এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনভাতা, মার্যাদা ও জাতীয় করণ। | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনভাতা, মার্যাদা ও জাতীয় করণ।

2 May 2018, 11:49:49

এনায়েত উল্লাহ হেজাজী•
দেশের চলমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর টেকসই সাফল্য সমূহ নিয়ে লিখতে বসা মাত্রই পর্যায় ক্রমে দুইজন সহকর্মীর ফোন। তারা খোঁজ খবর জানার এক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার বিষয়ে লিখতে বলেন। ১৯৪৫খ্রিঃ জাতীয় সংঘ প্রতিষ্ঠার পর জাতীয় সংঘের অধীনের সংস্থা ইউনেস্কো, আএলও ১৯৬০খ্রিঃ শিক্ষকদের অধিকার ও মর্যাদা সংক্রান্ত ১৪৬টি ধারা সম্বলিত সুপারিশমালা পেশ করেন। এই সুপারিশ সমূহ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দেশের আতœসামাজিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন পেশাগত স্বার্থে গড়ে উঠে। ১৯৭১খ্রিঃ দীর্ঘ ৯ মাস মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়ার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন কমিশন, রিপোর্ট ও সর্বশেষ জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন করেন।

বর্তমানে আবার দাবী আদায়ের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে শিক্ষক কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি এবং শিক্ষক কর্মচারী লিঁয়াজো ফোরাম। কেউ অনশন কর্মসূচী দিয়ে দাবী আদায়ের চেষ্টা করছে। কেউ আবার সমাবেশের ডাক দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী একত্র করেও সুনির্দিষ্ট দাবীগুলোর মধ্য থেকেও গুরুত্বপূর্ণ দাবী এখন পর্যন্ত আদায় করতে পারেনি। এতে করে সংগঠনগুলির বিভিন্ন সময়ের কর্মসূচী গুলি সাড়ে ৫ লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীর নিকট প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। মহান জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বলেছেন সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয় করন করা হবে। শিক্ষক সংগঠনগুলো আবার বিভিন্ন কর্মসূচীর ডাক দিয়েছেন। এমডিজি এর আওতায় শিক্ষায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। এসডিজি এর ৪র্থ নম্বর কর্মসূচী হলো মান সম্মত শিক্ষা। বাংলাদেশের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্যে আসি, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক গনের বেতন-ভাতাদি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেই হারে, সেই তুলনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধার পার্থক্য ব্যাপক।

অথচ দেশের ৯৮ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত এবং প্রাইভেট। দেশে বর্তমানে ৩৩৩টি স্কুল ৩২৯টি সরকারি কলেজ রয়েছে। এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবীর প্রতি সরকার মাঝে মাঝে সমর্থন জানালেও শিক্ষকরা বাস্তবে তা পাননি। চাকুরীর নিরাপত্তা ও আর্থিক নিশ্চয়তা, সর্বপরি সামাজিক মর্যাদার অনিশ্চয়তার দরুন মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশার আসতে দ্বিধাবোধ করেন। ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রিপ্রাপ্ত ও সর্বোচ্চ ফলাফল প্রাপ্তদের নির্ধারিত পার্সেন্টেন্সকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারের চাহিদামত শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল করে নিয়োগদান করা হয়। এতেকরে মানসম্মত শিক্ষা এবং উন্নত জাতি গঠনে কোন ধরনের প্রশ্ন উত্থাপিত হয় না। জাতীয় সংঘের ইউনেস্কো ও আইএলও এর সনদে স্বাক্ষরকৃত দেশ সমূহকে জিডিপির ৬% এবং জাতীয় বাজেটের ২০% ব্যয় করার সিদ্ধান্ত আছে। বর্তমানে শিক্ষা খাতে জিডিপির ২.২০%-২.৩০% এরমধ্যে ব্যয় করা হচ্ছে। জাতীয় বেতন কাঠামোর সূচনা হয়েছিল ১৯৭৩খ্রিঃ। তখন ১০টি গ্রেড ছিল। প্রথম গ্রেডে বেতন ছিল ২ হাজার টাকা, আর ১০ গ্রেডে ১৩০ টাকা। ০১/০১/১৯৮০খ্রিঃ থেকে প্রথম জাতীয় বেতন স্কেলের আওতায় ৫০% বেতন প্রদান করা শুরু হয় এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট এরশার সাহেবের শাসনামলে ১০%+১০%=২০% প্রদান করা হয় এবং ১০০ টাকা বাড়ী ভাড়া প্রদান করা হয়। বর্তমান সরকার বাড়ী ভাড়া ১০০০ টাকায় উন্নীত করেছেন সময়ে সময়ে। ১৯৯১খ্রিঃ আবারো ১০% বেতন, একটি ইনক্রিমেন্ট (গ্রেড ভেদে অপরিবর্তনীয়) সাথে চিকিৎসা ভাতা ১৫০ টাকা প্রদান করেন। বর্তমান সরকার চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকায় উন্নীত করেন। ১৯৯৬খ্রিঃ শিক্ষকদের আন্দোলনের দাবীগুলি পর্যালোচনা করে বেতনের ১০% বৃদ্ধি করা হয়।

সেই হিসেবে জাতীয় বেতন গ্রেডের শতকরা ৮০% বেতন পাওয়া নিশ্চিত হয়। ৫ম বেতন কাঠামোর আওতায় শিক্ষকদের জোরালো আন্দোলন ও দাবীর মধ্যে সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় বেতন স্কেলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অন্তর্ভূক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। জাতীয় বেতন স্কেলের অন্যান্য সুযোগ সুবিধাগুলি প্রদানের আশ্বাস দেন। ২০০২খ্রিঃ শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা আইনটি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা শুরু হয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০০১ সালের ৩০শে জুলাই দেশের শিক্ষক সমাজের জন্য আলাদা বেতন কমিশন গঠন এবং শিক্ষক নিয়োগে আলাদা কমিশন গঠনের কথা বলেন। ২৯শে ডিসেম্বর ২০০৮খ্রিঃ নির্বাচনে জয় লাভ করার পর প্রধানমন্ত্রী শিক্ষক সমাজের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রণয়ন করার ক্ষেত্রে মত দেন। ২০০৯-২০১০ অর্থ বছরে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন দুইটি উৎসব ভাতা মূল বেতনের ২৫% শিক্ষকদের ক্ষেত্রে, ৫০% কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রদান করেন। এতসব অর্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষক সংগঠন ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যগন সময়ে সময়ে দাবী দাওয়া নিয়ে আলোচনা করছেন। ৯ম পে-স্কেলের কমিটির রিপোর্ট ও পরবর্তী বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার কারনে শিক্ষক সমাজ ফেঁসে উঠেছেন তাদের সংগঠনের মাধ্যমে। একই পে-স্কেলের মাধ্যমে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীগন ১লা জুলাই ২০১৫খ্রিঃ থেকে জানুয়ারী ২০১৬খ্রিঃ এর মধ্যে বেতন সমূহ উত্তোলন করেছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন নিয়ে টাল-বাহনা করা শুরু হয় নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী। তাতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মনে হতাশার সৃষ্টি হয়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দ্রুত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানিয়ে দিলেন শিক্ষক-কর্মচারীগন (যখন প্রদান করা হবে) ১লা জুলাই ২০১৫খ্রিঃ হতে ৮ম বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন পাবেন। ২০১৬ সালের মে মাসের এমপিও কপিতে বকেয়াসহ ৯ম বেতন স্কেল অনুযায়ী শিক্ষকগন বেতন-ভাতা গ্রহন করেন। তখন নির্ধারিত ইনক্রিমেন্ট বকেয় হিসেবে কেটে রাখা হয়। তখন ইনক্রিমেন্ট ছিল গ্রেড-৫ এ ১৮০, গ্রেড-৬ এ ১৭৫, গ্রেড-৭ এ ১৫০, গ্রেড-৯ এ ১২৫, গ্রেড-১৫ এ ৭০, গ্রেড-১৯এ ৪০, গ্রেড-২০এ ৬০।

জাতীয় স্কেলে বেতন গ্রহন করার পর শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষক-কর্মচারী বৃন্দ সরকারকে ধন্যবাদ প্রদান করেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, অর্থমন্ত্রলয়, অর্থ বিভাগ থেকে জারী করা এসআরও নং ৩৬৯ আইন/ ২০১৫খ্রিঃ তারিখ ১লা পৌষ ১৪২২ বঙ্গাব্দে/ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৫খ্রিঃ জারীর মাধ্যমে বেতন ২০১৫খ্রিঃ জুলাই হইতে এবং ভাতাদি ২০১৬খ্রিঃ ১লা জুলাই হইতে কার্যকর করা হইবে। ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিনের সুপারিশ অনুযায়ী পরবর্তীতে নতুন কোন পে-স্কেল ঘোষনা করা হবেনা তদস্থলে প্রতি বছর ১লা জুলাই প্রাপ্ত বেতন স্কেলের ৫% ইনক্রিমেন্ট হিসেবে পাবেন। এতে দেখা যায় এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নির্ধারিত সামান্য ইনক্রিমেন্ট ১লা জুলাই ২০১৫- ৩১শে মে ২০১৬খ্রিঃ পর্যন্ত বকেয়া হিসেবে কর্তন করা হয়েছে। আমার মনে হয় ইনক্রিমেন্ট প্রসেসটি একটি নগদ ফাঁকি হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। সাধারণত সরকার পাঁচ বছর অন্তর পে-স্কেল ঘোষনা করেন এবং কার্যকর করেন। সময়ে সময়ে মহার্ঘ ভাতা ঘোষনা করেন। যেমন ৭ম বেতন স্কেলে ৯ম গ্রেডের ছিল ১১ হাজার, ৮ম বেতন স্কেলে ৯ম গ্রেডের বেতন হয়েছিল ২২ হাজার টাকা। এখানে ১০০% বেতন বেড়েছে। কিন্তু ১১ হাজার টাকার ৫% প্রতি বছর ইনক্রিমেন্ট হবে ৫৫০ টাকা। পাঁচ বছর অন্তর ১১ হাজার টাকার ইনক্রিমেন্ট দাঁড়াবে ২৭২০ টাকা। এখানে ভবিষ্যতে পে-স্কেল কার্যকর না থাকায় ৫ বছর অন্তর ১১০০০+২৭২০=১৩৭২০ টাকা। হতে পারে ২৭২০ টাকার ৫% পাঁচ বছরে ইনক্রিমেন্ট ১৩৬ টাকা মাত্র। তাছাড়া বেতন স্কেল ভেদে অন্যান্য সুবিধা গুলোর সুযোগ থেকে বি ত হওয়ার আশংকা আছে। অথচ এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ২০১৬ ও ২০১৭ খ্রিঃ এবং ২০১৮খ্রিঃ এর এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষকদের ৫% ইনক্রিমেন্ট প্রদান করা হয়নাই।

পে-স্কেলের আওতায় সরকার বেতনের গ্রেড ভেদে শতভাগ বেতন বৃদ্ধি করেছেন তার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু ১০০ টাকার স্থলে প্রতি বছরে ৫ টাকা ও নববর্ষ ভাতা স্কেলের ২০% প্রদান না করার শিক্ষক-কর্মচারীদের মনস্তাত্তিক বেদনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সরকার এমডিজিতে শিক্ষা ক্ষেত্রে সাফল্য দেখিয়েছেন। এসডিজি এর ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে ও অর্জন করতে হলে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর যৌক্তিক দাবী গুলোর প্রতি বাস্তবায়নের সু-নজর নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে স্কেলের ক্ষেত্রে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনের যে বৈষম্য ছিল তা দূর হয়েছে। প্রত্যেকে জাতীয় স্কেলে শতভাগ বেতন গ্রহণ করছেন। কয়েকটি ভাতাদির ক্ষেত্রে আমি নি¤েœাক্ত ছকটির মাধ্যমে মত প্রকাশ করছি।
ক্র: নং
বিভিন্ন ভাতার নাম
সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীগন পান
প্রতি বছর
এমপিও ভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীগন গ্রহণ করছেন
প্রতি বছর
বর্তমান ব্যয় করা হয়
বৈষম্য কমাতে লাগবে

নববর্ষ ভাতা
স্কেলের ২০%
স্কেলের ০%
০%
২০০ কোটি টাকা

উৎসব ভাতা ঈদুল ফিতর
স্কেলের ১০০%
স্কেলের ২৫% শিক্ষক
স্কেলের ৫০% কর্মসহায়ক ষ্টাফ
৩০০ কোটি টাকা
৭০০ কোটি টাকা

উৎসব ভাতা ঈদুল আযহা
স্কেলের ১০০%
স্কেলের ২৫% শিক্ষক
স্কেলের ৫০% কর্মসহায়ক ষ্টাফ
৩০০ কোটি টাকা
৭০০ কোটি টাকা

চিকিৎসা ভাতা
প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা প্রতি জন
৫০০ টাকা
১৫০০ (প্রস্তাবিত) টাকা করে দিলে
৩৩ কোটি টাকা
৬৬ কোটি টাকা

বাড়ী ভাড়া ভাতা
স্কেলের ৩৫%-৬৫% প্রতি মাসে
প্রতি মাসে ১০০০ বাড়ী সংস্কার ২০০০ (প্রস্তাবিত) করে দিলে
৬৬ কোটি টাকা
৬৬ কোটি টাকা

শিক্ষা সহায়ক ভাতা
২ সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ১০০০ টাকা
পাওয়া যায় না
১০০০ টাকা করে প্রদান করা হলে
৬৬ কোটি টাকা

টিফিন ভাতা
১১-২০ গ্রেডের কর্মসহায়ক বৃন্দ প্রতি মাসে ২০০ টাকা
পাওয়া যায় না
প্রতি মাসে ২০০ টাকা হারে ব্যয় করা হলে
২ কোটি ৬৫ লক্ষ
= ১৮৬৫ কোটি টাকা

বর্তমানে সাড়ে ৫ লক্ষ হিসেবে এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার বৈষম্য কমানোর জন্য বর্তমান ব্যয়িত অর্থের সাথে ১৮৬৫ কোটি টাকা (কমবেশী) প্রয়োজন।
২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে বাজেট ছিল ৪ লক্ষ ২ হাজার ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে ২ হাজার কোটি এখন পর্যন্ত বরাদ্দ সমন্বয় করা হয়নি। এবার ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে বাজেট দাঁড়াতে পারে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকার কম বেশী। এখানে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্ধ রেখে আমাদের আরো সক্রিয় করুন। পে-স্কেলের গেজেটে শ্রান্তি ও বিনোদনের ভাতা, যাতায়াত ভাতা, ধোলাই ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ডোমেস্টিক এইট এলাউন্স, প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠানে প্রেষন ভাতা, ঝুঁকি ভাতা, ভ্রমন ভাতা, প্রজাতন্ত্রের দপ্তর সংস্থা, বিশেষ কর্মচারী ভাতা, প্রেষন ভাতা, জাতীয় বেতন স্কেলের ১৫-৩২ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ভাতার কথা উল্লেখ আছে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীগন এসকল ভাতা প্রাপ্য হবেন। তাই কেউ কেউ পাবে পুরা আর কোন কোন অংশ আংশিক পাবে তাহার সমাধান চায় এমপিও ভুক্ত সাড়ে ৫ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বৃন্দ ও সংগঠনগুলো। অবসর ও কল্যাণের সুবিধা বেতন থেকে বাড়িয়ে নিয়ে ভবিষ্যতে পেনশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। আর শিক্ষা ব্যবস্থার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয় করনসহ সকল সমস্যার সমাধান করার নির্দেশ দিবেন মানবতার মা আধুনিক বাংলাদেশ উন্নয়নের রুপকার বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা তিন বারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এ সামান্য টাকা সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জানুয়ারীতে সকল ক্লাসের ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের (প্রতি জনের) নিকট হতে ৫০ টাকা করে নিলে কিংবা সকল ধরনের এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সকল আয়ের বছরান্তে সাধারণ তহবিলের স্থিতি হতে ২০% টাকা বাধ্যতামূলক সরকারি কোষাগারে জমা নিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের সরকারি, এমপিও ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার বৈষম্য কমিয়ে এনে শিক্ষার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সদয় হবেন।

লেখক
অধ্যাপক মোঃ এনায়েত উল্লাহ হেজাজী
সহ-সাধারণ সম্পাদক
লাকসাম-মনোহরগঞ্জ বাকশিশ
ও সদস্য কুমিল্লা জেলা বাকশিশ
মোবাইলঃ ০১৭১২২৬৮১২৮

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: