ঘুষ ও দুর্নীতি কমাতে সচিবদের বিশেষ নির্দেশ, বেতন যেহেতু বেড়েছে তাই ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

ঘুষ ও দুর্নীতি কমাতে সচিবদের বিশেষ নির্দেশ, বেতন যেহেতু বেড়েছে তাই ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

3 July 2017, 8:14:19

আমাদের নাঙ্গলকোট ডেস্ক :

ঘুষ ও দুর্নীতি কমাতে সচিবদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পে-স্কেলে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন যেহারে বেড়েছে, তা বিশ্বে বিরল। তাই জনগণ যেন সেবা পায় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। বেতন যেহেতু বেড়েছে তাই ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।’

সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে রবিবার (০২ জুলাই) সকাল ১০টায় সচিব কমিটির সঙ্গে মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। মিটিংয়ের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। পরে সচিবদের বক্তব্য শোনেন।

শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার আরো বাড়াতে হবে। অর্থবছরের শেষ দিকে তাড়াহুড়া না করে বছরের শুরু থেকেই বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণ করুন। বর্ষা মৌসুমে প্রকল্পের পেপারওয়ার্ক সম্পন্ন করুন। আন্তমন্ত্রণালয়ের সমন্বয় প্রয়োজন হলে তা দ্রুত করে ফেলুন। কাজের গুণগত মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না।’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, উন্নয়ন কর্মসূচি এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যেন সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ উপকৃত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তক্যাডার বৈষম্য দূর করে সবার ন্যায়সংগত পদোন্নতি ও পদায়ন নিশ্চিত করুন। অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে অগ্রাধিকার দিন। জঙ্গিবাদ দমন ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিন।

কর্মচারীদের দুর্নীতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান সুস্পষ্ট। দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরো শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন সংশোধন করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১২৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৫৯ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কর্মচারীদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬০ করা হয়েছে। এই সুযোগ-সুবিধার পর কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।’

বর্তমান মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে এটি ছিল সরকারের সর্বোচ্চ আমলাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয় বৈঠক। সচিবদের সরকারের অন্যতম চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ক্ষমতায় আসে। কিন্তু সচিবদের আরো অনেক দীর্ঘ সময় ধরে সেবা দেয়ার সুযোগ থাকে।
তিনি বলেন, ‘কাজেই এটা সচিবদের ওপরই নির্ভর করে দেশ কিভাবে চলবে।’

শেখ হাসিনা সচিবদের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, তাঁর দলের রাজনৈতিক দর্শন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি একটি ভালো দলের সঙ্গে কাজের সুযোগ পেয়েছেন।

উন্নয়ন কর্মসূচি এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যাতে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ উপকৃত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গ্রাম উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হবে, কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। ‘যাতে গ্রামের মানুষ কাজের খোঁজে শহরে না আসে। শহরের ওপর জনসংখ্যার চাপ যাতে না বাড়ে সে ব্যবস্থা করতে হবে’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দক্ষ এবং যোগ্যদের গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব প্রদানের আহবান জানিয়ে বলেন, ‘ভালো কাজের পুরস্কার আর মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার ব্যবস্থা কার্যকর করতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিন। সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো থেকে সেবা পেতে জনগণকে যাতে ভোগান্তির শিকার না হতে হয় তার উদ্যোগ নিন।’

তাঁর সরকার দায়িত্বভার গ্রহণের পর এডিপির আকার এবং বাস্তবায়নের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ সালে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ছিল ২৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এবার বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। ৮ বছরে বৃদ্ধির পরিমাণ প্রায় ৬ দশমিক ২৫ গুণের বেশি।

অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মকর্তা, যাদের আরো দীর্ঘদিন চাকরি করার সুযোগ রয়েছে প্রশিক্ষণে তাদের অগ্রাধিকার প্রদানের আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপেক্ষাকৃত তরুণ কর্মকর্তা যারা দীর্ঘদিন চাকরি করবেন, প্রশিক্ষণে তাদের অগ্রাধিকার দিন।’

জাতির পিতা একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ধনী-দরিদ্র্যের বৈষম্য কমানো এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করারও আহবান জানান। তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কর্মসূচি এমনভাবে গ্রহণ করতে হবে যাতে সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষ উপকৃত হয়।’

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ উচ্ছেদে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমন এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিন। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’

নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি ওয়েবভিত্তিক অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালুর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতি দমন কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ সংশোধন করা হয়েছে। তথ্য অধিকার আইন ২০০৯, এবং জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন ২০১১ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রণয়ন করা হয়েছে জাতীয় শুদ্ধাচারের কৌশলপত্র।’

শেখ হাসিনা বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মধ্যম-আয়ের দেশের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা ‘জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশল’ প্রণয়ন করেছি। প্রতিবছর প্রদত্ত বিভিন্ন ভাতার হার ও পরিধি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আওতায় প্রকৃত দরিদ্র, ছিন্নমূল পরিবারকে সমিতিবদ্ধ করে ক্ষুদ্র সঞ্চয় মডেলের আওতায় স্থায়ী তহবিল গঠন করে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার বঙ্গোসাগরের ১ হাজার ৭৩৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ‘মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া’ ঘোষণা করেছে। তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধে ম্যানগ্রোভ বাগান সৃজন, অংশীদারিত্বমূলক ব্লক বাগান ও স্ট্রিপ বাগান সৃজন করতে হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণে সকলকে আন্তরিক হবার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামসহ পাহাড় ও টিলা অধ্যুষিত এলাকায় পরিবেশ রক্ষাসহ ভূমিধস প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালনে আরও আন্তরিক হতে হবে। এবারের মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে চাই না।’

জনগণের ভোগান্তি হ্রাসে মামলার দীর্ঘসূত্রতা এবং মামলার জট কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ জন্য উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং কমিটি গঠন করা যেতে পারে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রস্তাব প্রেরণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় প্রয়োজনীয় উপাত্তসহ লিখিত জবাব যথাসময়ে উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট মামলাসমূহে সরকারি স্বার্থ সুরক্ষায় আরও তৎপর হতে হবে। এ লক্ষ্যে অ্যাটর্নি সার্ভিস চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘সরকারি স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট মামলা জেলা/মন্ত্রণালয়ভিত্তিক মনিটরিংয়ের জন্য সফটওয়্যার ডেভেলপ এবং উচ্চ আদালতের সহকারী/ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের জেলা/মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য আমি আইন ও বিচার বিভাগের সচিবকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সাফল্য প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের অর্জন অভূতপূর্ব, যার স্বাক্ষর বহন করছে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম এবং আর্থ-সামাজিক সূচকসমূহ। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, এসডিজি কৌশলপত্রে আমাদের উন্নয়ন লক্ষ্য এবং লক্ষ্য বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণ করে দেয়া আছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, এসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে আপনারা আপনাদের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করবেন।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: