খুলনা রূপসা সন্ধ্যান মিললো এক মুক্তিযোদ্ধার | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

খুলনা রূপসা সন্ধ্যান মিললো এক মুক্তিযোদ্ধার

21 April 2017, 9:24:50

মুহম্মদ নাঈমুজ্জামান শরীফ
কবি মো. রবিউল ইসলাম তোতা লিখেছেন – যুদ্ধ যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ রক্ত দিয়েছি জীবনও দিয়েছি হইনি এখনো ক্ষান্ত আমি সেই দিন হব শান্ত। যে দিন থাকবে না আর অভাব ভাল হবে তোদের স¦ভাব করবি না আর ভায়ে ভায়ে ঝগড়া ঝাটি বিবাদ আমি সেই দিন হব শান্ত। কবি তার কাব্যে এক জন মুক্তিযোদ্ধার প্রকৃত উপলব্ধি উপস্থাপন করেছেন। রূপসা উপজেলার তালিমপুর গ্রামের মৃত মকবুল আহম্মেদের ছেলে আব্দুল ওহাব তিনি নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। তিনি একটি প্যানা বানিয়ে তার দোকানের দেয়ালে লাগান, এ প্যানায় তিনি তার নামের সাথে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংযুক্ত করেন। এতে করে বিষয়টি সবার নজরে পড়ে। আব্দুল ওহাবের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন দেশ প্রেমিক দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি,এর বিনময়ে কিছু চাই না। এখন প্রশ্ন হোল আমি এতদিন কেন চুপছিলাম। আমি শুধু আমার স্বীকৃতি চাই। আমি যে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি আমি যে একজন মুক্তিযোদ্ধা তার স্বীকৃতির জন্য। আজ আপনারা খোজ করে দেখবেন যুদ্ধ না করেও আজ অনেকে মুক্তিযোদ্ধা সেজে বসে রয়েছে। তারা স্বীকৃতি পায় কিন্তু যারা দেশের জন্য যুদ্ধো করেছে তাদের যেন কোন খবর নেই। তাই মাননীয় প্রধান মন্ত্রী কাছে আমার আকুল আবাদেন যে আমার মত যারা দেশের আনাচে কানাচে পড়ে রয়েছে তাদের খুজে বের করে যথাযথ মর্যাদা দেয়া হোক। তিনি আরো বলেন, আমার জন্ম ১৩ আগষ্ট ১৯৪৬ সালে, আমি ১৯৬৬ সাল থেকে আওয়ামীলীগের সাথে সংশ্লিট হই। ১৯৬৯ সালে গণঅভুত্তানের সময় থেকে ৬ দফা ও ১১দফা আন্দলনে মিটিং মিছিলে সক্রিয় ভাবে অংশ গ্রহন করেছি। খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে শেখ মুজিবর রহমানে ভাষনের আগে আমি কবিতা পাঠ করি। শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কবিতা ছাপিয়ে সারা বাংলা দেশে বিক্রয় করেছি। কবিতার নাম ছিল ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দলন শেখ মুজিবরের ডাক। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ গাজী রকেটে করে আমি খুলনায় আসি। আমি এবং আমার সমমনা কয়েক জনকে নিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অনুষ্ঠান শুনতাম। এর মধ্যে সুযোগ পেলেই রূপসা রেলগাড়ীতে করে বাংলাদেশের মুক্তি আন্দলন ও জয় বাংলার কবিতা বিতারণ করতাম। কিছু দিনের মধ্যে খবর পেলাম যে তেরোখাদায় মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং শুরু হয়েছে। আমি আমার ছোট ভাই আ.কাদের কে নিয়ে তেরোখাদা যাই। তেরোখাদা পাতলা ক্যাম্পে ক্যাপ্টেন ফহমউদ্দিনের নেতৃত্বে নুরুভাই আমাদের রাইফেল চালানো শিক্ষা দেয়। তেরোখাদা আলাইপুর রাজাকারদের সাথে সম¥ুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করি। আজগড়া স্কুলে ক্যাম্পে কয় এক জনের উল্লেখ যোগ্য নাম ঃ নুর মোহাম্মদ, মোশারেফ, ইন্তাজ শেখ, কামাল হোসেন বাদশা, শহীদসহ আরো অনেকে । ১৬ ডিসেম্বর আজগড়া স্কুল থেকে আমারা সবাই মুক্তিযোদ্ধারা খুলনার দিকে অগ্রসর হই। বেলফুলিয়া স্কুলে ক্যাম্প করে থাকি, নদীপার হয়ে খুলনা মহানগরে আসি। ১৭ ডিসেম্বর বেলা ১টা ৩০ মিনিটে সময় খুলনা পুলিশ লাইনের ভেতরে আমরা সবাই বিজয়ের আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করি। পুলিশ হাসপাতালে বাথরুমে ভেতরে আত্ম গোপন করে থাকা এক পাকিস্তানী খাঁনকে পাই, পরে তাকে আমরা মেরে পুলিশ লাইনের প্রধান গেটের রাস্তার দক্ষিণ পাশে সেগুন গাছের সাথে তার মরাদেহ ঝুলিয়ে রাখি। ক্যাপ্টেন ফহমউদ্দিন সহ আমরা রাতে খুলনা ডিলাক্স হোটলে উঠি। এ সময় আব্দুল ওহাব অশ্রু সজল চোখে কেদে ফেলে, পুরনো দিনের স্মৃতি মনে করে। আরো অনেক স্মৃতি ভুলে গেছেন তিনি। আমরা তার কাছে যুদ্ধের সনদ দেখতে চাইলে জেনারেল ওসমানির স¦াক্ষরিত পরিচয় পত্র দেখান এবং অস্ত্র জমা দানের রশিদ প্রদান করেন। আব্দুল ওহাব কি তার স্বীকৃতি পাবে, আজ সাধারণ জনগনের প্রশ্ন।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: