বর হইছে আর আমি গরুচোর।
সুরুজ মিয়ার কথা শুনে সবাই যেন আকাশ থেকে পড়ল। সবাই এক বাক্যে বলে উঠলোঃ তাইতো কই ঘরের চোরে বেড়া কাটলে চোর ধরার সাধ্য কার!!

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: