খুঁড়িয়ে চলছে খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১৪৫ জনবলের স্থলে আছেন মাত্র ৭৯ জন | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা

খুঁড়িয়ে চলছে খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ১৪৫ জনবলের স্থলে আছেন মাত্র ৭৯ জন

14 July 2017, 9:56:32

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
দক্ষ জনশক্তি তৈরির অন্যতম প্রতিষ্ঠান খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন। এর ওপর রয়েছে জনবল সংকট।
সরেজমিন দেখা যায়, খুলনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তাদের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দক্ষ জনবল তৈরিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। সরকার দেশে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যেশ্যে ১৯৭৭ সালের ১ আগষ্ট নগরীর ফুলবাড়ীগেট এলাকার তেলিগাতিতে ১২.৫১ একর জমির ওপর প্রশিক্ষণ ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসিক ভবন ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাÑ কর্মচারীদের আবাসিক ভবন তৈরি করে। দীর্ঘদিন সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে ভবনগুলি বসবাসের অনুপোযুক্ত হয়ে পড়েছে। এর পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ করছেন।
সূত্রমতে, প্রশিক্ষণকেন্দ্রের বিভিন্ন বিভাগে ফ্রিজ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ওয়েল্ডিং ও ফেব্রিকেশন, প্লাম্বিং ও পাইপ ফিটিংস, জেনারেল ইলেক্ট্রিক্যাল কাজ, মেশিনের যাবতীয় যন্ত্রপাতি পরিচালনা, সাধারণ ও ইলেক্ট্রিক্যাল মেশিন, মেকানিক্যাল ড্রাফটিং ও সিএডি, সিভিল কনস্ট্রাকশন, কাঠের কাজ, অটোমেটিভ কাজগুলি হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। এছাড়াও ১৮ হতে ৩৫ বছর বয়সী ন্যূনতম এসএসসি পাশ শিক্ষার্থীদের গার্মেন্টসের কাজ, মেশিন চালানো, নিয়ন্ত্রণ, সেলাই, কাটিং, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, গ্রাফিকস ডিজাইনসহ অন্যান্য প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দপ্তর সুত্রে জানা যায়, কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ১৯৮৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়। সেই থেকে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৬৫জন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এছাড়া ১৯ জন শিক্ষা সমাপ্ত না করে চলে গেছেন। তবে অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণার্থী হতে হলে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাশ হতে হবে এবং বয়স ১৭ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) প্রধান সহকারী এস এম রফিকুল ইসলাম দৈনিক প্রাক বহির্গমন প্রসঙ্গে বলেন, মাত্র ২শ টাকার বিনিময়ে আমরা বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি । এ কার্যক্রম চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি হতে শুরু হয়েছে। পূর্বে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশিক্ষণ খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট তথা বৃহত্তর খুলনার লোকদের জন্য ছিলো।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতায় সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে প্রশিক্ষণকেন্দ্র হওয়ায় এখন শুধুমাত্র খুলনার লোকদেরই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রাক বহিঃগমন প্রশিক্ষণে বিদেশগামী যাত্রীগণ যে দেশে যাবেন সেই দেশের ভাষা সম্পর্কে ধারণা, নির্ধারিত ফাইটের আগে ও পরে করণীয় এবং আচরণগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মাত্র ৩ দিনের সফল প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরে‌্যার সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
টিটিসি’র ইনস্ট্রাক্টর সৈয়দ শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রাক বহির্গমন প্রশিক্ষণের ফলে বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। তিনি আরো বলেন, রাজস্ব খাতের ১৪৫ জনের স্থলে আছে মাত্র ৭৯ জন। সংকট আছে ৬৬ জন। এছাড়াও জনবল সংকটের কারণে প্রধান সহকারী ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রায়ই এমএলএসএস’র কাজ করতে হয়। তারপরেও চেষ্টা করছি নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও অর্পিত দায়িত্ব সফলতার সাথে সম্পন্ন করার। তবে প্রয়োজনীয় জনবল পেলে আর সমস্যা হবে না। টিটিসি’র তত্ত্বাবধায়ক রবীন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, কেন্দ্রের বিভিন্ন ভবনগুলোর মধ্যে গেস্ট হাউস ১টি, ছাত্রদের বসবাস অনুপযোগী ছাত্রাবাস তিনটি তৃতীয়তলা বিশিষ্ট। বর্তমানে ৩/৪ জন শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, আবাসিক ভবনের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির ২টা ভবনে ১৪টি ইউনিট, তৃতীয় শ্রেণির ১টি ভবনে ৬টি ইউনিট, দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষক ভবন আছে ৪টি যার ইউনিট ৪৬টি এবং মুখ্য প্রশিক্ষক ভবন ১টি যার ইউনিট ৮টি। এছাড়া তিনি জানান, এতো বড় টিটিসি’র জন্য নিরাপত্তা প্রহরী ১০ জনের মাঝে আছে মাত্র ৫জন। ফলে কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধান করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থী মোল্লা জামাল উদ্দিন বলেন, গরীব ঘরের সন্তান আমি। সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ নিতে এসে বাইরে বেশি অর্থ দিয়ে আবাসন সমস্যা মেটাতে হচ্ছে। অথচ আমাদের ছাত্রাবাস রয়েছে ৩টি। সেখানে বসবাস করতে গেলে জীবনহানীর মতো ঘটনা ঘটতে পারে তাইতো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ে থাকছি। টিটিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং প্রশিক্ষণার্থীরা কেন্দ্রের সমস্যা দূর করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং ভবনগুলো মেরামত করে বসবাসের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: