খুলনা বটিয়াঘাটা ৩১পার্ট পোল্ডার ব্লুগোল্ড প্রকল্পে উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাটের মহোৎসব | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

খুলনা বটিয়াঘাটা ৩১পার্ট পোল্ডার ব্লুগোল্ড প্রকল্পে উন্নয়নের নামে চলছে লুটপাটের মহোৎসব

22 May 2017, 12:39:28

 

মহিদুল ইসলাম (শাহীন) বটিয়াঘাটা :

উপজেলার সুরখালী ৩১পার্ট পোল্ডারে চলছে নেদারল্যান্ড ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে ব্লুগোল্ড এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে ১৯ কোটি টাকার কাজ। যাহা বেশির ভাগ প্রকল্পের টাকা হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে।এ পোল্ডারে যে সকল প্রকল্পের কাজ চলছে সেগুলি প্রায় ২০কিঃ মিঃ ওয়াবদার কাজ,৩ টি স্লুইস গেট সংস্কার এবং বেশ কয়েকটি খাল খননের কাজ। কিন্ত যে কাজগুলো স্হানীয় শ্রমিকরা করেছে সেই কাজের মান খুব ভালো, তবে যে কাজগুলো ঠিকাদারের মাধ্যমে করা হয়েছে এর চেয়ে অনিয়ম কোন কাজে নেই। গত বছরে কয়েকটি খাল খনন করা হয় ঠিকাদারের মাধ্যমে ম্যাসিন দিয়ে। কিন্ত খাল খননের ঐ মাটি খালের দু পাড় দিয়ে এলোমেলো ভাবে ফেলে কৃষকের অনেক ধানী জমি নষ্ট ঐ ভাবেই ফেলে রেখে চলে যায়। যেখান থেকে মানূষ, গরু,ছাগল কিছুই চলাচল করতে পারেনা। এ বিষয় আজিজ সাহেবের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দায়সারা জবাবে  বলেন,আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি। অন্যদিকে ওয়াবদা রাস্তায় মাটি দেওয়া ধরন এবং স্লুইস গেট মেরামতে ব্লক তৈরির ধরন একই একল কাজের কোন তদারকি নাই এমনি এমনি ঠিকাদারেরর ইচ্ছা মতোই কাজ চলছে। সম্প্রতি গাওঘরা গেটের কাজে অনিয়মের জন্য ইউএনও মোঃ কামরুজ্জামান কাজ বন্ধ করে দেন।
ব্লুগোল্ডে প্রকল্পের টাকা বেশির ভাগ ব্যয় দেখানো হয় ঘন ঘন মিটিং দেখিয়ে, জোড়ায় জোড়ায় পুরুষ ও মহিলা সিও দ্বারা গোপনে এলাকায় বসে রেজুলেশন তৈরি করা এবং বাহারী রঙ্গের গাড়ীতে আসা যাওয়া করেই মোটা অংকের টাকা ভাউচারের মাধ্যমে খরচ দেখানো অভিযোগ উঠেছে। এসকল কাজ দেখবাল করার জন্য পোল্ডার কমিটি ও মনিটরিং কমিটি আছে কিন্ত ব্লুগোল্ড ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের কাছে আইনে তাদের হাত পা বাধা। তারা কাজের পাশে থাকলেও ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয় কথা বলা যাবেনা। এমনকি ঠিকাদার যত বেশি অন্যায় করুকনা কেন কাজ বন্দ করা যাবেনা। এটা কর্মকর্তাদের নিষেধ আছে। পোল্ডার কমিটির একজন সদস্য জানান, আমাদের বিভিন্ন  কাজের পাশে রাখার উদ্যেশ্য হলো আমরা যেন ঘন,ঘন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নালিস করি। তবেই এ সুত্র ধরে অফিসারের পকেট ভারি হবে।
ব্লুগোল্ডের নিয়ম রয়েছে মাটির  কাজ শুরুর আগে রাস্তার সমস্ত আগাছা তুলে ১/১ ফুট মাটি দিয়ে স্তরে স্তরে দুরমুচ করার কথা থাকলেও সমস্ত নিয়ম নিতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ব্লুগোল্ডের বিভাগীয় প্রধানের ইশারায় ঠিকাদাররা সমস্ত অন্যায় করে চলেছে, কারন ঐ কর্মকর্তার পাওনা ষোল আনাই ঠিকাদাররা অফিস বসেই পুষিয়ে দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন কাজের ধরন দেখলে মনে হয় স্বচ্ছতা বলে ব্লুগোল্ডের কোন কাজ নাই। একটি সুত্রে জানাগেছে ব্লুগোল্ডের কাজ যত বেশি ঠিকাদার দিয়ে করানো যাবে ততই আজিজ সাহেবের সুভিদা। যেহেতু উপজেলা প্রশাসনের সাথে তাদের কাজের কোন জবাবদিহিতা নাই তারা তাদের ইচ্ছা মতোই কাজ করবে। কাজ ভালো হোক বা না হোক অফিসে বসে বসে রিতি মতো ষোল আনা পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়,আজিজ সাহেবের খুটি হলো মন্ত্রনালয়ের জনৈক আলমগীর চৌধুরী। তাকে খুশি করেই ইচ্ছা মতো কাজ করেন তিনি। সম্প্রতি বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় ৯/১০ টি গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বেশ কয়েকদিন বাহারী রঙ্গের গাড়ী চলাচলে শিতিল হয়ে যায়। ডাক দেওয়া হয় জরুরী মিটিংয়ের  সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদে সেখানে বেশ বাকবিতঙ্গা হয়। বলা হয় গনমাধ্যম কর্মিরা এতো তথ্য কোথায় পায় এ নিয়ে চলে তুমুল ঝড়।  পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক্স এন পিযুষ কুন্ডু বলেন, আমাদের কাজ তোএখনও শেষ হয়নি। কাজ তো চলমান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন,বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকে ব্লুগোল্ডের ঐ কাজ নিয়ে প্রশ্ন করে কিন্ত আমাদের সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নাই। তবে উনাদের আগামি সমন্নয় সভায় চিঠি দিয়ে আমন্ত্রন করেছি। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে। ব্লুগোল্ডের বিভাগীয় প্রধান আঃ আজিজ বলেন,আমাদের সমস্ত কাজ চলমান। তবে সকল কাজ দেখাশুনার জন্য লোক আছে। অন্যদিকে খুলনা ১ আসনের সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস সম্প্রতি গরিয়ার ডাঙ্গায় এক পথ সভায় বলেছিলেন, ব্লুগোল্ড একটি লুটপাটের প্রকল্প। এখানে স্বচ্ছতা বলে কোন কাজ নাই। শুধু দুর্নিতী আর দুর্নিতী। কি ভাবে কাজ হলে এলাকার উন্নয়ন হবে এমন কোন পরামর্শ আমাদের কাছ থেকে না নিয়ে তারা খামখেয়ালি ভাবেই কাজ করছে। এলাকার সচেতন মহল এই লুটপাট প্রকল্পের বিরুদ্ধে তদন্ত পুর্বক ব্যাবস্হা গ্রহন এবং এই পোল্ডারের কাজগুলো সরোজমিন পরিদর্শনে উদ্ধত্তন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: