কিছুতেই কিছু হচ্ছে না চ্যাম্পিয়নদের | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

কিছুতেই কিছু হচ্ছে না চ্যাম্পিয়নদের

16 November 2016, 9:44:22

থই খুঁজে পাচ্ছেন না মিজানুর রহমান। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এবার। গতবারের চেয়ে দলের শক্তিও বেড়েছে। তবু তারা কিনা নতুন মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই হেরে গেল! ‘না রে ভাই, কোচ হিসেবে ক্যারিয়ারে এমনটা আমি দেখিনি কখনো’—হাহাকারের দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে মিজানের বুক চিরে।

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা আবার ঠিক অমন অনুসিদ্ধান্তে আসতে রাজি নন। দেড় দশকের ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন তো আর কম দেখেননি। গতবারের বিপিএলেই যেমন প্রত্যাশার সীমানা পেরিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় তাঁর দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবার আবার প্রত্যাশার সঙ্গে কুচকাওয়াচ করতে না পেরে হোঁচট খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে এক ধরনের অসহায়ত্ব কাল তাই ফুটে ওঠে মাশরাফির কণ্ঠে, ‘ক্রিকেটে ভালো-মন্দ অনেক কিছুই দেখেছি। এবারের ব্যর্থতা সে প্রক্রিয়ারই অংশ। আসলে আমরা যদি খেলতে না পারি, তাহলে কী বলার আছে!’

বাস্তবতার দর্পণে সামনে দাঁড়ান কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স অধিনায়ক। তাঁর দল যে আসলেই খেলতে পারছে না। চিটাগং ভাইকিংসের কাছে হার দিয়ে শুরু। এরপর বরিশাল বুলস, খুলনা টাইটানস, ঢাকা ডায়নামাইটস—সব দলের বিপক্ষেই অভিন্ন পরিণতি। ১২৯ রানে থেমে যায় তারা, আবার ১৪৪ তাড়া করেও জিততে পারে না। ঢাকা পর্ব শেষে চট্টগ্রাম পর্বের আগে ব্যাটিং ব্যর্থতাই তাই বেশি পোড়াচ্ছে কুমিল্লাকে। ‘টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানদের খেলা। সেখানে আমরা যদি ব্যাটিংটাই ঠিকঠাক করতে না পারি, তাহলে কিভাবে হবে! বোলাররা তো প্রথম তিন ম্যাচে ভালো করেছে। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে সে সমর্থনটা পাচ্ছে না।’—আবারও অসহায় শোনায় মাশরাফির কণ্ঠ। যার প্রতিধ্বনি কোচ মিজানের স্বরেও, ‘প্রথম তিন ব্যাটসম্যান রান না করলে হবে না। ওদের কাউকে খেলতে হবে ১৫-১৬ ওভার পর্যন্ত। আমরা সেটিই পারছি না।’

এই না পারার বড় দায় ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাশদের। বিশেষত গত বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করা এবং এবারও টুর্নামেন্টের আবহে জাতীয় দলে দারুণ ফর্মে থাকা ইমরুলের বিবর্ণতা বেশি ভোগাচ্ছে দলকে। ‘ইমরুল জাতীয় দলে এত চমত্কার ফর্মে ছিল! এমন একজন ব্যাটসম্যান বিপিএলে এসে ফর্ম হারিয়ে ফেললে ধাক্কা তো লাগেই’—কোচের আক্ষেপ। অধিনায়কের হাহাকারে আলাদা করে উঠে আসে লিটনের নাম, ‘লিটনের প্রতিভাকে আমি সব সময় আলাদা করে মূল্যায়ন করি। ওর জন্য এই বিপিএল চমত্কার সুযোগ। এখানে খেলে আবার জাতীয় দলে ফেরার পথ তৈরি করতে পারে।’ কিন্তু জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন কী, ফর্ম হারানোয় কুমিল্লার একাদশে জায়গাই তো হারিয়ে ফেলেন এই ওপেনার।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ব্যর্থতায় বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা গুঞ্জন। একাদশ নির্বাচন নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের হস্তক্ষেপে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে অধিনায়কের সঙ্গে। খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে নড়বড়ে করে দেওয়ার দায়ের কথাও বলছে অনেকে। তবে তা মানতে রাজি নন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ-অধিনায়ক। ‘এটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট। এত টাকা দিয়ে দল করেছে, মালিকপক্ষের চাওয়া-পাওয়া তো থাকবেই। তাই বলে তাদের দোষ দেওয়ার উপায় নেই। আর মালিকপক্ষ মিটিং করে কোচ-ম্যানেজারের সঙ্গে। বড়জোর অধিনায়ক। এখানে অন্যরা কেন চাপ নেবে’—মিজানের এই কথার প্রতিধ্বনি মাশরাফির কণ্ঠেও, ‘আমি তো দেখিনি, নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটারকে ডেকে মালিকপক্ষ আলাদা করে কথা বলে তাদের প্যানিকড করছে। ইমরুল, লিটন, শান্ত ওদের তো কেউ চাপ দেয়নি। মালিকপক্ষের যা কথাবার্তা, আমাদের সঙ্গে হয়। এখানে ক্রিকেটাররা নির্ভার হয়ে খেলতে পারে। সেটিই তাদের করা উচিত।’ ক্রিকেটাররা বেশি চাপ নিচ্ছে জানিয়ে এ থেকে বেরোনোর উপায়ও বাতলে দেন মাশরাফি, ‘আমার জবাবদিহি পুরো দল নিয়ে। ক্রিকেটারদের তো তা নয়। ওরা কেবল নিজেদের খেলা নিয়ে থাকলেই পারে। হ্যাঁ, এখন হারছি বলে নিজেরাই চাপ নিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু আমি বলব, সবাইকে নির্ভার হয়ে খেলতে। বাংলাদেশ দলের মতো।’

বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিপ্লব হয়েছে এই মাশরাফির নেতৃত্বেই। কুমিল্লার দুঃসময়ে সেই জাতীয় দলের উদাহরণই সামনে আনেন তিনি, ‘বাংলাদেশ দল বদলে গেল কিভাবে? নির্ভার হয়ে সহজাত ক্রিকেট খেলতে খেলতে। প্রতিপক্ষ আক্রমণ করেছে, আমরা রক্ষণের খোলসে না ঢুকে পাল্টা আক্রমণে এর জবাব দিয়েছি। ঢাকার মেহেদী মারুফকে দেখুন। ব্যাটিংয়ে নেমেই আক্রমণ করছে আর তাতে পাচ্ছে সাফল্য। এখন আমরা যদি ভাবি, মেরে খেলতে গেলে আউট হবে যাব কি না—এ দ্বিধাতেই কিছু হচ্ছে না। আমি তাই চাই, মাঠে গিয়ে ক্রিকেটাররা নিজেদের খেলা খেলুক। এমন মরার মতো পড়ে থাকলে কখনো জিততে পারবেন না।’ চার ম্যাচ হারলেও এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি বলে দাবি তাঁর, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল, অন্তত সেমিফাইনালে খেলা। তা এখন খুব কঠিন মনে হচ্ছে, তবে অসম্ভব নয়। আর না হয় পারলামই না। তবু টুর্নামেন্টের পরের অংশে নিজেদের খেলা খেললে অনেকগুলো ম্যাচ জিততে তো পারি। তখন বিপিএল শেষ হয়ে গেলেও নিজেদের মনে আফসোস থাকবে না। কিন্তু এখন যেভাবে খেলছি, সেভাবে খেলে বিদায় নিলে আফসোস থাকবে।’

অসহায় মাশরাফি তবু আশাবাদী। পারিবারিক প্রয়োজনে কাল দলের সঙ্গে চট্টগ্রাম যাননি। তবে আজ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স তাঁবুতে গিয়ে যোগ দেবেন নতুন আশায়। নতুন প্রতিজ্ঞায়। ‘আমি হাল ছেড়ে দেওয়ার মানুষ নই। হাল ছাড়বও না। ভালো খেলার চূড়ান্ত চেষ্টা করব’—এ মন্ত্র পুরো দলে ছড়িয়ে দেওয়াই এখন মাশরাফির চ্যালেঞ্জ।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: