কুমিল্লায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

কুমিল্লায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা!

24 June 2017, 3:59:06

মানিক নিজাম উদ্দিন-

কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক প্রভাষক ডাঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে একই জেলার সুমাইয়া খন্দকার বিথী নামে এক নারী। নিজেকে ডাঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদারের স্ত্রী দাবি করে বিথী বলেন, দেড় বছরের সংসার জীবনে তার গর্ভে একটি সন্তান আসে। গর্ভের সেই সন্তানটি তার অনিচ্ছায় জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয়েছে বলেও অভিযোগ ওই নারীর। এ বিষয়ে কুমিল্লা জজকোর্টে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুানালে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার মামলা দায়ের করেছেন সুমাইয়া খন্দকার বিথী। জানা গেছে, বিথী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। এর আগে তিনি রানীর বাজার রোডস্থ একটি প্রাইভেট চেম্বারের রিসিপশনিস্ট পদে কর্মরত ছিলেন। বিথী জানান, গত আড়াই বছর পূর্বে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের ভিত্তিতে বিথীকে বেড়ানোর কথা বলে বাগেরহাটের মংলায় নিয়ে যায় ডাঃ সাইফুল। সেখানে স্থানীয় এক কাজীর মাধ্যমে তাকে বিয়ে করেন ডাঃ সাইফুল। বিয়ের পর মংলার মেইন রোডস্থ’ হাজী শেখ আব্দুস সালাম ইন্টারন্যাশনাল (আবাসিক) হোটেলে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ৪ দিন অবস্থান করেন। এরপর মংলা থেকে ফিরে কুমিল্লার হাউজিং এস্টেট এলাকার ৩ নম্বর সেকশনের ফাইজা হাউজে উঠেন তারা। ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওই বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ভালোভাবেই বসবাস করে আসছিলেন তারা। ২০১৭ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত হাউজিং এস্টেটের ফাইজা হাউজে অত্যন্ত সুন্দরভাবে জীবন-যাপন করছিলেন। ১৭ জানুয়ারি রাতে বাসা থেকে বের হয়ে ডাঃ সাইফুল আর ফেরেননি। বিথী জানান, এরপর থেকে বাসায়ও ফেরেননি ডাঃ সাইফুল। কেন বাসায় ফিরছেন না জানার জন্যে তার কাছে গেলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতো সে। পরে খোঁ নিয়ে জানা গেছে ডাঃ সাইফুল অন্যত্র বিয়ে করেছেন, আর একারণেই তাকে এড়িয়ে চলছেন। বিথী জানান, দেড়বছরের বেশী সময় ধরে সংসার করেছি, এসময় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধী হয়নি। তবে মাঝে মধ্যে বিয়ের কাবিননামা চাইলে অভিমান করতেন ডাঃ সাইফুল। অভিযোগে জানা গেছে, ডাঃ সাইফুলের কাছে বিয়ের কাবিননামা চাওয়ার পরই ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটায় সাইফুল। পরে ডাঃ সাইফুলের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডা এলাকার আংগলখোড় গ্রামে যান বিথী। সেখানে গিয়েও সাইফুলের বাবা নজির আহম্মদ মজুমদারসহ তার মা, ভাই সবার কাছ থেকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এতে কোনো ভালো ফল পাননি বিথী। এছাড়াও তিনি সাইফুলের ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়েও যোগাযোগ করেন বিষয়টি মিমাংসা করতে। কিন্তু সাইফুল এতে কোনো পাত্তা দেননি। পরে বৃহস্পতিবার কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইবুন্যালে এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন বিথী। বিথী আরো জানান, তিনি সাইফুলকে নিয়ে আগের মতো সংসার করতে চান। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. শাহ আবিদ হাসান জানান, এখনো পর্যন্ত তিনি কিছু জানেন না। এ বিষয়ে ডাঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। সে (বিথী) আমাকে ব্ল্যাক মেইল করছে। আমি তার সাথে এমন কোন সম্পর্কে জড়াইনি যা নিয়ে এতো কিছু হবে। বিয়ে ও সন্তান গর্ভপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, সে আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে সাহায্য নিতো। তার ফুফুর মাধ্যমে আমার সাথে পরিচয় হয় তার। সে থেকেই বিভিন্নভাবে সাহায্য নিয়ে এখন আমাকেই ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে। তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ সব জায়গায় আমার সাথে তার এডিট করা ছবি ছড়িয়ে দিয়ে আমার মান-সম্মান নষ্ট করছে সে। এবং আমার স্ত্রী দাবি করে বিভিন্ন জায়গায় অপবাদ রটাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রী ও ডিপার্টমেন্টে আমার সম্মান হানির কারণে আমি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজ থেকেও প্রভাষকের চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। তাই এ বিষয়ে আমি কুমিল্লা কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি। যার তদন্ত করছে থানার এএসআই আবু তাহের। এ ব্যাপারে জানতে কুমিল্লা কোতয়ালি থানার এএসআই আবু তাহেরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: