ক্ষুব্ধ, অপমানিত মামুনুল | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

ক্ষুব্ধ, অপমানিত মামুনুল

6 September 2016, 8:46:17

‘জাতীয় দলে বোধ হয় আমার প্রয়োজন ফুরিয়েছে!’ মামুনুল কথাগুলো বলেন আর তাঁর কণ্ঠে দলা পাকিয়ে ওঠে অভিমান। আসল কথাটা তখনো বলেননি তিন বছর ধরে প্রায় নিয়মিত বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক। তবে কী বলতে যাচ্ছেন এই ইঙ্গিতটা ছিল। অবশেষে তাঁর মুখ থেকে সেই ঘোষণাটা বেরোল, যার মধ্যে অভিমান ও অপমান মিলেমিশে একাকার, ‘হঠাৎ করেই মনে হচ্ছে জাতীয় দলে আমার আর কোনো প্রয়োজন নেই। ভুটানের বিপক্ষে স্কোয়াডে কোচ আমাকে রাখছেন না। আমাকে তাঁর প্রয়োজন নেই, সেটা জানিয়ে দিলেই পারতেন। পুরো ব্যাপারটিতেই আমি অপমানিত বোধ করেছি। ভেবে দেখলাম, এমন সময় সরে যাওয়াই ভালো।’
হ্যাঁ, জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে নিলেন মামুনুল ইসলাম। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই। সবাই বিস্মিত হলেও সত্যি, জাতীয় দলে ৭ নম্বর জার্সি পরে আর খেলতে দেখা যাবে না অসাধারণ এই মিডফিল্ডারকে। বছর দু-এক আগেও যাঁকে গোটা দক্ষিণ এশিয়াই প্রায় তর্কাতীতভাবে সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে মেনে নিত।
এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফে ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের দলে জায়গা পাননি। এটি জানতে পেরে ভেবেচিন্তেই জাতীয় দলকে বিদায় বলে দেওয়া। গতকালই বাফুফের কাছে চিঠি দিয়ে দেওয়ার কথা মামুনুলের। ২০০৭ সাল থেকে খেলছেন জাতীয় দলে, ২০১৩ সালে প্রথম অধিনায়কত্ব পান। সেই থেকে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের জার্সি গায়ে খেলেছেন ৫০টিরও বেশি ম্যাচ। দল থেকে বাদ দেওয়ার আগে এমন একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কোচ কথা বলতেই পারতেন। কিন্তু বলেননি। এটাই মামুনুলকে আহত করেছে আরও, ‘মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে আমি চোট পেয়েছিলাম। আমাকে বলা হয়েছিল ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে তুলতে। আমি চোটমুক্ত হতে পরিশ্রম করছিলাম। এত দিন ধরে খেলছি, আলাপ-আলোচনা করেই আমাকে বাদ দেওয়া যেত।’
তবে মামুনুলের অবসর নেওয়া প্রসঙ্গে জাতীয় দলের কোচ টম সেন্টফিটের মতটা ভিন্ন। জাতীয় দলের ক্যাম্প চলার সময় মামুনুলসহ কয়েকজন ফুটবলারের নৌবাহিনীর হয়ে আন্তঃবাহিনী ফুটবলে খেলতে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। বিষয়টিকে মোটেও ভালোভাবে নেননি তিনি, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে জাতীয় দলের চেয়েও একটি সার্ভিস দলের গুরুত্ব মামুনুলের কাছে অনেক বেশি। সে জাতীয় দলের ক্যাম্প চলার সময় সার্ভিসেস দলের হয়ে খেলতে গিয়েছিল। আমি আমার কোচিং ক্যারিয়ারে এমন ঘটনার মুখোমুখি হইনি। শুধু তা-ই নয়, সে ওই ম্যাচ থেকে ফিরেছে চোট নিয়ে। চোটের কারণে সে এক সপ্তাহ অনুশীলন করেনি। সে আমার পরিকল্পনায় ছিল না। তার দল থেকে বাদ পড়ার কারণ এটিই।’
মামুনুলের কপাল পুড়েছে আরেকটি কারণেও। চোটের কারণে মামুনুল মালদ্বীপ খেলতে না যাওয়ায় তাঁর জায়গায় দলে আসেন আরামবাগের মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। মালদ্বীপের বিপক্ষে আবদুল্লাহর খেলা ভালো লেগেছে কোচের।
গত ডিসেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ব্যর্থতার পরপরই জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন মামুনুল। সাফ-ব্যর্থতার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনে তাঁর বিরুদ্ধে। এ জন্য ছয় মাসের জন্য বাফুফে তাঁকে নিষিদ্ধও করে। কিন্তু মাস তিনেক পর গত জুনে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: