শিরোনাম

একজন গনমাধ্যম কর্মীর আত্ন কাহিনী- মেহেদী মিলন

১৫ মে ২০১৮, ১২:০২:৫৩

আমি একজন সামান্য গনমাধ্যম কর্মী , আমি সবার মত- এই গণতন্ত্র দেশের একজন স্বাধীন নাগরিক ,তাহলে আমাকে কেন দলীয় বিরোধী দলীয় নেতাদের কাছে জিম্মি থাকতে হবে , এটাই কি আমাদের স্বাধীনতার অর্জন? এটই কি আমদের স্বাধীনতার মুক্ত  কলম? কেন আজ আমাদের নিয়ে এত ছিনিমিনি , কেন আজ আমারা বাকরুদ্ধ ।

যারা সত্যকে বুকে ধারণ করে চলে তারাই হয় গনমাধ্যম কর্মী । একজন গনমাধ্যমকর্মী প্রকাশ পায় স্কুল জীবন থেকে, কখন কবিতা, কখন প্রবন্ধ, কখনও সাধারন জ্ঞান প্রতিযোগিতা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখা লেখির মাধ্যমে আত্ম প্রকাশ করেন । তারা ইচ্চে করলে আপনার মত নেতাও হতে পারত । হতে পারত রাজনৈতিক দলের পোষা সন্ত্রাসী । তবে সেটা হয়ে যেত এক দলীয়্‌, সমাজের সকল মানুষ কে নিয়ে লিখবে বলে হয়েছে একজন নিবেদিত গণমাধ্যম কর্মী, এটাই তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটু ভেবে দেখুন তো! একজন কলম সৈনিক সমসাময়িক বিষয় নিয়ে লেখেন, দেশে যখন যে সমস্যাটি সৃষ্টি হয় সে বিষয়টি জনমুখে তুলে ধরেন। তাহলে আপনি আপনাদের ভাবনাগুলো এমন হওয়ার কারণ কি?

লাঞ্চিত হয়েছে স্বাধীন দেশের রাজ পথে , রক্তাক্ত হতে হয়েছে জন পথে , গুম হতে হয়েছে নিজ ঘর থেকে । খুন হতে হয়েছে নিজ বাস ভবনে পরিবারের সামনে । হুমকির কারনে মানসিক যন্ত্রনায় মরতে হয়েছে অকালে কিন্তু কেন এই নির্মম অবিচার ? এটাই কি স্বাধীন দেশের কলমের স্বাধীনতা ? যখন এলাকায় কোন দুর্ঘটনা হয় জীবন বাজী রেখে একজন সংবাদ কর্মীই আগে ছুটে যায় , এলাকায় কোন সন্ত্রাসী হামলা হলে আগে একজন সংবাদ কর্মীই এগিয়ে আসে কখনো দু পক্ষের গোলাগুলিতে আহত হয় নিজে , প্রান ও হারায় এক সময় , সারাদিন বিনা বেতনে ডিউটি করে রাতে কম্পিউটারে বসে টাইপ করে সংবাদ। কাল সকালের ব্রেকিং নিউজের জন্য । আপনার এলাকার উন্নয়ন নিয়ে আপনি ভাবার আগেই একজন সাংবাদিক কলম ধরেন আপনার উন্নয়ন নিয়ে আর আপনি..?
একজন সাংবাদিক কখনো রাজনীতি দিয়ে পরিচিত হয়না বরং রাজনৈতিক নেতারাই সাংবাদিকদের দিয়ে পরিচিতি লাভ করে , কোথাও কোন মিটিং হলে প্রোগ্রাম হলে , আপনি আগে সাংবাদিকদের ক্যামারার সামনে দাঁড়ান নিজকে কাল সকালে পত্রিকায় দেখার জন্য । নিউজ লেখার সময় আপনি ই আপনার নামের লিস্ট টা আগে দেন- ভাই আমার নামটা যেন বাদ না পড়ে আর এখন আপনি বড় নেতা বা জ্ঞানী হয়ে গেছেন । তখন যদি কোন কারনে আপনার নাম পত্রিকায় না আসে ফোন করে অহেতুক গালাগালও করেন অনেক সময় , কেউ প্রতি পক্ষের দালালও মনে করে , বিনিময়ে কি দিয়েছেন আপনি হয়তবা যাতায়াত খরচের জন্য ৫০০/১০০০ টাকা? কিন্তু নাম ছবি না আসলে কোটি টাকার সম্মান হানি করেন , একজন সংবাদ কর্মী নিজের পকেটের টাকায় ইন্টারনেট খরচ করে আপনাকে তুলে ধরেন টিভি চ্যানালে, পত্রিকাগুলো।

একজন সংবাদ কর্মী সব রকমের সকল দলের নিউজ করতে হয় । সংবাদ যে কোন দলের বিপক্ষে গেলেই গালাগাল শুরু করে দেন কিন্তু কেন । আপনি একজন দলের নেতা হয়ে কেন দেশের একজন কলম সৈনিক কে গালাগাল করবেন , আপনি কেন চিন্তা করেন না আপনার দলের কেউ না কেউ অপরাধটির সাথে জড়িত । আপনি তাদের শাসন না করে কেন গনমাধ্যমকে খারাপ বলবেন , একটা অপরাধের ভিডিও করতে গিয়ে যদি পুলিশের অপকর্ম ধরা পরে পুলিশ গুলি করে সাংবাদিক কে । দলীয় বা বিরোধী দলীয় লোকের অপরাধ ধরা পড়লে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হতে হয়, কেন? কেন বলুন? । কেন এই স্বাধীন দেশে এই নির্মমতা ?
বাংলাদের ৯০ ভাগ লোকই এখন রাজনীতির সাথে জড়িত , আর রাজনিতির সাথে জড়িত কিছু নেতাই কর্মীরাই অপরাধ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত । যখন সাংবাদিকদের হাতে ধরা পড়ে তখন দল অস্বীকার করে আমাদের কর্মী নয় সে। যখন সাংবাদিক অপরাধীর মূল পরিচয় তুলে ধরে তখন হয়ে যায় সরকার বিরোধী ও হলুদ সাংবাদিক!!

যখন বিরোধী দলের কেউ অপরাধ করে এরাও অস্বীকার করে এটা আমাদের দলের নয় , যখন সাংবাদিক মূল পরিচয় তুলে ধরে হয়ে যায় সরকার দলের দালাল , এতে বুজা যায় অপরাধী কে সনাক্ত করাই চরম ভুল । এই অপরাধীরা দল এবং বিরোধী দলের চত্র ছায়ায় লালিত এক জনগোষ্ঠী , সরকার দল এবং বিরোধী দলের সাথে আতত রেখেই তারা অপরাধ কর্ম চালিয়ে যায়, আমাদের সকল দলের নেতাদের উচিত কোন অপরাধী কে নিয়ে সংবাদ হলে তা প্রমাণিত করে তাদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া , সেটা না করে হুমকি দেওয়া হয় সংবাদকর্মী কে ।

একজন সংবাদ কর্মীর টাইম লাইনে সকল দলের খবরের শিরোনাম পোস্ট করা হয় , কখনো আংশিক খবর প্রকাশ করা হয় , আমরা প্রতিনিয়ত দেখে আসছি সেই সুযোগে কিছু উদীয়মান নেতা কর্মী নিজ দলের বিপক্ষের নিউজ পোস্ট গুলো স্ক্রিন শর্ট করে পুনরায় সরকার বিরোধী বা বিরোধী দলের দালাল বলে সম্মান হানি করে পোস্ট করে , কিছু কর্মীকে দেখা যায় অন্যর সাথে মারামারি করে মানুষের চরিত্র হরণ করে নিজকে রাজনীতির মাঠে নেতা বানাতে চায় , নেতা তাকেই বলে সমাজের সকলের কাছে যার জনপ্রিয়তা আছে , বড় নেতারা এটা দিন দিন ভুলে যাচ্ছে এক ঘামলা দুধে যদি এক ফোঁটা গরুর প্রস্রাব পড়ে সেটা তখন নষ্ট হয়ে যায় , তেমনি আপনার দলকে দলের মানুষকে কলঙ্কিত করতে একটি খারাপ কর্মীই যথেষ্ট ,।

আপনি হয়তো জানেন না একজন সংবাদ কর্মীর কাছে কয়েক হাজার ভিডিও ফুটেজ আর ছবি স্ক্রিন শর্ট রয়েছে , রয়েছে প্রতিটি নেতার নেতা হওয়ার জীবনী । হ্যাঁ আপনি প্রমাণও দিতে পারবেন আমি জানি কিছু সাংবাদিক দলের হয়ে কাজ করে যাচ্ছে , তবে দলের ছায়া তলে আপনিই তাকে রেখেছেন আপনার স্বার্থে আপনার কুকর্ম ফাঁস করবে বলেই আপনি তাকে কব্জা করে রেখেছেন । হলুদ সাংবাদিক এক মাত্র রাজনৈতিক দলেরা তৈরি করে সেটার জন্য কলঙ্কিত হতে হয় দেশের সনাম ধন্য সাংবাদিকদের ,
একজন নেতা কখনো একজন সংবাদ কর্মী থেকে দেশের বা দেশের ইতিহাস সম্পর্কে বেশী জানেনা , কারন সংবাদ কর্মীরাই আপনাকে নেতা হওয়ার জন্য ইতিহাস গুলো সংরক্ষণ করে বই আকারে তৈরি করে রেখছে , যেটা আপনি এখন বই আকারে দেখতে পান , সেটা কোন না কোন কবি,সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের লেখা যেটা আপনি বই আকারে পড়ে আজ নিজকে ইতিহাস বিদ দাবি করচেন , সাংবাদিকরা যদি রাজনীতি করত সাংবাদিকরাই আজ দেশের বড় রাজনীতি বিদ হত , কারন ইতিহাসের সেরা লেখক একমাত্র সাংবাদিকরাই।

তাই আসুন! নিজেকে সংযত রেখে দেশকে কিভাবে এগিয়ে নেয়া যায় সে বিষয়ে লক্ষ্য করুন।

সংবাদকর্মী/ সমাজকর্মী/
ব্যপস্থাপনা সম্পাদক
দৈনিক আমাদের নাঙ্গলকোট।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: