চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে ১২৫ জনের মৃত্যু | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা ◈ কুমিল্লায় বিপুল ইয়াবাসহ দম্পতি আটক!

চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে ১২৫ জনের মৃত্যু

14 June 2017, 4:56:21

আমাদের নাঙ্গলকোট ডেস্ক :  

সাগরে নিম্নচাপের প্রভাবে টানা প্রবল বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ১২৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাঙামাটিতে ছয় সেনা সদস্যসহ ৮৮ জন, চট্টগ্রামে ৩০ জন ও বান্দরবানে ৭ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে পাঁচজন ও মহানগরের হালিশহর এলাকায় ঝড়ের সময় দেয়াল চাপা পড়ে একজন এবং রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় গাছচাপা পড়ে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত থেকে অভিযান চালিয়ে এসব লাশ উদ্ধার করা হয়। অভিযান এখনো চলছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এসব ঘটনায় আহতের সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এদিকে পার্বত্য এলাকায় পাহাড় ধসে বিপুলসংখ্যক লোকের হতাহতের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বঙ্গোপসাগরে থাকা নিম্নচাপের প্রভাবে গত রবিবার রাত থেকেই মুষলধারে টানা বৃষ্টি হচ্ছে সারা দেশে। সোমবার এটি বাংলাদেশের উপকূল ও স্থলভাগ অতিক্রম করে। এর প্রভাবে বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়ে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট তলিয়ে গিয়ে গ্রাম-শহরে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। এ কারণে চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজারে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়। অনেক স্থানে বন্ধ করে দেয়া হয় নৌযান চলাচল। সারাদেশের সাথেই অনেক জেলার যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। : টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে রাঙামাটিতে সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যসহ ৫৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রাঙামাটি শহরে ১৮ জন, শহরের পাশে মানিকছড়ি এলাকায় চার সেনা সদস্য, কাউখালী উপজেলায় ২১ জন, কাপ্তাই উপজেলায় ১২ জন ও বিলাইছড়ি উপজেলায় দুজন নিহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে বেশ কিছু লাশ উদ্ধার করে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাশের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। : জেলার সিভিল সার্জন ডা. শহীদ তালুকদার জানান, পাহাড় ধসে রাঙামাটি শহরে ১৮ জন মারা গেছে। মানিকছড়ি এলাকায় মারা গেছেন চার সেনা সদস্য। এর মধ্যে সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন তানভীরের লাশ রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে এসেছে। এ ছাড়া আরো তিন সেনাসদস্য এখানে ভর্তি হয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সাঈদ তরিকুল হাসান মানিকছড়ির ঘটনাস্থলে থাকা উদ্ধারকর্মীদের বরাত দিয়ে জানান, প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল  সকালে সেই মাটি সরাতে কাজ করছিলেন সেনাসদস্যরা। তখন ওপর থেকে পাহাড় ধসে সেনাসদস্যদের ওপর পড়ে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন হলেন মেজর মাহফুজ ও অন্যজন ক্যাপ্টেন তানভীর। নিহত দুই সেনাসদস্যের নাম পাওয়া যায়নি। এ সময় আহত চার সেনাসদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। :  সেনা সদস্য হতাহত হওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. রাশিদুল হাসান বলেন,  সকাল ৭/৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বর্ষায় পাহাড় ধসের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক পুনরুদ্ধারে গিয়েছিল সেনাবাহিনীর একটি দল। সংযোগ সড়ক পুনরুদ্ধার কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় মানিকছড়ি এলাকায় সেনা কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং এখনো কয়েকজন নিখোঁজ আছেন। সে কারণে হতাহতের সংখ্যা সঠিক বলা যাচ্ছে না বলেও জানান আইএসপিআরের পরিচালক। : কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে ১২ জন ও গাছচাপা পড়ে একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন। এর মধ্যে কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় পাহাড় ধসে মারা গেছেন উনু চিং মারমা (৩০) ও নিকি মারমা (১২)। ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছায়া মং মারমা এই তথ্য জানিয়েছেন। নিহত অন্যদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি উপজেলা চেয়ারম্যান। : তিনি আরো জানান, কর্ণফুলী নদীতে ইকবাল নামের এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। গাছচাপা পড়ে নিহত ব্যক্তির নাম আবুল হোসেন। এ ছাড়া বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে দুজন নিহত হয়েছেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। : এদিকে টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড় ধসে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাঙ্গুনিয়ার জঙ্গল বগাবিল এলাকায় ১৪ জন, চন্দনাইশের ধোপাছড়ি এলাকায় দুই পরিবারের চার সদস্য ও বাঁশখালীতে একজন নিহত হয়েছে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে মারা গেছে পাঁচজন। এ ছাড়া গতকাল ভোরে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় ঝড়ের সময় দেয়াল চাপা পড়ে হানিফ নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ক এসব তথ্য জানিয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার ঘটনাস্থল দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায়, পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ ও সাঙ্গু নদীর পানি বাড়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কাও করা হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় রাঙামাটি ও বান্দরবানের সঙ্গে চট্টগ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের সংখ্যা ৩০টি। আর এতে বসবাস করছে অন্তত চার হাজার পরিবার। বৃষ্টি মৌসুমে লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চললেও দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান বের করতে পারেনি প্রশাসন। তবে টানা বৃষ্টি আর বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের পর গতকাল নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোর পাদদেশ থেকে শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। : এদিকে অতিবর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে তিনদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে নগরীর আগ্রাবাদ,বন্দরসহ বিভিন্ন এলাকার বেশির ভাগ মানুষ। অপরদিকে টানা বর্ষণে পাহাড় ধসে বান্দরবানে শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১১ জন। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বান্দরবানের লেমুঝিরি ভিতরপাড়া থেকে একই পরিবারের তিন শিশু, আগাপাড়ায় মা-মেয়ের এবং কালাঘাটায় এক কলেজছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন অফিসার স্বপন কুমার ঘোষ। নিহতরা হলেন লেমুঝিরির বাসিন্দা সমুন বড়–য়ার তিন সন্তান শুভ বড়–য়া (৮), মিতু বড়–য়া (৬) ও লতা বড়–য়া (৪), আগাপাড়ার কামরুন নাহার (২৭) ও তার মেয়ে সুখিয়া আক্তার (৮) এবং কালাঘাটার কলেজছাত্র রেবা ত্রিপুরা (১৮)। এ সময় আহত আরো পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা। এদিকে অব্যাহত বর্ষণে ভোররাতে বাজালিয়ায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবান-চট্টগ্রাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: