খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নড়েচড়ে বসছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / সারাদেশ / বিস্তারিত

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নড়েচড়ে বসছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা

14 July 2017, 10:00:22

বি এম রাকিব হাসান, খুলনা ব্যুরো:

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন হতে এখনও বছরখানেক বাকি। কিন্তু বাতাসে এখুনি নির্বাচনী গুঞ্জন শুরু হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী বছর ২০১৮ সালের জুন-জুলাইয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে; আর এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্যে সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে কথাবার্তা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই নিয়ে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে। শুধুমাত্র মেয়র পদের প্রার্থীতা নিয়ে নয়, পাড়ায়-মহল্লায় কাউন্সিলর পদ নিয়ে চলছে আলাপ-আলোচনা-গুঞ্জন। বিশেষ করে গত ৯ জুলাই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের খুলনা বিভাগীয় সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশনায় নড়ে বসেছেন আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেই খুলনাসহ ৪ সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রার্থী মনোনয়ন বা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী কে হবে, এই ঘোষণায় এগিয়ে আছে জাতীয় পার্টি। দলটি ইতিমধ্যে মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। তিনি হচ্ছেন দলে সদ্য যোগদানকারী মুশফিকুর রহমান মুশফেক। এই মুশফেক জাতীয় পার্টি নেতা ও খুলনা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম হত্যা মামলার আসামী ছিলেন। খুলনা শহরে ছিলেন না অনেকদিন। অবশেষে খুলনা শহরে এসেছেন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। দলীয় চেয়ারম্যান হুসেইন মোহম্মদ এরশাদও সম্প্রতি খুলনায় এক সমাবেশে মুশফেকই দলের মেয়র প্রার্থী বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
কেসিসি’র বর্তমান মেয়র হচ্ছেন বিএনপি খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি। আসছে নির্বাচনে তিনিই দলের সম্ভাব্য প্রার্থী বলে দলের একাধিক সূত্র আভাস দিয়েছে। তবে মেয়র হিসেবে এই চার বছরে তিনি নগরবাসীর জন্যে কি করতে পেরেছেন, তার হিসাব শুরু হয়েছে। কারণ, নির্বাচিত হলে নগরবাসীর জন্যে যা করবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার সবটা পূরণ করতে পারেননি। অবশ্য, তিনি এক বছরেরও বেশী সময় দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। গত নির্বাচনে জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি মেয়র প্রার্থী হিসেবে তার অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, কিন্তু নির্বাচিত মেয়র সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেননি। অবশ্য, তিনি এই ব্যর্থতাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের বলে মনে করেন।
সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনি’র মতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না পাওয়া এবং বরাদ্দ করা অর্থ সময়মতো ছাড় না পাওয়ায় প্রতিশ্রুত কিছু কাজ বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়েছে।
শাসক দল আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে কে মেয়র প্রার্থী হবেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপিকে দলের অনেকেই যোগ্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনে করেন। কারণ, মেয়র থাকাকালে নগরের ছোট-বড় রাস্তাঘাট সংস্কার, নর্দমা পরিষ্কার, পানি সরবরাহের জন্যে একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনসহ নানাবিধ উন্নয়ন কর্মকান্ডের জন্যে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। গত নির্বাচনে তিনি বিএনপি প্রার্থী মনি’র কাছে পরাজিত হন। এরপর থেকে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকা বাগেরহাট -৩ (রামপাল-মংলা)-এর উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়েই ব্যস্ত আছেন। খুলনা মহানগরের রাজনীতিতে বলতে গেলে তেমন সময়ই দেন না। দল ও তাঁর খুবই কাছের মানুষদের বক্তব্য তিনি অভিমানে খুলনা নগরের রাজনীতি হতে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। দলীয় সূত্রটির মতে, বিএনপি প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মত তিনি ছাড়া অন্য কোন ভালো প্রার্থীও নেই। অপরদিকে প্রধান মন্ত্রীর চাচাত ভাই শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল প্রার্থী হতে হতে পারেন এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
২০১৩ সালের ১৫ জুনে অনুষ্ঠিত হয় খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন। নির্বাচনে বিএনপি নেতা মনিরুজ্জামান মনি (আনারস প্রতীক) ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধি আওয়ামী লীগ সমর্থিত তালুকদার আব্দুল খালেক (তালা প্রতীক) পেয়েছিলেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮ ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ছিল ৬১ হাজার ২০৭ ভোট।ওই নির্বাচনে এবারের নির্বাচনে ৪ জন মেয়র প্রার্থী , ১৩৭ জন সাধারণ ও ৪৫ জন সংরতি মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।
সূত্রমতে, আগামী বছরের শেষে বা ২০১৯ সালের প্রথমেই অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনের আগেই ছয়টি (রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, সিলেট ও গাজীপুর) সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ডিসেম্বরে রংপুর সিটি নির্বাচনের পর আগামী বছরের আগস্টের মধ্যে বাকি পাঁচ সিটিতে ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো উপনির্বাচন থাকলে সেগুলোতেও ভোট করে ফেলতে চায় কমিশন।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: