“কেন আমরা রোযা রাখব” | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা ◈ কুমিল্লায় বিপুল ইয়াবাসহ দম্পতি আটক!
প্রচ্ছদ / ধর্ম / বিস্তারিত

“কেন আমরা রোযা রাখব”

24 June 2014, 4:31:59

আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জাতের দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া যিনি আমাদের কে সৃষ্টি জগতের সেরা সৃষ্টি জীব মানুষ হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। তার সাথে সাথে দুরুদ ও সালাম প্রেরন করছি সেই আল্লাহর প্রিয় হাবিবের নিকট যাহাকে সৃষ্টি না করলে এই পৃথিবীই সৃষ্টি করতেন না। আজকে আমার লেখার বিষয় হলো “কেন আমরা রোযা রাখব” সম্মানীত পাঠক বৃন্দ মুসলমান হিসেবে যদি আমি নিজেকে দাবী করি তাহলে মনগড়া চলার কোন সুযোগ নেই। কোরআন, হাদিসের যেই বিধান সেই বিধান আপনাকে মেনে চলতে হবে। আর যদি আপনি মনে করেন, না আমি আমার মনগড়া মত চলব, তাহলে চলতে পারবেন, কোন সমস্যা নেই। তবে মনে রাখবেন এর পরিনতি আপনার ভাল হবে না। দুনিয়াতে ও ভাল হবে না আখেরাতেও ভালহবেনা। কুরআন, হাদিসের বিধানের মধ্যে রোযা ও একটি বিধান। নিজেকে মুসলমান দাবী করলে রোযা আপনাকে রাখতেই হবে। এখানে কোন তালবাহানা চলবেনা।

 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেখা যায় রোযা না রাখার জন্য অনেকেই বাহানা ধরে। যেমন ডায়াবেটিস, পেটব্যাথা, হাপানী, পেসার, লপেসার ইত্যাদি । আপনি মন কে শক্ত করে দৃঢ় প্রত্যয় নেন যে, আমি মরে গেলেও রোযা ছেড়ে দেব না। তাহলে দেখবেন যত কঠিনই হোক না কেন তা সহজ হয়ে যাবে। (ইনশাআল্লাহ) কোন এক লোক বলেছিলেন রোযা অবস্থায় আমি মরে গেলেও রোযা ছেড়ে দেব না, তোমরা আমার মুখে পানি দিওনা (সুবহানাল্লাহ)। আমরা ১১ মাস দিনের বেলায় পানাহার করি, আর একটি মাস দিনের বেলায় আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত পানাহার নিষেধ করেছেন, এর পিছনে রহস্য কি? আল্লাহর হেকমত কি? চিন্তা গবেষনা করে দেখলাম আমাদের ভাল জন্যই আল্লাহ পাক ১২ মাসের মধ্যে মাত্র একটি মাস রোযাকে ফরয করেছেন। হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন নবী করিম (সাঃ) বলেছেন তোমরা রোযা রাখো তাহলে তোমরা সুস্থ থাকবে (তাবারানী)।

 

রোযার ব্যাপারে বিজ্ঞানের অভিমত কি?

আলেক জ্যান্ডার দ্যা গ্রেট এবং এরিষ্টটল এই দু’জনই ছিলেন গ্রীসের অধিবাসী, নিজ নিজ ক্ষেত্রে তারা বিশ্ব বিখ্যাত তারা মাঝে মধ্যে ক্ষুর্ধাত বা উপবাস থাকাকে দেহের সুস্থতা সবলতার জন্যে খুবই প্রয়োজনীয় বলে মনে করতেন।

আলেক জ্যান্ডার দ্যা গ্রেট বলেন, আমার জীবন অনেক ব্যতিক্রমধর্মী অভিজ্ঞতা এবং ঘটনা দূর্ঘটনার মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। যে ব্যক্তি সকাল সন্ধায় দু বেলা আহার করে সে রোগ মুক্ত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারে। আমি ভারতে এরকম প্রচন্ড উষ্ণ এলাকা দেখেছি, যেখানে সবুজ গাছপালা খরতাপে পুড়ে গেছে, কিন্তু সেই তীব্র গরমের মধ্যেও আমি সকালে এবং বিকালে দু বেলা খেয়েছি। সারা দিন কোন প্রকার পানাহার করিনি। এর ফলে আমি নিজের ভেতর অনুভব করছি, এক ধরনের নতুন সজীবতা এবং অফুরন্ত প্রান শক্তি। ওরা মুসলমান না হয়ে যদি রোযা সম্পর্কে এত সুন্দর কথা বলতে পারে, তাহলে আমরা মুসলমান হয়ে কেন রোযা রাখবনা।

রোযা রাখলে এক কাজে দুই কাজ, এক আপনী আল্লাহর হুকুম পালন করলেন, আমল নামায় ছোয়াব লেখা হবে। দুই আপনি শারীরিক ভাবে অনেক সুস্থ হয়ে যাবেন। হতে পারে এই রোযার ওছিলায় অনেক কঠিন রোগ ভাল হয়ে গেছে (ছুবহানাল্লাহ)।

 

মহাত্বা গান্ধীর ইচ্ছা ঃ মহাত্বা গান্ধীর উপোস থাকার ঘটনা সর্বজনবিদিত। ফিরোজ রাজ লিখিত গান্ধী জীবনে একথা লেখা রয়েছে যে, তিনি রোযা রাখা পছন্দ করতেন। তিনি বলতেন মানুষ খাবার খেয়ে নিজের দেহ ভারি করে ফেলে। এর ভারি অলস দেহ দুনিয়ার কোন কাজে লাগে না। যদি তোমরা তোমাদের দেহ সবল এবং কর্মক্ষম রাখতে চাও তবে দেহকে কম খাবার দাও। তোমরা উপোস থাকো। সারাদিন জপতপ করো আর সন্ধ্যায় বকরির দুধ দিয়ে উপবাস ভঙ্গ কর।

আমার এক বন্ধু বলেছেন ঃআমি ফ্রান্স গিয়েছিলাম, তখন ছিলো রমযান মাস। আমাকে রোযা রাখতে হবে, তারাবীহ আদায় করতে হবে। আমার প্রফেসরকে আমি বললাম আমাকে এক মাসের ছুটি দিন। তিনি বললেন কেন ছুটি নেবে ? আমি বললাম আমাকে প্রতিদিন আসা যাওয়া করা সম্ভব হবে না। তিনি বললেন এখানে কাছাকাছি একটি জায়গার কথা আমি তোমাকে বলে দিচ্ছি। তারপর তিনি আমাকে একটি জায়গায় নিয়ে গেলেন। আমি দেখলাম যাদের কাছে আমাকে নেয়া হয়েছে তাদের প্রায় সকলেই মুখে দাড়ি, মাথায় পাগড়ি, পরিধানে জোব্বা। কেউ মেসওয়াক করছে, কেউ ওযু করছে, কেউ আযান দিচ্ছে, কেউ নামায আদায় করছে। একজন কুরআন পাঠ করছে অন্য কয়েকজন মনোযোগ দিয়ে শুনছে। তারা সবাই রমজানে রোযা পালন করছে। রমযানের শেষ দিকে ইফতার করছে। তারা শেষ রাতে ও সন্ধায় নিয়মতো সেহরী ও ইফতার করে। আমি তাদের সাথে সেখানে রমযানের সকল এবাদত বন্দেগী পালন করলাম। আমি আমার প্রফেসরকে ধন্যবাদ দিয়ে বললাম, আপনি আমাকে এমন লোকদের সঙ্গে নিয়ে গেছেন যাদের সংস্পর্শে থেকে আমার রমজান মাস ভালই কেটেছে। প্রফেসর আামর কথা শুনে হাসলেন। আমি তার হাসির কারন জানতে চাইলে তিনি বললেন, তুমি কি জান ওরা কারা? ওরা সবাই ইহুদী। তাহলে এই অবস্থা কেন? তখন জনাব প্রফেসার বললেন তারা একটি প্রকল্পের অধীনে কাজ করছে ।

 

তাদের বক্তব্য হচ্ছে –

মুসলমানরা এক মাস রোযা পালন করে। আমরা ও এক মাস পালন করে দেখি ইসলামের বিধান অনুসরনে কী কী উপকারিতা রয়েছে। যদি কল্যানকর কিছু পাওয়া যায় তাহলে আমরা ইসলাম গ্রহন করে মুসলমান হয়ে যাবো।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্ময় ঃ

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র প্রফেসর মোরপান্ড বলেছেন, আমি ইসলাম সম্পর্কে মোটামোটি লেখাপড়া করার চেষ্টা করেছি। রোযা অধ্যায়ে লেখাপড়া করার সময়ে আমি খুবই মুগ্ধ ও অভিভূত হয়েছি। চিন্তা করেছি ইসলাম তার অনুসারীদের জন্যে এক মহান ফর্মূলা দিয়েছে। ইসলাম যদি তার অনুসারীদের অন্য কোন বিধান না দিয়ে শুধু এ রোযাই দিতো তবু এর চেয়ে বড় নেয়ামত আর কিছুই হতে পারে না।

বিষয়টি নিয়ে আমি একটু গভীর ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার চিন্তা করলাম। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতার জন্যে আমি মুসলমানদের নিয়মে রোযা পালন করতে শুরু করি। দীর্ঘদিন যাবত আমি পাকস্থলীর গোল মালে ভুগছিলাম। রোযা রাখার কয়েক দিনের মধ্যেই আমি বেশ সুস্থবোধ করতে শুরু করলাম। দেখলাম রোগ অনেকটাই কমে গেছে। আমি রোযা চালিয়ে যেতে লাগলাম। এতে দেহে আরো কিছু পরিবর্তন অনুভব করলাম। কিছু দিন পর লক্ষ করলাম আমি সর্ম্পূন সুস্থ্য হয়ে গেছি। এক মাস পরে নিজের মধ্যে আমি আমুল পরিবর্তন অনুভব করলাম।

 

পোপ ঈলপ গল এর অভিজ্ঞতা ঃ পোপ ঈলপ গল ছিলেন পোল্যান্ডের বিশিষ্ট পাদ্রী। রোযা সর্ম্পকে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার বর্ননায় বলেন যারা আমার আধ্যাত্বিক অনুসারী তাদের আমি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখার আদেশ দিচ্ছি। এ পদ্ধতির মাধ্যমে আমি শারীরিক সুস্থতা অনুভব করেছি তা ভাষায় অবর্ননীয়। আমার দেহ অভাবনীয়ভাবে সতেজ হয়ে ওঠেছে। আমার অনুসারীরা আরো কিছু দিক নির্দেশনার জন্যে আমাকে পীড়াপীড়ি করে যে সব রোগের কোন ঔষধ নেই সে সব থেকে আরোগ্য লাভের জন্যে আমি তাদের তিন দিন নয় বরং এক মাস রোযা রাখার পরামর্শ দিয়েছি। যে সব রোগীরা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং পাকস্থলীর অসুস্থ রয়েছে। তাদের জন্যে আমি একমাস রোযা পালনের ব্যবস্থা দিয়েছি। একমাস রোযা রাখার ফলে অনেকের বহুমুত্র বা ডায়াবেটিস রোগ নিরাময় হয়েছে হৃদরোগীদের অস্থিরতা এবং নিঃস্বাস ফুলে যাওয়া কমে গেছে। পাকস্থলীর রোগীদের উপকার হয়েছে সবচেয়ে বেশি।

 

ক্যাম্বিজের ডাক্তার লোথার জিম এর মন্তব্য ঃ

এ ডাক্তার ছিলেন ফার্মাকোলজি বিশেষজ্ঞ। সব কিছু গভীর ভাবে দেখা এবং পর্যালোচনা করা ছিলো তার স্বভাব। তিনি রোযাদার ব্যক্তির খালি পেটের খাদ্য নালীর লালা (স্টোমাক সিক্রেশন) সংগ্রহ করে ল্যাবরেটারিতে পরীক্ষা করেন। এতে তিনি বুঝতে পারেন রোযার মাধ্যমে ফুড পাটিকেলস সেপটিক সম্পূর্ন আরোগ্য হয়ে যায়। পরীক্ষার পর ডাক্তার লোথার মন্তব্য করেছেন, রোযা হচ্ছে দেহের অসুস্থতায় বিশেষত পাকস্থলীর রোগে স্বাস্থ্যের গ্যারান্টি।

 

** পরিশেষ আমি গুনাহগারের পক্ষ থেকে আপনাদের নিকট আকুল আবেদন রইল যদি আমার লেখাটি ভাল লাগে, তাহলে খাছ করে দোয়া করবেন। যেন ভবিষ্যতে আরো ভালভাবে লিখতে পারি। আর যারা রোযা রাখেন না, যদি সম্ভব হয় রোযা রাখার আপ্রান চেষ্টা করবেন। এই প্রত্যাশা রেখে এখানেই ইতির রেখা টানলাম।

অমা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।

 

লেখক

এ.কে. এম.মুহিববুল্লাহ হাশেমী

ফতেহাবাদ মোজাদ্দেদিয়া ছিদ্দিকীয়া খানকা শরীফ

দেবিদ্বার, কুমিল্লা।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: