খুলনায় মাদক বিরোধী অভিযানে ধরা পড়েছে খুচরা বিক্রেতা ও বহনকারীরা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

খুলনায় মাদক বিরোধী অভিযানে ধরা পড়েছে খুচরা বিক্রেতা ও বহনকারীরা

14 July 2017, 9:51:23

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:
খুলনা মহানগরীতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সময় অভিযানে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের অধিকাংশই খুচরা বিক্রেতা ও বহনকারী। আমদানিকারকরা বরাবরের মতোই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাদের ধারে কাছেও পুলিশ, র‌্যাব অথবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা যেতে পারেননি। অপরদিকে নগরীতে মাদকের ডিলারদের সাথে পুলিশ ও নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসূত্র থাকায় সঠিক স্থান নির্ধারণ করতে পারছেনা অভিযানকারী দল। পূর্বেই ডিলারদের কাছে খবর পৌঁছে যায় বলে অভিযানে অংশ নেয়া অনেক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বলছে জনবল ও যানবাহন সংকটের কারনে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে অভিযান।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি দু’মাসে ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিল উদ্ধার ও বেশ কিছু আসামি গ্রেফতার হয়েছে। নগরীর ৮টি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ২শ’ ৫০-এর অধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তারা আরও জানান, মাদকের মামলার কোটা পূরণে ওই সব অসাধু কর্মকর্তারা ডিলারদের সহায়তা নিয়ে থাকেন। কৌশলে তারা খুচরা বিক্রেতাদের সামান্য পরিমানে মাদকসহ ধরিয়ে দেন। এতে করে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চোখে ওই সব কর্মকর্তারা চৌকস অফিসার হিসেবে গণ্য হন, অপর দিকে মাদকের ডিলারদের কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে তারা আরাম আয়েশে জীবন-যাপন করছেন।
খুলনার আদালতের বিভিন্ন মামলার রায় ও নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মহানগরীসহ খুলনা জেলার শতকরা ৯০ ভাগ মামলার আসামিরা খুচরা বিক্রেতা ও বহনকারী। মাদক মামলার ৪৫ ভাগ আসামি নারী, ৩০ ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ, ১৫ ভাগ কিশোর/কিশোরী ও ৫ ভাগ শিশু। এছাড়া শতকরা মাত্র ১০ ভাগ মামলায় মাঝারী ডিলার প্রকৃতির মাদক বিক্রেতা রয়েছে।
পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, মাদকসহ হাতে নাতে গ্রেফতার হওয়া আসামির স্বীকারোক্তিমতে ডিলারদের আসামি করা হলেও তারা শেষ পর্যন্ত বিচারের আওতায় আসে না। আইনের নানা ফাঁক ফোঁকর দিয়ে তারা মামলা থেকে রেহাই পেয়ে যায়। তাছাড়া অল্প পুঁজিতে অধিক লাভের এ ব্যবসা থেকে আয় হওয়া প্রচুর টাকার মধ্যে একটি বড় অংশ ব্যবসা টিকিয়ে রাখার পেছনে ব্যয় করেন তারা।
এছাড়া নগরীতে মাদকের অধিকাংশ ডিলার রাজনৈতিক ছত্র-ছায়ায় নিজেদেরকে জড়িয়ে রেখে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কাছে সাদা মানুষ নিজেকে প্রকাশ করেন। প্রশাসনের তালিকায় নগরীতে এ ধরনের বেশ কয়েকজনের নাম থাকলেও প্রমানের অভাবে তাদেরকে ধরা যাচ্ছে না বলেও ওই সূত্রটি জানান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সদর ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক আহসান হাবীব জানান, ডিলারদের নাম ঠিকানা আমাদের গোয়েন্দা তথ্যে থাকা সত্ত্বেও তাদের প্রমানের অভাবে ধরা যাচ্ছে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, জনবল ও যানবাহন সংকটের কারনে অভিযান ব্যাহত হয়। তিনি জানান, সদর ‘ক’ সার্কেলে মাত্র ৪ জন ও ‘খ’ সার্কেলে ৫ জন সদস্য রয়েছে। এ ছাড়া গোয়েন্দা ও এবং দু’টি সার্কেলের জন্য মাত্র ১টি গাড়ি রয়েছে। বিদ্ধমান জনবল ও যানবাহন দিয়েই তাদের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
চলতি বছরের গত ৯ মার্চ থেকে খুলনা মহানগরীতে মাদকের বিরুদ্ধে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চলে। কিন্তু ওই অভিযানকে অব্যাহত রেখেছেন নগরীর থানা পুলিশ, ডিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। কেএমপি কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝির নির্দেশনা মতে পুলিশ মাদক ও জঙ্গি বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় কেএমপি’র অধিকাংশ থানায় মাদক বিক্রেতাদের ওপরে পুলিশী চাপ শুরু হয়।
এ বিষয়ে কেএমপি কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি বলেন, কেএমপি’র প্রত্যেক থানার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। গোয়েন্দারাও কাজ করছেন। মাদকের সাথে যোগসূত্রতা রয়েছে এ ধরনের ব্যক্তি, সে যেই হোক তাকে গ্রেফতার করা হবে। নগরীকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান এমপি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান জাতীয় সংসদে বসে সরাসরি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সকলের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। নগরীতে মাদকের সাথে যারাই জড়িত থাকুক তাদেরকে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। এছাড়া পিতা-মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানের লেখা পড়ার খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি তাদের দৈনন্দিন চলা ফেরার ওপরে লক্ষ্য রাখা জরুরী।

 

 

 

 

 

 

 

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: