কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, বিএনপিতে গ্রুপিং! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, বিএনপিতে গ্রুপিং!

19 June 2014, 7:53:41

১৬ উপজেলার বৃহৎ কুমিল্লা জেলা রাজনৈতিকভাবে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় বিন্যস্ত। ১৬টি উপজেলার মধ্যে ১৩টিতে নির্বাচন হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ ৭টি ও বিএনপি ৬টিতে জয়লাভ করে। এক যুগেরও অধিক সময়ের মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আহবায়ক কমিটি দিয়েই চলছে আওয়ামী লীগের দুটি সাংগঠনিক জেলা। এদিকে উত্তর ও দক্ষিণ উভয় জেলায় বিএনপিতে চলছে গ্রুপিং।

আওয়ামী লীগ : কুমিল্লা সদর, সদর দক্ষিণ, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, বরুড়া, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা। ৯টি উপজেলার মধ্যে ৭টিতে নির্বাচন হয়েছে। এতে ৪টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় লাভ করেন। ১৯৯৫ সালের ২২ নভেম্বর সর্বশেষ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। এতে প্রয়াত খোরশেদ আলমকে সভাপতি, অধ্যক্ষ আফজল খানকে সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব এমপিকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। পরে ২০০৫ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে গঠন করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। বর্তমান পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে (লোটাস কামাল) আহ্বায়ক ও রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব, অধ্যক্ষ আফজল খান এবং শফিকুল ইসলাম শিকদারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু এ আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদও এরই মধ্যে প্রায় ৮ বছর পার করেছে। এদিকে কুমিল্লার রাজনীতিতে সদর আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আফজল খানের ঐতিহ্যবাহী কোন্দল এখনো অব্যাহত। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক শফিকুল ইসলাম শিকদার জানান, এখানে কোনো সাংগঠনিক অচলাবস্থা নেই। আসন্ন সদর উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী দিতে সক্ষম হয়েছে। এদিকে কুমিল্লার দেবিদ্বার, মুরাদনগর, চান্দিনা, দাউদকান্দি, হোমনা, তিতাস ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা উত্তর জেলা। এখানকার ৭টি উপজেলার মধ্যে ৬টিতে নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে ৩টিতে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ এক যুগ অতিক্রম করেছে। ১৯৯২ সালে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম সম্মেলন হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে অধ্যাপক আলী আশ্রাফ এমপি ও জাহাঙ্গীর আলম সরকার। পরে ১৯৯৭ সালের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনেও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন ছাড়াই সম্মেলন সম্পন্ন হয়। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. নিজামুল হক নিজাম জানান, সম্মেলন না হওয়ায় দলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি হচ্ছে না।

বিএনপি : দক্ষিণ জেলায় নির্বাচন হওয়া ৭টি উপজেলার মধ্যে ৩টিতে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর গ্রুপিং দীর্ঘদিনের। ২০১৩ সালের ২৯ নভেম্বর মহানগরীর চর্থায় বিএনপির সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবি সদস্য নিহতের পর ভাঙচুর করা হয় ইয়াছিন ও সাক্কুর বাসায়। এরপর থেকে ইয়াছিন ও সাক্কু মাঠেই ছিলেন না, শারীরিক অসুস্থতায় কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা সভাপতি রাবেয়া চৌধুরীও মাঠে নামছেন না। প্রায় সময় নেতৃত্বে দেখা গেছে সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়াকে। মনিরুল হক সাক্কু বলেন, নেতৃত্বের দুর্বলতায় দক্ষিণ জেলা বিএনপি পিছিয়ে পড়ছে। সভাপতি বয়সের ভারে ন্যুব্জ। সাধারণ সম্পাদক ব্যবসা নিয়ে বিদেশ এবং ঢাকায় পড়ে থাকেন। এদিকে কুমিল্লা উত্তর জেলায় নির্বাচন হওয়া ৬টি উপজেলার মধ্যে বিএনপি ৩টি উপজেলায় বিজয়ী হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, ড. খন্দকার মোশাররাফ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ উত্তর জেলা এলাকার বাসিন্দা। গত ৭/৮ বছরে কুমিল্লা উত্তরের কোনো কর্মসূচিতে তাদের এক মঞ্চে দেখা যায়নি। চান্দিনা উপজেলায় উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলমের বাড়ি। একই উপজেলায় বিএনপি থেকে এলডিপিতে যাওয়া এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদেরও বাড়ি। খোরশেদ আলম জানান, আওয়ামী লীগের সহযোগিতা নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছেন রেদোয়ান আহমেদ।

অন্যান্য দল : বরুড়া ও তিতাসে সরকারের কল্যাণে জাতীয় পার্টির দুজন এমপি রয়েছেন। তারা হচ্ছেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন ও আমির হোসেন। জেলায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। নেতা বলতে মানুষ নাম জানে দেবিদ্বারের ইকবাল হোসেন রাজু, লাকসামের অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, নাঙ্গলকোটের আলী আহমেদ মোল্লা, মনোহরগঞ্জের আবদুল খালেক দয়াল, চান্দিনার লুৎফর রেজা খোকন, চৌদ্দগ্রামের এইচ এন সফিকুর রহমান ও সদর দক্ষিণের হুমায়ুন কবীর মুনশী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমেদ নিজে দল গঠন করেছেন। তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পর্যায়ের নেতা এয়ার আহমেদ সেলিম। জামায়াত এখানে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। তবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত জামায়াত নেতাদের আন্দোলনের মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: