ক্রিকেটারদের মানসিকতা বদলে রেখেছেন বড় ভূমিকা | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

ক্রিকেটারদের মানসিকতা বদলে রেখেছেন বড় ভূমিকা

7 September 2016, 6:11:48

একসময়ের টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ওয়ালশকে বোলিং কোচ হিসেবে পেল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কিন্তু অসাধারণ সব কোচকে পেয়েছে, এই পর্যন্ত বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় অবদান আছে যাঁদের। সেই কোচদের নিয়ে আমাদের নতুন ধারাবাহিক। চতুর্থ পর্বে আজ থাকছেন মুদাস্‌সার নজর

অস্ট্রেলেশিয়া কাপ এখন আর হয় না। ১৯৮৬ সালে এই অস্ট্রেলেশিয়া কাপের ফাইনালেই ভারতের পেসার চেতন শর্মার বলে বিখ্যাত ছক্কাটি মেরেছিলেন জাভেদ মিয়াঁদাদ। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা এরপর অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র দুবার—১৯৯০ ও ১৯৯৪-তে। চুরানব্বই সালের পর এই প্রতিযোগিতা আর কখনোই আলোর মুখ দেখেনি।
১৯৯০ সালে এই অস্ট্রেলেশিয়া কাপেই খেলেছিল বাংলাদেশ। সেবারই প্রথম ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বাইরের কোনো ক্রিকেট-শক্তির বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান যাচাইয়ের সুযোগ মিলেছিল আমাদের। তাই সে সময়কার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, এর পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের লড়াই এ দেশের ক্রিকেটের জন্য ছিল নতুন এক অভিজ্ঞতা।
শারজার অস্ট্রেলেশিয়া কাপের পরপরই ছিল আমাদের ক্রিকেটের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ আইসিসি ট্রফি। সেবার আইসিসি ট্রফির আয়োজক দেশ ছিল হল্যান্ড। অস্ট্রেলেশিয়া কাপ ও আইসিসি ট্রফির আগে অস্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাজ করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অলরাউন্ডার মুদাস্‌সার নজর। অনেকেই বলেন দীর্ঘ মেয়াদে না থাকতে পারলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের প্রথমবারের মতো আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন মুদাস্‌সরই।
১৯৯০ সালের এপ্রিলে শারজার অস্ট্রেলেশিয়া কাপের সময় থেকেই কাজ শুরু করেছিলেন মুদাস্‌সর। ছিলেন আইসিসি ট্রফি খেলতে হল্যান্ড যাওয়ার আগ পর্যন্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে এই দুই মাস সময়ের মধ্যে মুদাস্‌সার কাজ করেছিলেন মৌলিক কিছু বিষয় নিয়ে। খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিনিময় করেছিলেন নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অমূল্য অভিজ্ঞতা। বিশ্বমানের ফাস্ট বোলিং ও স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে উইকেটে টিকে থাকার বিভিন্ন কৌশল নিয়েও তিনি এ সময় কাজ করেছিলেন।
মুদাস্‌সারের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতি এখনো উজ্জ্বল সে সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেনের, ‘মুদাস্‌সার নজর দারুণ ব্যক্তি। খুব রসিক। তিনি মজা করতে করতেই কাজ করতেন। তবে ছিলেন অসম্ভব পেশাদার। তাঁর সঙ্গে আমরা শারজা ও ঢাকায় কাজ করেছি। প্রতিটি নেট সেশনই ছিল সারা দিনের। দেরি করে আসলে রক্ষে ছিল না। গোটা স্টেডিয়াম তিন-চার চক্কর দেওয়ার পরেই অজুহাত শুনতেন তিনি।’
শুধু পেশাদারি দৃষ্টিভঙ্গির সূচনা করা নয়, গাজী আশরাফ জানালেন, টেকনিকের দিক দিয়েও কতটা নতুন দিগন্তের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন এই কোচ, ‘উইকেটে টিকে থাকার অনুশীলন কত ধরনের হতে পারে, সেটা তাঁর কাছ থেকে শিখেছিলাম। তাঁর নেট সেশনে আউট হওয়া মানেই ছিল সব শেষ। সে দিনের মতো ব্যাটিং শেষ। হাওয়ায় ভাসিয়ে মারা যেত না। হাওয়ায় ভাসালেই বলতেন ,“তুমি তো আউট। ম্যাচে এই জায়গায় ফিল্ডার থাকবে।” তাঁর অধীনে ব্যাট করতে হতো মাটিতে খেলে।’
আশরাফ যোগ করেছেন, ‘লম্বা শটের অনুশীলনও ছিল দারুণ। ওই সময় আস্তে খেললে হবে না। নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক করে দিয়ে বলতেন লক্ষ্যভেদের। যে মাস দুয়েক তিনি বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ছিলেন, অনেক কিছু শিখেছি।’
১৯৯০ সালের আইসিসি ট্রফিতেই জাতীয় দলের হয়ে শেষবারের মতো খেলেছিলেন গাজী আশরাফ। সেবার প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। হল্যান্ডে ইট-সুরকির তৈরি ম্যাটে খেলা হয়েছিল বলে কন্ডিশন ছিল খুব কঠিন। মূল প্রতিযোগিতার আগে ডেনমার্কে গিয়ে এই ধরনের ম্যাটে কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ হয় বাংলাদেশের। আইসিসি ট্রফিতে সেমিফাইনালে উঠেও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে যেতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।
মুদাস্‌সার নজর দলের সঙ্গে হল্যান্ড গেলে ফলটা অন্যরকম হওয়া অসম্ভব কিছু ছিল না বলে আজও বিশ্বাস করেন গাজী আশরাফ, ‘আসলে ওই সময় আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের আর্থিক সংগতিও তেমন ছিল না। তারপরও তাঁরা চেষ্টা করেছিলেন। হল্যান্ডের আইসিসি ট্রফির ম্যাচগুলোর সময় একজন টেকনিক্যাল ব্যক্তির পরামর্শ খুব অনুভব করেছিলাম। সেমিফাইনালে শুরুতেই জিম্বাবুয়ের ৪ উইকেট ফেলে দিয়েও চাপটা ধরে রাখতে পারিনি। এখন খেলোয়াড়েরা বোর্ড থেকে কত কিছু পায়। আমাদের সময় একটা বোলিং মেশিনও আমরা পাইনি।’
মুদাস্‌সারের সঙ্গে অনুশীলন শেষে মাঠেই গোল হয়ে গল্প করার স্মৃতিটা খুব মনে পড়ে গাজী আশরাফের, ‘সেই আড্ডাগুলো খুব মজার ছিল। স্মৃতিকে সেগুলো এখনো নাড়া দেয়। মুদাসসার খুব হাসাতে পারতেন। বিভিন্ন রসিকতা করতেন। আমরা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়তাম। তবে নিয়ম-শৃঙ্খলার ব্যাপারে ছিলেন ততটাই কঠোর।’
খুব অল্প সময়ের জন্য আসলেও মুদাস্‌সার অনেক কিছুই বদলে দিয়েছিলেন এ দেশের ক্রিকেটের। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন তিনি এনে দিয়েছিলেন ক্রিকেটারদের মানসিকতায়। বুঝিয়েছিলেন, ক্রিকেট খেলাটা মাথার ভেতরেও হয়। মাত্র তিন মাস হয়তো তেমন কোনো সময় নয়। তবে যতটুকু অবদান রেখেছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ বাংলাদেশের সেই সময়ের ক্রিকেটাররা।

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: