‘কুমিল্লা-১০আসনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি তৃণমূলের প্রত্যাশা’ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

‘কুমিল্লা-১০আসনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি তৃণমূলের প্রত্যাশা’

5 June 2020, 10:20:44

‘কুমিল্লা-১০আসনে ঐক্যবদ্ধ বিএনপি তৃণমূলের প্রত্যাশা’

কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসনটি ছিলো মূলত নাঙ্গলকোট উপজেলা কে কেন্দ্র করে। নাঙ্গলকোট উপজেলা হয় ১৯৮৩ সনে, এর পূর্বে তা লাকসাম ও চৌদ্দগ্রামের অংশ ছিলো।২০০৮সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আসনটির সাথে সদর দক্ষিণ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন যোগ করা হয়, পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পূর্বে সমগ্র সদর দক্ষিণ উপজেলা কে অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া হয় কুমিল্লা-১০আসনে।

কুমিল্লা-১০ আসনটি এক সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঘাঁটি ছিলো। এখনো তৃণমূলে দলের ব্যাপক সমর্থক আছে তবে সাংগঠনিক অবস্থা জাতীয় পার্টির পর্য়ায়ে বলা চলে, অদূর ভবিষ্যতে তা আরও খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অনেকে সাংগঠনিক এই অবস্থার জন্য আব্দুল গফুর ভূইয়া এবং মোবাশ্বের আলম ভূইয়া কে দায়ী করে কিংবা দোষারোপ করে যদিও আমি তা মনে করিনা। দুই ভূইয়াকে একক ভাবে দায়ী না করার অন্যতম কারণ ২টি।
প্রথম কারণ হচ্ছে দুই ভূইয়ার পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বন্ধন ছিলো অত্যন্ত দৃঢ় ও মজবুত। পরবর্তীতে আব্দুল গফুর ভূইয়ার সাথে মোবাশ্বের আলম ভূইয়ার সম্পর্কে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপে সম্পর্ক ক্রমেই খারাপ থেকে খারাপের দিকে যায়। এর জন্য দায়ী কিছু অতিউৎসাহী চাটুকার, সুবিধাবাদী চালবাজ। এরাই দুই ভূইয়াকে তাদের পারস্পরিক সুসম্পর্ক ও সম্মানবোধ থেকে শত্রুতে পরিণত করে যার ফলাফল কুমিল্লা-১০ আসনে আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক দূরাবস্থা। বিএনপি কে ধ্বংস ও সাংগঠনিক অবস্থা কে নষ্ট করার জন্য দায়ী মূলত ২ প্রজাতির ষড়যন্ত্রকারী।
প্রথম প্রজাতির অধিকাংশই ২০০১-৬ ক্ষমতা ভোগ করে এখন আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেছে আর
দ্বিতীয় প্রজাতির দুষ্টচক্র আবার ৩টি ধাপে বিভক্ত। ১. কিছু অংশ এখন নিরব, ২. কিছু অংশ দুই ভূইয়ার আগুনে এখনো নিয়ম করে ঘি ঢালে তাজা থাকার জন্য ৩.বাকি অংশ এখন তৃতীয় শক্তির ধারক ও বাহক।

আবার আসি দ্বিতীয় কারণে,এই অংশে নাঙ্গলকোট বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ধ্বংস কারার অন্যতম কারিগর আবার দুই শ্রেনী।
প্রথমটি হচ্ছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির তৎকালীন নেতৃবৃন্দ। এরা বিএনপি থেকে শুরু প্রতিটি অঙ্গসংগঠনকে বিভক্ত করেছে কমিটি কমিটি নাটকে অংশ নিয়ে।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কুমিল্লা জেলার সাংগঠনিক দায়িত্বশীলরা । এ অংশ ব্যাপকভাবে অর্থলোভী, তাদের ব্যাক্তিগত পকেট ভারী করতে গিয়ে দলের সাংগঠনিক গ্রুপিং মিমাংসা না করে উল্টো ঘি ঢেলেছেন। এটা শুধুমাত্র কুমিল্লা-১০ কে বিভাজনে বিভক্ত করেছে তা নয় বরং অনেক সংসদীয় আসন যে গুলো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ঘাঁটি ছিলো। তাদের অর্থলোভী কর্মকাণ্ডে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম পঙ্গু বলা চলে।
অথচ বিএনপি থেকে কম সমর্থন নিয়েও সাংগঠনিক শক্তির কারণে কুমিল্লা-১০ আসনে আওয়ামী লীগ ব্যাপক শক্তিশালী। বিএনপির সাংগঠনিক ব্যার্থতার পূর্ণ সুযোগ নিচ্ছে আওয়ামী লীগ।
এই অবস্থায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তৃণমূলের নেতাকর্মী, সমার্থবৃন্দ তাকিয়ে আছেন দলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান এবং বিএনপির চেয়ারপার্সন আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপের দিকে। তাদের বিশ্বাস বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কিংবা বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাক্তিগত উদ্যোগে আব্দুল গফুর ভূইয়া এবং মোবাশ্বের আলম ভূইয়াকে নিয়ে মুখোমুখি বসে সমস্যাটি নিরসন করে দিবেন। তৃণমূলের অধিকাংশ এখনো স্বপ্ন দেখে দুই ভূইয়ার ঝামেলা মিটে গেলে চাটুকার, সুবিধাবাদী, তেলবাজ ও ষড়যন্ত্রকারী শক্তি পরাজিত হতো। তবেই গ্রুপিং মুক্ত হয়ে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থা আবারো তৈরি হবে কুমিল্লা-১০ তথা নাঙ্গলকোট উপজেলায়।

লেখক, মোঃ জোবায়ের হোসেন তুহিন
ছাত্রনেতা

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য:

x