শিরোনাম
◈ ক্ষমতার পতন ও অপেক্ষার মিষ্টি ফল-মহসীন ভূঁইয়া ◈ নাঙ্গলকোটে দুই গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান রাস্তাকে খাল বানিয়ে নিরুদ্দেশ ঠিকাদার! ◈ নাঙ্গলকোটের তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের টিম ◈ নাঙ্গলকোটে শত বছরের পানি চলাচলের ড্রেন বন্ধ ,বাড়িঘর ভেঙ্গে ২’শ গাছ নষ্টের আশংকা ◈ পদ্মা সেতুর রেল সংযোগে খরচ বাড়লো ৪ হাজার কোটি টাকা ◈ অরুণাচল সীমান্তে বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান! চীন-ভারত সংঘাতের আশঙ্কা ◈ কুমিল্লার বিশ্বরোডে হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ইউলুপ- লোটাস কামাল ◈ দুই মামলায়খালেদার জামিন আবেদনের শুনানি আজ ◈ মাদকবিরোধী অভিযানএক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১১ ◈ নাঙ্গলকোটে চলবে ৩ দিন ব্যাপী মাটি পরীক্ষা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তাহীনতায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা

১৩ মে ২০১৮, ১১:৪৮:৪৫

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শাখা ছাত্রলীগের রোষাণলে পড়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইতিমধ্যে শাখা ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছেন। ফলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা এমনও অভিযোগ করেছেন যে, এই সুযোগে ব্যক্তি আক্রোশ মেটাচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

তবে শাখা ছাত্রলীগের দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করায় এক শিক্ষার্থীকে উত্তম মধ্যম দেয়া হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১০ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে কোটা আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে ইংরেজি বিভাগের ১০ম ব্যাচের ছাত্র আশরাফুল সৌরভকে মারধর করে শাখা ছাত্রলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক আহমেদ আলী বোখারী (আইসিটি বিভাগ); উপ-সমাজবিষয়ক সম্পাদক মুনতাসির আহমেদ হৃদয় (এআইএস বিভাগ); সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহুল হক শান্ত (পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ); উপ-মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ (লোক প্রশাসন বিভাগ); চাই মং মারমা (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ); জুনায়েদ জুনু ও আহসান হাবিব জয় (এআইএস বিভাগ); মো: মাসুম (ফার্মেসি বিভাগ)-সহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।

এসময় শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের থামানোর চেষ্টা করলেও আক্রমণকারীরা নিবৃত হয়নি। পরে আহত সৌরভকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়।

মারধরে থাকা উল্লেখিত প্রথম দুইজন (আহমেদ আলী বোখারী ও মুনতাসির আহমেদ হৃদয়) মারধরের অভিযোগে শাখা ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। বুধবার (৯ মে) তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের একদিন না যেতেই আবারো উচ্ছৃঙ্খল হয়ে ওঠে তারা।

এদিকে মারধরে থাকা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দাবি করেন, ‘ওই ছেলে (সৌরভ) প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি করেছে এবং সে শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত। তাই আমরা তাকে মেরেছি। এর সাথে কোটা আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।’

তবে মারধরের শিকার আশরাফুল সৌরভ তার সাথে শিবিরের সম্পৃক্ততাকে মিথ্যা ও বানোয়াট মন্তব্য করে বলেন, ‘কোটা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত থাকাতেই তারা আমাকে মারধর করেছে। আমি কখনো শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত ছিলাম না। বরং ছাত্রীগের বিভিন্ন প্রোগ্রাম হলে নিজে থাকার চেষ্টা করি। ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জাহিদ জুয়েল ভাইয়ের সাথে ওঠা বসা হয়। এ অবস্থায় আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

জানা যায়, চলমান কোটা আন্দোলনের শুরুতে শাখা ছাত্রলীগ আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করলেও পরবর্তীতে তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (০৯ মে) কেন্দ্র ঘোষিত মানববন্ধনের অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করতে বাধা দেয় শাখা ছাত্রলীগের উচ্চ-পর্যায়ের কয়েকজন নেতা।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ মানবন্ধনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দিলে আমরা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করা থেকে সরে আসতে বাধ্য হই।’

এছাড়াও গত ১২ এপ্রিল কোটা আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে এর বিপক্ষে ফেসবুকে হুমকি দেন শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ। ফলে ওইদিন সংবাদ সম্মেলন ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ জানান, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনে সম্পৃক্ত আমাদের দুজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মেরেছে, যা খুবই দুঃখজনক। আমাদের এই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যসহ প্রশাসনের সকলে একাত্মতা পোষণ করেছে। এ অবস্থায় শাখা ছাত্রলীগের এমন আচরণে আমাদের নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের জড়িত থাকায় দুই শিক্ষার্থীকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মারধরের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় আমার ভাইদের উপর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সেটা না করা হলে বাংলার ছাত্রসমাজ বসে থাকবে না।’

এসব বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ জানান, ‘আমরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিপক্ষে নই। তবে আন্দোলনের নামে ক্যাম্পাসে জামাত-শিবিরের কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবেনা। যাদেরকে মেরেছে শুনেছি তারা শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত। চলমান আন্দোলনে বিভিন্ন সময়ে তারা প্রধানমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী, ছাত্রলীগ নেত্রী এশাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছে।’

এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদ বলেন, ‘মারধরের শিকার কেউই কোটা আন্দোলনকারী নয়। এরা শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত। এদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা আমি শুনেছি। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবো।’

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: