কেন গোল নেই ফুটবলারদের পায়ে? | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

কেন গোল নেই ফুটবলারদের পায়ে?

8 September 2016, 11:06:54

ভুটান ম্যাচ আরেকবার প্রশ্নটা তুলে দিল—ফুটবলারদের পায়ে গোল নেই কেন?

কারণ অনেক এবং তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই কথা হচ্ছে। কাল আবারও চায়ের কাপে ঝড়। ঘরের মাঠে ভুটানের বিপক্ষে অনেক সুযোগ পেয়েও শাখাওয়াত রনি, নাবিব নেওয়াজ জীবন, সোহেল রানারা গোল করতে পারেননি। তাই এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে খেলা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়ল। ১০ অক্টোবর ভুটানের সঙ্গে ফিরতি ম্যাচে অন্তত ১-১, ২-২ বা ৩-৩ ড্র না করলে আগামী বছর দু-এক আর এএফসির ম্যাচ পাবে না বাংলাদেশ।

বলা যায়, খাদের কিনারেই দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ফুটবল। কিন্তু কেন এই দুরবস্থা? দেশের চার প্রজন্মের চার সেরা স্ট্রাইকার সত্তরের কাজী সালাউদ্দিন, আশির শেখ মোহাম্মদ আসলাম, নব্বইয়ের ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব আর বর্তমান সময়ের জাহিদ হাসান এমিলির ব্যবচ্ছেদে উঠে এসেছে বাস্তব ছবিটা। প্রথম তিনজনের প্রত্যেকেই ঘরোয়া ফুটবলে শতাধিক গোলের মালিক, বর্তমান দুর্দশায় তাঁরা ব্যথিত।

সালাউদ্দিন, আসলাম ও এমিলি একটা জায়গায় একমত—বর্তমান ফুটবলারদের সবাই কমবেশি সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা বাড়তি অনুশীলন করেন না। নকীবের চোখে ঘরোয়া ফুটবলে বিদেশি খেলোয়াড়দের বেশি খেলানোই সর্বনাশের কারণ। ঘরোয়া লিগে শীর্ষ খেলোয়াড়দের পায়ে এ কারণেই গোল নেই, যার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক ম্যাচেও। গত ২০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের গোল টেনেটুনে ১১টি!

স্ট্রাইকার জীবন মৌসুমে ১৭-১৮টি ম্যাচ খেলেও গোলহীন। তাহলে? প্রশ্নটা তুলছেন সালাউদ্দিন, ‘সুযোগের অভাব নয়, সুযোগ করে নিতে হয়।’ তবে সুযোগের অভাবেই বাংলাদেশে ভালো স্ট্রাইকার তৈরি হচ্ছে না বলে বলেন অনেকে। সালাউদ্দিনের এখানেও ঘোর আপত্তি, ‘সত্যিটা হলো আমাদের মানই খারাপ।’

মান ভালো করতে অনুশীলনের বিকল্প নেই। সালাউদ্দিন তো এক নিশ্বাসে বলে গেলেন, ‘প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস আর প্র্যাকটিসই শেষ কথা।’ তবে বাস্তবতা বলছে, বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা অনুশীলন কম করেন। আগে শেখ আসলামরা লম্বা সময় একাকী অনুশীলন করতেন। এখন তা খুব একটা দেখা যায় না। এই কথাটা মনে করিয়ে দিয়ে সালাউদ্দিন যোগ করেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনের পর রোনালদো একা একা অনুশীলন করে। অনুশীলন ছাড়া ভালো ফুটবলার হওয়ার সংক্ষিপ্ত কোনো রাস্তা নেই।’

তবে সব এক পাশে রেখে অনেকের প্রশ্ন, ফেডারেশন ভালো স্ট্রাইকার খুঁজছে না কেন? সালাউদ্দিনের জবাব, ‘পৃথিবীর কোনো ফেডারেশন খেলোয়াড় খোঁজে না। ক্লাবই এটা করে।’ শিশু মেসিকে বার্সেলোনাই আজকের মেসি হিসেবে গড়ে তুলেছে, দিলেন সেই উদাহরণও। বলা বাহুল্য, বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় তৈরির সে রকম উদাহরণ নেই। ক্লাবকে বাধ্য করতে পারে না ফেডারেশন।

দলবদলে খেলোয়াড়েরা সব টাকা একবারে পেয়ে যাচ্ছেন, তাই তাঁরা পরিশ্রম করেন না বলেও অভিযোগ আছে। এটাকে সমস্যা মেনে আগামী বছর থেকে খেলোয়াড়দের বেতন মাসে মাসে দেওয়ার আভাস দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি সালাউদ্দিন। এ রকম কথা অবশ্য আগে বলা হলেও কার্যকর হয়নি। আসলে ক্লাবই এখানে সব। তারা একদিকে স্থানীয় ফুটবলারদের মোটা অঙ্কে কেনে, আবার তঁাদের বসিয়ে রেখে আস্থা রাখে বিদেশিদের ওপর।

বছর তিনেক আগে বিদেশি খেলোয়াড় নিবন্ধন করা যেত সাতজন। বর্তমানে চারজন, খেলতে পারে তিনজন। সালাউদ্দিন অবশ্য এটাকে ক্ষতিকর বলতে রাজি নন, ‘বাংলাদেশ কমিউনিস্ট দেশ নয় যে স্থানীয়দের জন্য কোটা করে দেব। যোগ্যতা দিয়েই স্থানীয়দের জায়গা পেতে হবে দলে।’ ৭০–এর মাঝপথে হংকংয়ে পেশাদার লিগে নিজের খেলার অভিজ্ঞতাও তুলে আনেন, ‘ওখানে তখন বিদেশি নিবন্ধন ছিল ১০ জন, খেলতে পারত পাঁচজন। আমার দল কেরোলিন হিলে চার ব্রিটিশ, তিন জার্মান, দুজন পর্তুগিজ ও আমি ছিলাম। আমি কি ওদের সঙ্গে লড়াই করে খেলিনি?’

এসব যুক্তি মেনেও নকীবের মূল কথা, ‘বিদেশি বেশি হওয়ারই খেসারত দিচ্ছি আমরা। এখন যে করেই হোক বিদেশি খেলোয়াড় কমাতে হবে।’ অথচ সত্যিটা হলো, একসময় রহিমভদের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলে এই নকীবই সেরা গোলদাতা হয়েছেন!

আসলামের চোখে আবার সমস্যাটা অন্য, ‘আমার প্রথম কোচ রহিম ভাই বলেছিলেন, স্ট্রাইকারদের গোল করার পথ চিনতে হয়। আমাদের এখনকার স্ট্রাইকাররা সেটা চেনে না।’ ঘরোয়া লিগে আসলাম পাঁচবারের সেরা গোলদাতা হয়েছেন বিশ্বকাপ খেলা ফুটবলারকে হারিয়েই। তাই নকীবের সঙ্গে দ্বিমত তাঁর, ‘ফুটবলাররা এখন খেলার সুযোগ পেলেও ওদের মান ও দক্ষতার অভাব।’

জাহিদ হাসান এমিলিও আসলামের কথাকে সমর্থন করছেন। তবে তাঁর ক্ষোভ, ‘যারা ভালো পারফর্ম করছে তারা ভুটান ম্যাচের দলে ডাক পায়নি। চারটি গোল করে দলে সবুজ নেই, তৌহিদ, ইব্রাহিমও ভালো করে সুযোগ পায়নি। জাতীয় দলে এখন যে কেউ এসেই খেলে ফেলছে, এটা হতাশার। এমিলির এ কথার সঙ্গে দ্বিমত করার কিছু নেই। তবে বিদেশি ফুটবলার নয়, স্থানীয়দের মান কমে যাওয়াই তাঁর চোখে মূল সমস্যা, ‘এখন ভুটানের সঙ্গে একটা গোল করার লোকও নেই। নাম্বার নাইনে ভালো খেলোয়াড় আসছে না। এটা দুঃখজনক।’

কে জানে, গোলখরার এই দুঃখ কবে ঘুচবে!

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: