কেউ কি আমাকে বলবেন? | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

কেউ কি আমাকে বলবেন?

29 April 2014, 4:57:54

Dr.-Md.-Jafar-Iqbal31

পরশু দিন আমাকে একটা মেয়ে ফোন করেছে, সে এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মেয়েটি খুবই বিচলিত; কারণ সে জানতে পেরেছে পদার্থ বিজ্ঞানের প্রশ্ন ফাঁস হয়ে গেছে। মেয়েটি বলল, ‌‌‌ ‌“আমরা এত কষ্ট করে পড়াশোনা করি আর কিছু মানুষ বাজার থেকে প্রশ্ন কিনে এনে পরীক্ষা দেয়! পরীক্ষায় ভালো করে, ভালো জায়গায় সুযোগ পায়! তাহলে এটাই কি নিয়ম, এই দেশটা দুবৃর্ত্তদের? আমরা কিছু না?”

আমি মেয়েটাকে সান্ত্বনা দিলাম। বললাম, “শিক্ষামন্ত্রী যেটা বলেছেন সেটাই নিশ্চয়ই সত্যি। আসলে প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে বলে ঠোকা দিয়ে কিছু ছাত্রছাত্রীকে ঠকিয়ে কিছু মানুষ টাকা কামিয়ে নেয়। পরীক্ষা হয়ে যাবার পর সেই প্রশ্নটি দেখিয়ে হইচই করে।”

মেয়েটি বলল, “আমার কাছে যে প্রশ্ন আছে আমি আপনাকে এখনই পাঠিয়ে দিই। দুদিন পর পরীক্ষা হয়ে গেলে আপনি মিলিয়ে নেবেন।”

P_3

আমি বললাম, ‘‘ঠিক আছে।’’

মেয়েটি সঙ্গে সঙ্গে আমাকে হাতে লেখা কিছু প্রশ্ন পাঠিয়ে দিল।

আজকে পরীক্ষা ছিল। সকাল থেকে আমি মনে মনে দোয়া করছি যেন প্রশ্নগুলো মিলে না যায়। আমি মেয়েটিকে বলতে পারব, “দেখেছ, আসলে প্রশ্ন ফাঁস হয় না।”

দুপুরে মেয়েটি ফোন করে জানিয়েছে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন মিলে গেছে, আমাকে এক কপি প্রশ্ন পাঠিয়েছে।

আমি পরীক্ষার প্রশ্ন আর দুদিন আগে পাওয়া হাতে লেখা প্রশ্ন একসঙ্গে করে দিয়ে দিচ্ছি, কেউ বিশ্বাস না করলে নিজের চোখে দেখতে পাবেন। আমার ই-মেইলের তারিখ আর সময়টিও যুক্ত করে দিলাম। মেয়েটির ই-মেইল অ্যাড্রেস সরিয়ে দিলাম যেন সে আবার উটকো ঝামেলায় না পড়ে।

মেয়েটি আমাকে বলেছে, ‌‌‌‌‌‌“স্যার, কিছু একটা করেন।”

কেউ কি আমাকে বলতে পারবে আমি কী করব? এই দেশের তরুণ ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করে আমাদের দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, আমরা সেটা নিয়ে কত স্বপ্ন দেখি। আমাদের ছেলেমেয়েরা এই স্বপ্ন ধারণ করে লেখাপড়া করে। তারপর দেখা যায় এই দেশের সরকার একটা পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা দিতে পারে না। আমি বিশ্বাস করতে রাজি নই যে আন্তরিকভাবে চাইলে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়া সম্ভব।

আমি যে মেয়েটির কথা বলেছি সে আমাকে ফোন করার আগে পাগলের মতো সব জায়গায় ফোন করে তার অভিজ্ঞতাটি জানাতে চেষ্টা করেছে, কেউ শুনতে রাজি হয়নি।

একটি সমস্যা না দেখার ভান করলেই কি সমস্যাটা মিটে যায়? সমস্যা মিটাতে চাইলে সেটাকে সবার আগে স্বীকার করতে হয়। দেশের সর্বোচ্চ মহল এই সমস্যাটা স্বীকার করতেই রাজি নয়। তাহলে সমস্যাটার সমাধান হবে কেমন করে?

এই দেশের ছেলেমেয়েদের আমরা নূতন জীবনের স্বপ্ন দেখাতে চাই। ভয়ংকরভাবে শুদ্ধ এই হতাশ ছেলেমেয়েগুলোকে আমরা কেমন করে স্বপ্ন দেখাব?

চয়ন এর মতামত।

ছোটবেলা থেকেই ভয়ংকর রকমভাবে যে কোনোভাবে ‘প্রথম হওয়া’র প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে বড় হয় এদেশের ছাত্রছাত্রীরা। কারিকুলামের বইপত্রের লেখা ছাড়া নৈতিক কোনো বিষয়ে স্কুল-কলেজে শিক্ষাদানের ব্যাপার নেই বললেই চলে। প্রতি বছর এই দেশ থেকে শত শত মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো ভালো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চলে যায়। যাদের অনেকেই আর দেশে ফেরে না। শেষ পর্যন্ত দেশে থাকছে কারা? শিক্ষাসহ আরও বড় বড় ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয় যেসব মন্ত্রীরা, তাদেরই-বা যোগ্যতা কতটুকু?

আমরা বড় বড় কথাই বলি শুধু। জাতিগত কোনো মৌলিক গুণ আমাদের আছে কি? যে দেশে ‘দেশপ্রেম’ দেখানোটাও একটা বাণিজ্যের পর্যায়ে চলে গেছে, সেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চিন্তা করার মানুষ ক’জন আছে?

হাজারের বেশি শ্রমিক মারা যাওয়ার পর যেখানে কারও কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না, প্রশ্নপত্র ফাঁস তো সেখানে খুবই তুচ্ছ ঘটনা! তার চেয়ে বরং সবাই প্রবাসী শ্রমিক হয়ে যাই।

লেখাপড়া করে বড় হওয়া সব জাতির জন্য নয়। যেই দেশের সরকার আর তাদের সব ‘ব্যবস্থা’ নিয়ে বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে হতাশ হয়ে তামাশা করা ছাড়া আর কিছু বলার মুখ থাকে না, সেই দেশের সরকারকে, রাজনৈতিক নীতিনির্ধারক আর তাদের সমর্থকদের জন্য মনের একেবারে গভীর থেকে ঘৃণা ছাড়া আর কিছু বের হয় না।

 

সবার মতামত কামনা করা হলো।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: