কোচিং করলেও টাকা, না করলেও টাকা! | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

কোচিং করলেও টাকা, না করলেও টাকা!

22 October 2014, 4:50:18

আবদুর রহমান: মনোহরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি গাজীউর রহমানের দাপটে চলছে অবৈধ কোচিং বানিজ্য। সরকারি নিয়ম-নীতিকে তোয়াক্কা না করে উপজেলা শিক্ষক সমিতির এ শিক্ষক নেতা ও প্রধান শিক্ষক তার নিজের বিদ্যালয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন বাধ্যতামূলক বিশেষ কোচিংয়ের নামে রমরমা বানিজ্য।

বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণীর সকল শিক্ষার্থীরাই বাধ্যতামূলকভাবে এ কোচিং করতে হবে। আর কোচিং না করলেও ৩’শ থেকে ৫’শ টাকা হারে দিতে হবে সকল শিক্ষার্থীকে।

বুধবার সকালে উপজেলার ঝলম (উ:) ইউনিয়নের বড় কেশতলা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে এ দৃশ্যই দেখা গেছে। শুধু বড় কেশতলা বিদ্যালয় নয় ওই শিক্ষক নেতার দাপটে এ উপজেলার বহু বিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে চলছে কোচিং বানিজ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বড় কেশতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজীউর দীর্ঘদিন থেকে তার মনগড়া ভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন।

নিজেকে সরকার দলীয় লোক হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি দীর্ঘদিন থেকে কোচিং বানিজ্য, বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি করে যাচ্ছেন।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আদেশ অমান্য করে গত পবিত্র রমজান মাসেও বিশেষ ক্লাসের নামে বাধ্যতামুলক কোচিং বানিজ্য চালিয়েছেন তিনি। গত দুই মাস থেকে ফের ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলক কোচিং চালু করে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। কোন অসহায় শিক্ষার্থী অর্থের অভাবে কোচিং করতে না চাইলেও ওই শিক্ষক নেতা ঘোষনা দিয়েছেন কোচিংয়ে কেউ না আশলেও টাকা দিতে হবে।  

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানায়, বাধ্যতামূলক কোচিং ক্লাস না করলে টিসি দিয়ে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ২ মাস থেকে তাদের বিদ্যালয়ের হেড স্যার কোচিং চালু করেছে। ক্লাশ সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত সকলকেই বাধ্যতামূলকভাবে এ কোচিং করতে হবে। আমাদের “কোচিং করলেও টাকা আর, না করলেও টাকা” দিতে হবে।

বাধ্যতামূলক কোচিং নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বড় কেশতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজীউর রহমান। বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষার্থীদের অনুরোধে বিশেষ কোচিং চলছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের এ কোচিং চলে। কোচিং ফি বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি বিষয়ে ১৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। বেশিরভাগ শ্রেণীতে অংক ও ইংরেজী বিষয়ে কোচিং হয়। তিনি দাবি করেন, অনেক শিক্ষার্থী আবার টাকা দিতে পারে না। আবার ম্যানেজিং কমিটির লোকেরা অনেকের টাকা মাফ করে দেন।

ওই শিক্ষক নেতা আরও বলেন, এতোদিন বহু ছাত্র-ছাত্রীর টাকা মওকুফ করেছি। তবে যেহেতু সাংবাদিকরা স্কুলে এসেছে এখন থেকে আর কাউকে ছাড় দেবো না। সবার কাছ থেকে টাকা আদায় করবো।

তবে ওই প্রধান শিক্ষকের এ কথা অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য এ.কে খোকন। তিনি বলেন, আমরা প্রধান শিক্ষককে কোচিংয়ের জন্য কোন অনুরোধ করিনি। তাছাড়া এ বিষয়ে তিনি আমাদের সাথে কোন পরামর্শও করেননি।    

এদিকে নাম প্রকাশ না শর্তে উপজেলার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জানায়, উপজেলা উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থা স্ব-ঘোষিত শিক্ষক সমিতির ২/৩ জন নেতার হাতে বন্ধি। শিক্ষকদের ভোটের মাধ্যমে এরা কেউ নেতা নির্বাচিত হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ তৈয়ব হোসেন বলেন, স্কুল গুলোতে কোচিং বানিজ্য সম্পূর্ন নিষিদ্ধ। কোন শিক্ষক নেতা বা প্রধান শিক্ষক বাধ্যতামূলক কোচিং বানিজ্য করলেও তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা মোরশেদ জানান, সরকার কোচিং বানিজ্য সম্পূর্ন নিষিদ্ধ করেছে। কেউ সরকারের আদেশ অমান্য করলে অব্যশই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাটি তদন্ত করে ওই শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নিদের্শ দিয়েছি।

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: