শিরোনাম
◈ রেজাউল হাসান অন্তর’র রচিত কবিতা— “নবীন কবিতা” ◈ কুমিল্লায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা ◈ চট্রগ্রামে সনাতন সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসবের মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। ◈ নাঙ্গলকোটে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি সহায়ক বই বিতরণ ও কান্সেলিং প্রোগ্রাম ◈ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিন ……পরিকল্পনামন্ত্রী ◈ গুরুত্বপূর্ণ জনবল সংকটে তেরখাদা উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের সেবা কার্যক্রম বিঘ্নত ◈ নড়াইল-১ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী সরোয়ার হোসেন ◈ আ’লীগের ঘাঁটি নড়াইল-১ আসন বিএনপির প্রার্থী বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম দখল নিতে চায় ◈ কাজের মেয়ের প্রতি অমানবিক নির্যাতন’র ফেসবুকে ভাইরাল ◈ মুকুল মজুমদারের সাড়া জাগানো ছোট গল্প “তিতলি”

ক্ষমতার পতন ও অপেক্ষার মিষ্টি ফল-মহসীন ভূঁইয়া

২২ মে ২০১৮, ৪:৪৪:০৯

বিপদের শেষ সীমানায় বিড়াল বাঘের রুপ ধারণ করে, বাচার জন্য নিজের সর্বশক্তি দিয়ে পাল্টা আক্রমণ করে। গ্রামের প্রবাদ আছে, ইটটি মারলে পাটকেল খেতে হয়। বিজ্ঞানের চিরন্তন সত্য, প্রতিটি আঘাতে বা ক্রিয়ার সমান প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ক্রিয়াকারী হয়তো প্রতিক্রিয়ার কথা না ভেবে কাজ করে, নিজে প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুতি নাও রাখতে পারে। এটা তার দাম্ভিকতার পরিচয়। আমরা যারা সাধারণ নাগরিক, নিজেরদের মত করে চলতে পছন্দ করি, সরকারি ব্যয়ের টাকায় চলিনা, সরকার যদি আমাদের নিয়ন্ত্রক হয়ে নিজের বাকশালী ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চায়, বারবার বিভিন্ন ভাবে জনগণকে হয়রানি করে, স্বাধীন রাষ্ট্রের জনগণকে পরাধীনতার শিকল পরিয়ে রাষ্ট্রের গোলাম বা খাচার পাখি বানাতে চায়, জনগণ হয়তো স্বল্প সময়ের জন্য ধোকা খাবে, দীর্ঘকাল নয়। আমি বলছিনা, জনগণ অনেক চালাক। তবে জনতাকে বেশি বোকা ভাবাও ঠিক হবেনা। ইতিহাসের কালে কালে এদেশে অনেক বড় বড় রাজা মহারাজারা ক্ষমতায় এসেছে, ক্ষমতায় বসেছে, শাসন করছে আবার চলেও গেছে। তবে সবার যাওয়া বা ক্ষমতা হারানোর কাল একরকম নয়, অনেক এসেছে সাদরে আর চলে গেছে অনাদরে। বাংলাদেশের ইতিহাসের স্রষ্টা, স্বাধীনতার মহানায়ক ও সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তি হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার আগমন হয়ছিল, একজন মহানায়কের মত করে, তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতা গ্রহণের আগ পর্যন্ত শতভাগ সফল, অথচ এই মহান ব্যক্তি যখনই ক্ষমতার আসন গ্রহণ করলেন, তখন আর আগের অবস্থান ধরে রাখতে পারলেননা, এদেশের ইতিহাসে একটি ভয়ংকর অধ্যায় রচনা হলো, উনার ক্ষমতার ইতি হতে। উনার মৃত্যুর পর তার সহযোদ্ধা মোস্তাক ক্ষমতা নিলো, তাকে বিদায় করছে বাংলার জনগণ। এরপর সায়েম সাহেব এসে বিদায় নিতে হলো। এলেন জিয়াউর রহমান, তাকেও এদেশের জনগণ বিদায় নিতে দেখেছে। তিনি কাছের মানুষের প্রতারণার কারণে রাতের অন্ধাকারে প্রাণ দিয়ে বিদায় নিলেন। এসেছে ইতিহাসে আরেক খলনায়ক হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ, প্রায় নয় বছর বিভিন্ন নাটক আর অভিনয়ের ভিতর দিয়ে ক্ষমতায় ছিল। ভেবেছিল ক্ষমতার ফল চিরস্থায়ী, অথচ তাকেও জনগণে গণআন্দোলনের মাধ্যমে হঠাৎ বিদায় নিতে হলো। এরপর বেগম জিয়া বিভিন্ন সময় তিনবার ক্ষমতায় এসেছে এবং ক্ষমতা হারিয়েছেন। এখন যিনি ক্ষমতায় আছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, তিনিও ৯৬ তে ক্ষমতায় এসে ২০০১ সালে বিদায় নিয়েছিল। পরে আবার ২০০৯ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে এবং আজও টিকে আছেন। আমরা কি মনে করতে পারি ? তিনি আজীবন ক্ষমতায় থাকবে ? তাকে আর কোনদিন ক্ষমতা হারাতে হবেনা ? তিনি হবেন ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি, যিনি চিরস্থায়ী ভাবে বাংলার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকবে। আমি বলবো, “না”। তাকেও বিদায় নিতে হবে আজ অথবা কাল। আমরা জনগণ হলাম ইতিহাসে নীরব সাক্ষী। কত ব্যক্তি এসেছিল, আরো কত আসবে আর যাবে, জনগণ ছিল, আছে এবং থাকবে। কালে কালে রাজার পরিবর্তন হয়েছে, হবে। প্রজা সবসময় সাক্ষী ছিল, আছে এবং থাকবে। অনেক মনকানা মহান ব্যক্তিকে বলতে শুনি, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতা চিরস্থায়ী, আমৃত্যু। যদি তাদের কথা সত্য ধরে নেই, তাহলে তিনি কতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারেন ? আরোও দশ নাকি বিশ বছর ? আচ্ছা ধরলাম বিশ বছর। এরপর কি হবো ? বিদায়তো নিতেই হবে। ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়াটাই হলো ইতিহাস। এই রেকর্ড কেউ ভাঙ্গতে পারেনি,কেউই পারবেনা। সে বঙ্গবন্ধু কন্যা বা অন্য কারো কন্যাই হোক না কেন। যার আগমন হবে, তার বিদায়কাল আসবেই। দেখার বিষয় হলো, বিদায়কাল কেমন হয় ? সেটাকি সুন্দর ফুলের পরসে ? নাকি ইতিহাসের ভয়ংকরী অধ্যায়ের মাধ্যমে ? বয়ষ্ক ব্যক্তিদের বলতে শুনেছি, ক্ষমতার কাল যত দীর্ঘ হয়, বিদায়ী ঘন্টা নাকি ততবেশি ভয়াবহ হয় । আমরা ষোলো কোটি জনগণ সময়ের পরিক্রমায় ভালো আর মন্দের ভিতরে মিলেমিশে আছি থাকবো। তবে ক্ষমতার নায়ক বা নায়িকারা অবশ্যই বিদায় নিবেন, নিতে হবে। দেখায় বিষয় হলো, তাদের বিদায় নেওয়ার ফল জনগণের জন্য কতটা মিষ্টি ও মজাদার হয়। সবাইকে মিষ্টি ফলের জন্য অপেক্ষায় থাকার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

লেখকঃ
মোঃ মহসীন ভূঁইয়া
সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
বাংলাদেশ লেবার

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: