ইসলাম ঐক্যের ধর্ম ৷ ইসলাম শান্তির ধর্ম। | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

ইসলাম ঐক্যের ধর্ম ৷ ইসলাম শান্তির ধর্ম।

21 April 2014, 4:16:27

Islam is the way

 

ইসলাম ঐক্যের ধর্ম ৷ ইসলাম শান্তির ধর্ম ৷ ইসলাম সর্বশেষ ঐশী ধর্ম হিসেবে সর্ব যুগেই মানুষের জন্যে বয়ে এনেছে তৌহিদের বিশ্বজনীন বার্তা এবং স্বাগত জানিয়েছে আলাপ-আলোচনা, অভিন্ন চিন্তা এবং আন্তরিক অভিন্নতার দিকে ৷ সেই যুগে ইসলামের বার্তাবাহী এবং ঐক্যের রাসূল হযরত মুহাম্মাদ ( সা ) তৌহিদের ছন্দময় শ্লোগান দিয়েছিলেন এবং জাহেলিয়াতের অন্ধকারাচ্ছন্ন শীতল বা অনুর্বর ভূমিতে ইসলামের সূর্যালোক বিকিরণ করেছিলেন৷ সেই আলোর বরকতে অন্তরগুলোতে জেগে উঠেছিল আশার আলো এবং মুক্তির উদ্ভাস৷ বিচ্ছিন্ন গোত্র ও বংশের মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠলো এবং পরস্পরে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হলো ৷ শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে আজো সেই মোহনীয় সুর মুমিনদের মন ও মননকে পরস্পরের দিকে টানছে এবং তাঁদেরকে সর্বোন্নত পথের দিকে আহ্বান জানাচ্ছে ৷ 
রাসূলে কারিম ( সা ) এর শুভ জন্মের পবিত্র লগ্নে ঐক্য সপ্তাহ পালনের ঐতিহ্যও মুসলমানদের মাঝে ঐক্য সৃষ্টিরই প্রচেষ্টামাত্র ৷ ঐক্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে আজকাল যদিও বিচিত্রমাত্রিক তত্‍পরতা লক্ষ্য করা যায় ঠিকই , তবু এই অগ্রগতির পেছনে যে যুগে যুগে বড়ো বড়ো মনীষীদের চিন্তা-চেতনা ও আবেগ-অনুভূতি কাজ করেছিল ,তা বলাই বাহুল্য৷

 

মুসলিম হিসেবে দ্বীন ইসলাম পালন এবং তার সঠিক বাস্তবায়নের জন্য জিহাদ অর্থাৎ চেষ্টা সাধনা করার বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকতে পারেনা। এই চেষ্টা সাধনার পদ্ধতি ও পর্যায় সবার ক্ষেত্রে সব সময় একই রকম নাও হতে পারে। তবে সব ক্ষেত্রেই কিছু মৌল নীতি অবশ্যই মেনে চলার প্রয়োজন রয়েছে। মুসলিম মাত্রই মহান আল্লাহতায়ালা প্রেরিত কিতাব আল-কোরআনের বাণী অনুধানের জন্য অবশ্যই সাধ্যমত চেষ্টা করতে হবে। যেহেতু এই জিহাদ ব্যক্তি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নয়, তাই মানবতার স্বার্থে ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সময় উপযোগী পদক্ষেপে নিতে হবে।

কোন অহংকারী ইমানহীন জ্ঞানপাপী কিংবা দাম্ভিক ধর্মান্ধ মুর্খ নয়, বরং প্রাজ্ঞ, বিচক্ষণ ও বোধসম্পন্ন মুসলিমদের পক্ষেই ইসলামি জিহাদের প্রকৃত মর্ম অনুধাবন করা সম্ভব। শুধুমাত্র পার্থিব লাভ লোকসানের হিসেব কষে জিহাদের মুখ্য উদ্দেশ্য হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব নয়। যারা সত্যিকার অর্থে ইসলামের পথে চেষ্টা-সাধনা করতে চান, তাদেরকে অত্যন্ত ধৈর্যশীল হতে হবে। তাড়াহুড়া করা কিংবা অধৈর্য হয়ে কথায় ও কর্মে আবেগপ্রসূত অসহনশীল আচরণ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। কারণ রুঢ় কথা ও অসহিষ্ণু আচরণ সাধারণ জনগণের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, আর মুসলিমরা হলো শান্তির দূত স্বরূপ। তাই তাদেরকে মার্জিত ও সৎ স্বভাবের অধিকারী হবার জন্য চেষ্টা করতে হবে। কারণ মহান স্রষ্টা বিনয়ী, সহিষ্ণু ও সৎকর্মশীল ভাল মানুষদের ভালবাসেন এবং সাথে থাকেন। তাছাড়া সাধারন মানুষই শুধু নয়, চরম শত্রুরাও ভাল মানুষের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়, বিশ্বাস ও আস্থা পায় এবং বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। সব সময় মনে রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে শান্তি ও সত্যাশ্রয়ী কল্যাণময় সমাজ প্রতিষ্ঠার ম্যান্ডেট দিয়েই এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। যথাসম্ভব শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পথেই এই গুরু দায়িত্ব পালন করতে হবে। কিন্তু তাই বলে সহনশীলতার অর্থ এই নয় যে নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলেও মুসলিমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে। ক্ষমতা দখলের মোহে তথাকথিত সন্ত্রাস নয়, বরং দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের স্বার্থে শক্তি প্রদর্শন এবং মুসলিমদের আত্মরক্ষার প্রয়োজনে হাতে অস্ত্র তুলে নিয়ে তার সদ্ব্যবহার করার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

সাধ্যমত ইসলামের দাওয়াত দেয়াও ‘জিহাদের’ একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভাল কথা, সৎকর্ম, সারগর্ভ বক্তৃতা ও লেখালেখি ইত্যাদি সকল সুস্থ পন্থায় দাওয়াতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে এবং যুগোপযোগী আধুনিক গণমাধ্যম সমূহের সুষ্ঠু ব্যবহার করার বিষয়েও যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান, প্রকৌশল বিজ্ঞান, অর্থনীতি, আইন শাস্ত্র, মহাকাশ বিজ্ঞান, বিবর্তনবাদ ইত্যাদি যত ধরনের পার্থিব বিশেষ জ্ঞানই মানুষ অর্জন করুক না কেন, ইসলামের দাওয়াত কর্মে নিবেদিতদেরকে আল-কোরআনের জ্ঞান অর্জন ও অনুধাবন করার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে যে কোন মুহূর্তে পা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনাই অধিক। এই দাওয়াতের কাজ করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ কটুকথা কইতে পারে এবং নানা রকমের পীড়নমূলক আচরণ করতে পারে। অনুকুল বা প্রতিকুল অর্থাৎ পরিবেশ ও পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, সকল অবস্থায় মহান আল্লাহতায়ালার পথনির্দেশনা মেনে চলাই হলো মুসলিমদের জন্য সর্বোত্তম পন্থা।

লেখক।

বা্প্পি মজুমদার ইউনুস।

সম্পাদক-আমাদের নাঙ্গলকোট ডট কম

01684-439854

amadernangalkot.com@gmail.com

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: