কুমিল্লা নগরীতে ১৫ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা; যানজট জনভোগান্তি চরমে

২৯ জুন ২০১৯, ৩:১২:৫৯

কুমিল্লা নগরীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। সুযোগ পেলেই সিএনজি, অটো ও রিক্সা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেন যাত্রীদের থেকে। শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা থাকায়, বেড়েছে যাত্রী সংখ্যা। সাথে ভাড়া বেড়েছে তিন থেকে পাঁচগুণ। অন্যদিকে যানযটের কারণে ভোগান্তিসহ বিপাকে পরেছে পরিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। দেখা গেছে যাত্রী-চালকদের তর্কবির্তক। মানুষের এ তিক্ত ক্ষোভের প্রকাশ করেছে ফেসবুকে।

তামান্না আক্তার মুক্তা নামে একযাত্রী বলেন, টমচমব্রীজ থেকে কোটবাড়ির ভাড়া ১০ টাকা। রাস্তা খারাপ অজুহাতে ১৫ টাকা ভাড়া নেয়। কিন্তু আজ আমাকে এ ভাড়া ৫০-৬০টাকা দিতে হয়েছে। কোন সিএনজি যেতে রাজি না, পরীক্ষার এক দেড় ঘন্টা বাকী। আমরা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের তো আর করার কিছু নাই।আমরা এ শহরে অসহায়।

মো. মনির অভিযোগ করে বলেন, পদুয়ার বাজার থেকে কান্দিরপাড় আসবো। রাস্তায় এতো যানযাট, জাঙ্গালিয়া নেমে হেঁটে কান্দিরপাড় আসতে হয়েছে। আর টমচমব্রীজ মোড়ে যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক প্রবেশ বন্ধ করতে পারছে না পুলিশ। বাস তো টার্মিনাল থাকার কথা। তাহলে টমচমব্রীজ পুলিশ থাকা আর না থাকা সমান।

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফাহমিদা পূর্ণি লিখেছেন, আজ সিএনজি ওয়ালাদের ঈদ ছিল। কান্দিরপাড়-বিশ্বরোডের ভাড়া জনপ্রতি ৪০/৫০ টাকা। ওদের কোন কারণ লাগে না। মানুষ দেখলেই ভাড়া বেড়ে যায়। এটাকেই দিন দুপুরে ডাকাতি বলে।

সরে জমিনে দেখা যায়, সকাল ৮টা থেকে জাঙ্গালিয়া থেকে টমচমব্রীজ র্দীঘ যানজট। কান্দির পাড় থেকে শাসনগাছা রোডের এক সিএনসি চালককে বলতে শুনা গেছে, বলেইতো উঠাইতেছি। ভালো লাগলে যান, নয়তো গাড়ি থেকে নেমে যান। অন্যদিকে কান্দিরপাড় ভিক্টোরিয়া ডিগ্রী শাখা রোডে ১০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা, কান্দিরপাড়-চকবাজার ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা, কান্দিরপাড়-কোটবাড়ি ৩০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা, কান্দিরপাড় শাসনগাছা ১০ টাকার ভাড়া ২৫ টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করেছে রিক্সার চালকরাও। টমচমব্রীজ- কান্দিরপাড় ২০ টাকার ভাড়া ৪০টাকা। কান্দিরপাড়-আদালত পাড়ার ২০/২৫ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা। শহরের অন্যান এলাকায় ও একই অবস্থা।

রফিকুল ইসলাম নামের একজন চালক বলেন, আমরা যখন ভাড়া একটু বেশী নেই, তখন সবাই রেগে যান। যখন আমরা জিবির নামে দৈনিক ৯০-১৩০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্ট্যানে চাঁদা দেই, এটা নিয়ে কেউ কথা বলে না। এটাতো প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করতেছে। এটা নিয়ে কী কারো কথা নেই?

কুমিল্লা জেলা ট্রাফিক পুলিশ ইনর্চাজ টিআই কামাল বলেন, একটি শহরে অতিরিক্ত মানুষ যখন প্রবেশ করে, তখন এটা যানযট নয়, জনজোট তৈরি হয়। শুক্রবার পরীক্ষা তাই শহরে ডাবল সিপ্টে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করেছে। নগরীতে কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেনি। বাস যেন টার্মিনালে প্রবেশ না করে, সে জন্য জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বহুবার আলোচনা করা হয়েছে। সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে। টার্মিনালের কাজ শেষ হলে, বাস আর টমচমব্রীজের দিকে প্রবেশ করবে না। দিনে শহরে বাস প্রবেশ নিষেধ ঠিক আছে, তবে শুক্রবার যেহেতু অফিস বন্ধ, এ জন্য আইন কিছুটা শিথিল করা আছে। (মোবাইল অডিও থেকে নেওয়া)।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের (কুসিক) মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, যানযট সিটি কর্পোরেশনের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এখানে সমন্নিত প্রয়াস প্রয়োজন। ট্রাপিক পুলিশে যারা আছেন, সাধারণ নাগরিক, চালক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, যারা এ সকল যানবাহনের দায়িত্বে আছেন সবার আন্তরিক হতে হবে। কান্দিরপাড় যেন কলেজ-ভার্সিটির বাস না প্রবেশ করে, সে জন্য পুলিশ লাইন ও টমচমব্রীজ বাস রাখান নির্ধারিত স্থান করে দেবো। এটাতে প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ রাজি হচ্ছে না। সিএসজি অটোর অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বিষয়ে তিনি বলেন, পায়ে চালিত রিক্সা ব্যতিত নগরীতে চলার জন্য অটো বা সিএনজিকে আমরা অনুমোধন দেইনি। জিবির বিষয়ে মেয়র বলেন, এটা আমার ও প্রশ্ন কে বা কারা কেন টাকা নিবে? আমরা টাকা নেওয়ার জন্য কাউকে দায়িত্ব দেইনি। রিক্সা ভাড়ার বিষয়ে নগর প্রদান বলেন, ভাড়া নির্ধারণ করে দিলে এটা কার্যকর হয় না। যাত্রীরাও সচেতন হতে হবে এবং প্রশাসনের ও সহযোগীতা লাগবে।

নগরীতে অতিরিক্ত ভাড়া ও যানযট বিষয়ে গত ফেবুয়ারি মাসে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনে দীর্ঘ দিনের এ অভিযোগ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্শন করে বলেন, অটো বন্ধ করেছেন ভালো কথা। এর বিকল্প কী করেছেন? মানুষ ৫ টাকা দিয়ে যে স্থানে যাতায়াত করতে পারতো, সেটা রিক্সায় ২০-৩০ টাকা। সিটি কর্পোরেশন প্রতিনিধি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানাবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: