মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর, ২০১৯

আর.সি.এল শাহজাহানের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে দুদুক! ২৫০ কোটি টাকা লুটপাটে ৩দিনের মধ্যে জবাব চেয়েছে দুদুক

৩০ আগস্ট, ২০১৯ ৮:৫৪:০০

কুমিল্লা প্রতিনিধি :
রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ (আর.সি.এল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহজাহান ও স্ত্রী (চেয়ারম্যান) মহিনুর বেগমের বিরুদ্ধে ২৫০ কোটি টাকা লুটপাট করে নামে বে নামে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার অভিযোগ মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক)। কমিশনের সহকারী পরিচালক জাফর ইকবাল জানান, রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ (আর.সি.এল) এর সদস্য এবং আমানতকারীদের পক্ষে সাবেক সভাপতি মোঃ হারুন অর রশিদ, সাবেক পরিচালক, মোসাঃ সুরাইয়া বেগম, মোঃ খোরশেদ আলম, জামশেদ আলম, মোঃ সহিদুল ইসলাম ও মোঃ আবু তাহের স্বাক্ষরিত দুদুকের চেয়ারম্যান বরাবর একটি অভিযোগ প্রেরণ করা হয়। এরই তদন্তে মাঠে নেমেছে কমিশন। ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাজাহানকে আগামী তিনদিনের মধ্যে কমিশনে অভিযুক্ত সকল তথ্য প্রমান নিয়ে হাজির হয়ে জবাব দেয়ার নির্দেশ দেয়া হল।
অভিযোগসূত্রে জানাযায়, কুমিল্লা লালমাই উপজেলার আজবপুর গ্রামের মৌলভী আবদুল হালিমের ছেলে শাহজাহান। সংসারে দারিদ্রতা দুর করতে বেচেঁ নেন শিক্ষকতা, ৫ শতক ভিটি মাটির পরিবারটি এখন ২৫০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক। ২০০৩ সালে কুমিল্লা জেলা সমবায় অফিস থেকে রুরাল কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ (আর.সি.এল) নামে সারাদেশে ১৮টির অধিক শাখার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে অধিক মুনাফা দেখিয়ে এফডিআর ও স য়ের নামে শত শত কোটি টাকা আমানত গ্রহন করে কৌশলে নিজের নামে জমি, ফ্লাটসহ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেন।
২০১০ সালের পর নতুন কোন ব্যবস্থাপনা কমিটি না হওয়ায় সমবায় আইন ও বিধি মোতাবেক ২০১৩ সালের পর সমিতির পরিচালনা পর্ষদ বলে কিছু নেই। ২০১১ থেকে ২০১৯সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের কোন অডিট রিপোর্ট জমা হয়নি। এ সুযোগে সদস্যদের জমাকৃত আমানত এফডিআর ও শেয়ারের নামে যে আমানত গ্রহন করা হয়েছে, সে টাকা দিয়ে শাহজাহান নিজের নামে নাঙ্গলকোটের হরিপুর মৌজায় ১২ শতক, বাঙ্গড্ডা মৌজায় ৫০ শতক, সদর দক্ষিণের শ্রীবল্লবপুর মৌজায় ২৮ শতক, তিতাস উপজেলার গোপালপুর মৌজায় ৫শতক, আদর্শ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর মৌজায় ১৬শতক, লাকসাম উপজেলার মুদাফ্ফরগঞ্জ মৌজায় ১৯.৫০শতক জমি অবৈধ ভাবে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন।
এছাড়া গ্রামের বাড়ীতে ৫ একর, সিদ্ধিরগঞ্জে ৭ কাঠা জমির উপর একটি বাড়ী, ঢাকায় ও কুমিল্লায় স্ত্রী- ছেলে,মেয়ের নামে ফ্লাট ক্রয় করেছেন। তার গ্রামের বাড়ীর যুক্তিখোলা বাজারে ৩শতক, বাজারের উত্তর পাশের্^ ছেলে মেরাজের নামে মেরাজ ট্রেডার্স নামে ৫টি দোকান রয়েছে।
এদিকে সমিতি চলাকালীন সময়ে ঢাকায় তাকওয়া গার্মেন্টস, এতে বিনিয়োগ করা হয়েছে ১০ কোটি, সাপ্তাহিক কুমিল্লা নামক পত্রিকায় বিনিয়োগ ৫০ লক্ষ, মৎস প্রকল্পে বিনিয়োগ ৪৫ লক্ষ, স্বাস্থ্য প্রকল্পে সাড়ে ৪ কোটি, অটো রাইচ মেইলে ১ কোটি, মাস্টার ডেইরি ফার্মে ২ কোটি ৪০ লক্ষ, মুরগি ফার্মে ৩৫ লক্ষ, পরিবহন প্রকল্পে ৫ কোটি, আর.সি.এল হাউজ (শো-রুমে) ৮ কোটি, আর.সিএল. ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করার নামে ১০ কোটি, ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক করার নামে ৫ কোটিসহ প্রায় ২৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
২০০৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চৌদ্দগ্রাম উপজেলার খিরনশাল কাজী জাফর আহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতিকে ম্যানেজ করে এবং সহকারী প্রধান শিক্ষককে সর্বাধিক অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদে বহাল থেকে নিয়মিত বেতন ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করেন। দুই তিন মাস পরপর রাতের আধাঁরে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।
এসব বিষয় কুমিল্লা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০/২২টি মামলা রয়েছে। অধিকাংশ মামলায় আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক রয়েছে। প্রশাসন তার নামে সাজা ওয়ারেন্ট থাকা সত্বেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ নিয়ে আমানতকারীরা বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। সম্প্রতি সময়ে তিনি আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় দাবিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্ত সাধারণ মানুষ তাদের জমাকৃত আমানত না পেয়ে ভিটেবাড়ি বিক্রিসহ নানান সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছে। এবিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছে ভোক্তভোগীরা।

সর্বশেষ

সম্পাদক ও প্রকাশক:- বাপ্পি মজুমদার ইউনুস , নির্বাহী সম্পাদক- ফারুক আল শারাহ্ বার্তা সম্পাদক-  খন্দকার আলমগীর হোসাইন
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক- ইঞ্জিনিয়ার মেহেদী হাসান মিলন, সহযোগী সম্পাদক- আজিম উল্লাহ হানিফ নিউজ রুম- dailyamadernangalkot@gmail.com

© আমাদের নাঙ্গলকোট-২০১০-২০১৮, সম্পাদক বাপ্পি মজুমদার ইউনুস কর্তৃক প্লট নং-২২১/১৬, ব্লক-বি, কুমিল্লা-৩৫০০ থেকে প্রকাশিত।