সর্বশেষ সংবাদ
◈ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন পরিকোট এর নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ◈ পুকুরে বৈদ্যুতিক বাল্ব লাগাতে গিয়ে লাশ হলো বাবা-ছেলে! ◈ চৌদ্দগ্রামে পৌর কাউন্সিলরসহ ১৬ জনের করোনা শনাক্ত; সর্বমোট আক্রান্ত ৬৩,সুস্থ ২, মৃত্যু ১ ◈ ‘বোনের বাড়িতে রেখে বাচ্চা নষ্ট করেন এমপি এনামুল’ ◈ নাঙ্গলকোটে করোনা উপসর্গে নিহত-১ ◈ নাঙ্গলকোটে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্বে খুনের রহস্য উন্মোচিত; চাচার সেফটি ট্যাংকি থেকে লাশ উদ্ধার! ◈ জিয়াউর রহমানের ৩৯তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ব: ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ ◈ প্রধান মন্ত্রীর আস্থাভাজন খুলনা ১এর কর্নধর শেখ সোহেল দাকোপ বটিয়াঘাটায় ত্রান ও ঈদ উপহার বিতরণ করেন ◈ ‘আব্দুল গফুর ভূইয়া’রা সমাজের মহৎ হৃদয়ের মানুষ ‘ ◈ কুমিল্লাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন আ.লীগ নেতা আবদুছ ছালাম বেগ

চৌদ্দগ্রামে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের দায়ে ২ সরকারি কর্মকর্তাসহ কথিত মডেল আটক

11 May 2020, 1:37:02

 

মোঃসাইফুল ইসলাম,কুমিল্লা।
প্রাণঘাতি মহামারি করোনা ভাইরাস প্রাদূর্ভাবের কারনে লকডাউন চলাকালিন সময়ে অসামাজিক কর্মকান্ডের দায়ে এলাকার চিহ্নিত অন্ধকার জগতের মডেলসহ দু’জন সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নুসরাত জাহান মাইফুল নামে মডেল নামধারি এক তরুনীকে ও দু’জন সরকারি কর্মকর্তাকে একটি গাড়িসহ আটক করে চার ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় জনতা। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি গ্রামে পাবনা জেলার বেড়া উপজেলা প্রশাসনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. আরিফুল ইসলাম সজ্জয় ও সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার সাব-এ্যসিস্ট্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. হাসিবুল হাসান সুজন সহ নুসরাত জাহান মাইফুল তার নিজ বাড়ী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি গ্রামে জনতার হাতে ধরা পড়ে। এসময় উত্তেজিত জনতা তাদেরকে ও তার পরিবারের লোকজনকে মারধর করার জন্য প্রস্তুতি নেয় বলে জানা যায়। পরে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক এসআই জাহিদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এসআই জাহিদ বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর জনতার হাত থেকে দ্রুত আসামীদেরকে উদ্ধার করে ঘটনাস্থল ত্যাগে বাধ্য করেন। পরে নুসরাত জাহান মাইফুল এবং তার পরিবারকে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পূণরাবৃত্তি না করার জন্য সতর্ক করেন। মাইফুল উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি গ্রামের পূর্বপাড়ার বাসিন্দা এয়াছিনের একমাত্র মেয়ে এবং ছোট পর্দার কথিত অভিনেত্রী ও মডেল বলে জানা যায়। জানা গেছে, বৃস্পতিবার (৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটায় মাইফুল তার কথিত বস আরিফ ও তার বন্ধু হাসান সহ গোপনে রাতের আঁধারে তাদের ঘরে প্রবেশ করে। ঘটনাটি টের পেয়ে বাড়ির লোকজন স্থানীয় মেম্বার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সত্যতা পায়। পরে স্থানীয়রা আটককৃত যুবকদেরকে সার্চ করলে তারা নিজেদেরকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে এলাকাবাসীকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদর্শন করে। এসময় উত্তেজিত জনতা তাদেরকে মারধর করার জন্য উদগ্রীব হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক বেপারী, কনকোপৈত ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাঈল হোসেন শাকিল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আটককৃত ওই দুই যুবককে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে এবং ছোট পর্দার আলোচিত মডেল ও অভিনেত্রী নুসরাত জাহান মাইফুল ও তার পরিবারকে সতর্ক করে ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করেন। এঘটনায় এখনো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় কনকাপৈত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘পুরো ঘটনা আমি জানি, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষনিক পুলিশ পাঠিয়ে আমরা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। অভিযুক্ত দুই সরকারি কর্মকর্তার কর্মস্থলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে কথা বলে মানসম্মানের দিকে তাকিয়ে আমরা তাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করে তাদের স্ব-স্ব এলাকায় পাঠিয়ে দেই। রমজান ও লকডাউনের এই সময়ে এ ধরনের অসামাজিক কর্মকান্ড আমরা মেনে নিতে পারিনা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ কনকোপৈত ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন শাকিল বলেন, এটা একটা নিন্দনীয় ও জঘন্য কাজ, গ্রামে এসব অনৈতিক কাজ মেনে নেয়া যায় না। অভিযুক্ত মেয়ের পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। জানা যায়, কয়েক বছর থেকে নুসরাত জাহান মাইফুল এলাকায় এবং এলাকার বাহিরে (ঢাকা-চট্টগ্রাম) বিভিন্ন অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। এলাকায় প্রকাশ্যেই চলে তার এসব কর্মকান্ড, তার কাছে দিনে-রাতে অনেকের অবাধ যাতায়াত ছিল। এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুঁমকি দেয়া হতো। তাই এসব দেখেও কেউ তার ভয়ে মুখ খুলতো না। জানতে চাইলে অভিযুক্ত দুই সরকারি কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম সজ্জয় ও মো. হাসিবুল হাসান সুজন লকডাউন অমান্য করে সেখানে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, তারা একান্ত জরুরি ব্যক্তিগত কাজে অনেক দূর থেকে সেখানে গিয়েছিলেন, কোন খারাপ বা অসৎ উদ্দেশ্যে নয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে এলাকার স্থানীয় দ্বন্দ্বের শিকার হন বলেও জানান তারা। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস প্রাদূর্ভাবের কারণে গত ১০ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করে এ জেলায় জনসাধারণের প্রবেশ ও প্রস্থান নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করেন, যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে। শুধুমাত্র জরুরি পরিসেবাকে লকডাউনের আওতামুক্ত রেখে আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথাও বলা হয় ঐ ঘোষনায়। গত ২৩ এপ্রিল তারিখের অন্য এক সরকারি আদেশে সব সরকারি অফিসের কর্মকর্তাদের এই সময়ে আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করার কথা বলা হয়েছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: