কুমিল্লায় সন্ত্রাসী হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মনির ও  মহিউদ্দিন  নিহত ॥ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা ◈ কুমিল্লায় বিপুল ইয়াবাসহ দম্পতি আটক!
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

কুমিল্লায় সন্ত্রাসী হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান মনির ও  মহিউদ্দিন  নিহত ॥

8 November 2016, 9:01:18

 

নিজস্ব প্রতিনিধিÑতিতাস

কুমিল্লার তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক এবং জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এলাকার দুর্ধর্ষ ত্রাস মনির হোসাইন সরকার (৪২) ওরফে চিয়া মনির ওরফে ট্রলার মনির তার শ্যালক মহিউদ্দিন (৩০) একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসীর গুলি রামদায়ের কোপে নিহত হয়েছে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে সুমন (২৮) ইসমাইল (৩৮) মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে ঢাকাচট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির গৌরীপুর মোড়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, একটি মামলার হাজিরা দিতে মনির চেয়ারম্যানসহ ১১জন মাইক্রোবাসে কুমিল্লার আদালতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে গৌরীপুর মোড়ে /৮জনের একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। মনির চেয়ারম্যান সাথে সাথে গাড়ি থেকে নেমে পরলে কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা রামদা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে থাকে এবং গুলি করতে থাকে। / মিনিটের মধ্যে ঘটনা ঘটিয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় মনির চেয়ারম্যান, তার শ্যালক মহিউদ্দিন, সুমন ইসমাইলকে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার মহিউদ্দিনকে মৃত ঘোষনা করে এবং আশংকাজনক অবস্থায় মনিরসহ বাকিদের ঢাকা মেডিকের কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনির চেয়ারম্যানকে মৃত ঘোষনা করেন।

এদিকে মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মনির চেয়ারম্যানের লোজনদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। জিয়ারকান্দি গ্রামের কয়েকটি বাড়িঘরে ব্যপক ভাংচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলেও জানা যায়। এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

অপরদিকে এলাকার টপটেরর মনির হোসাইন চেয়ারম্যানের নিহত হয়েছে খবরে এলাকার মানুষ খুসি হলেও ভয়ে এখনো মুখ খুলছেনা কেউ মিথ্যা মামলার আশঙ্কায়। তবে মৃত্যুতে ফেইসবুকে শোকরিয়া আদায় করে অনেকেইআলহামদুলিল্লাহলিখে কমেন্ট করেছে। ভয়ংকর মনিরের নাম শুনলেই এলাকার মানুষ আতকে উঠত। পুরো তিতাস উপজেলাসহ পাশবর্তী দাউদকান্দি হোমনা, মেঘনা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী কেন্দ্র গৌরীপুর বাজার চিয়া মনির বাহিনীর একক নিয়ন্ত্রনে ছিল বলেও সুত্রে জানা যায়। গত ইউপি নির্বাচনে অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিলে জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন থেকে কেউ নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেনি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওই ইউপিতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয় মনির হোসাইন সরকার। মনিরের বিরুদ্ধে তিতাস দাউদকান্দি থানাসহ বিভন্ন থানায় খুন, অস্ত্র, বিস্ফোরক চাঁদাবাজিসহ কয়েকডজন মামলা রয়েছে।

চাঁদাবাজি, দখলবাজি, নারী নির্যাতন, প্রবাসীর সন্তানদের ধরে কথিত মনিরের টর্চার সেলে আটকে রেখে মুক্তিপন আদায়সহ এহেন আপরাধ নেই যা মনির বাহিনী করেনি। দেশের জাতীয় দৈনিক গুলোতে এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়াতে মনির বাহিনী অপরাধের সচিত্র প্রতিবেদন একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও এলাকার মাদক ব্যবসাও তার নিয়ন্ত্রনে ছিল। স্থানীয় আওয়ামী লীগবিএনপিজাতীয় পাটির্র নেতাকর্মীসহ ব্যবসায়ী নানা পেশার মানুষ মনির বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল। মোট কথা পুরো এলাকা ছিলো গডফাদার মনির বাহিনীর কাছে জিম্মি।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: