চৌদ্দগ্রামে আর্সেনিকের ভয়াবহতা! | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

চৌদ্দগ্রামে আর্সেনিকের ভয়াবহতা!

4 June 2014, 11:34:25

চৌদ্দগ্রাম: আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের প্রায় ৫ লাখ মানুষ। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে মুন্সিরহাট ইউনিয়নের মানুষ। জানা গেছে, ২০০১ সালে চৌদ্দগ্রামের ১৪টি ইউনিয়নের ৬৮ হাজার ৩৮০ পরিবারের ৪০ হাজার ৫৪৫টি নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা জরিপ করা হয়। তখন ২৪ হাজার ২৭৫টি নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া যায়। গত ১১ বছরে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।

LAKSAM_DOT_KOM_07062013_000003_ARSENIC

 

 

 

 

 

 

জরিপ অনুযায়ী কাশিনগর ইউনিয়নের ৫ হাজার ২৬৪ পরিবারের ৩ হাজার ৭২০টি নলকূপ পরীক্ষা করে ২ হাজার ২৩২টি নলকূপে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৬০ ভাগ। উজিরপুর ইউনিয়নের ৪ হাজার ৪৭৮ পরিবারের ২ হাজার ৯৯০টি নলকূপ পরীক্ষা করে ১ হাজার ৭৯৪টি নলকূপে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৬০ ভাগ। কালিকাপুর ইউনিয়নের ৩ হাজার ৪৪২ পরিবারের ২ হাজার ৭০৫টি নলকূপের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৭টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৬২ ভাগ। শ্রীপুর ইউনিয়নের ৪ হাজার ৭৯৬ পরিবারের ৩ হাজার ২০৫টি নলকূপ পরীক্ষা করে ২ হাজার ৮৩টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৬৫ ভাগ। শুভপুর ইউনিয়নের ৬ হাজার ৯৭৮ পরিবারের ৪ হাজার ৩৩৭টি নলকূপ পরীক্ষা করে ২ হাজার ৮৬২টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৬৬ ভাগ। ঘোলপাশা ইউনিয়নের ৩ হাজার ৯৬৬ পরিবারের ২ হাজার ৮০৭টি নলকূপ পরীক্ষা করে ১ হাজার ৫৪৩টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৫৫ভাগ।

চৌদ্দগ্রাম ইউনিয়নের (পৌরসভা) ৪ হাজার ২৫১ পরিবারের ৩ হাজার ২০১টি নলকূপ পরীক্ষা করে ২ হাজার ৮০টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৬৬ ভাগ। মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ৫ হাজার ৯০ পরিবারের ২ হাজার ৬০৭টি নলকূপ পরীক্ষা করে ১ হাজার ৮২৪টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৭০ ভাগ। কনকাপৈত ইউনিয়নের ৪ হাজার ১৮৪ পরিবারের ২ হাজার ৪০৭টি নলকূপ পরীক্ষা করে ১ হাজার ৫১৬টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৬০ ভাগ। বাতিসা ইউনিয়নের ৪ হাজার ৬১৯ পরিবারের ২ হাজার ৫৩২টি নলকূপ পরীক্ষা করে ১ হাজার ৩৯২টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৫৫ ভাগ। চিওড়া ইউনিয়নের ৪ হাজার ৯৮৮ পরিবারের ২ হাজার ৮৩৭টি নলকূপ পরীক্ষা করে ২ হাজার ১২৭টি নলকূপে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৫৮ ভাগ। গুনবতী ইউনিয়নের ৬ হাজার ৪০ পরিবারের ৩ হাজার ৩৭৭টি নলকূপ পরীক্ষা করে ২ হাজার ১২৭টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৬৩ ভাগ। জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের ৪ হাজার ২৪৮ পরিবারের ২ হাজার ৫টি নলকূপ পরীক্ষা করে ৯০২টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৪৫ ভাগ। আলকরা ইউনিয়নের ৬ হাজার ৩৬ পরিবারের ৩ হাজার ৮১৫টি নলকূপ পরীক্ষা করে ২ হাজার ৯৮টিতে আর্সেনিক পাওয়া যায়, যার মাত্রা ৬০ ভাগ।

এ ব্যাপারে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে- ২০০১ সালে সরকারিভাবে আর্সেনিক জরিপ হওয়ার পর আজ পর্যন্ত আর কোনো জরিপ হয়নি। তখন চৌদ্দগ্রামে সর্বোচ্চ ৭০ ভাগ ও সর্বনিম্ন ৪৫ ভাগ আর্সেনিক পাওয়া যায়। যেহেতু আর্সেনিকের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেহেতু চৌদ্দগ্রামে এখন ৭৫-৮০ ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফারুক আহম্মেদ বলেন- আর্সেনিক একটি মারত্মক রোগ। যে রোগের ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয়নি। এ আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে গ্যাংগ্রিন, চর্ম ও ক্যান্সারসহ জটিল রোগ হতে পারে। এ রোগ থেকে বাঁচার উপায় হলো জনসচেতনতা ও আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করা। আর যখনই এ রোগ দেখা দেবে, তখনই আর্সেনিকযুক্ত পানি পরিহার করে ফল ও পুষ্টিকর খাবার এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলা উচিত।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: