ছন্দময় ব্রাজিল অসহায় আর্জেন্টিনা | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা ◈ কুমিল্লায় বিপুল ইয়াবাসহ দম্পতি আটক!
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

ছন্দময় ব্রাজিল অসহায় আর্জেন্টিনা

12 November 2016, 9:41:22

দুই বছর আগের মিনেইরাজো শুধু তো না, ব্রাজিলিয়ানদের দীর্ঘশ্বাস আরো অনেক দিনের। এক কার্লোস দুঙ্গাই তাদের স্বপ্ন নিয়ে খেলেছেন ছয় বছর। মাঝখানে ফিলিপে স্কলারি প্রত্যাশার ফানুস উড়িয়ে শেষটায় দিয়েছেন ওই ৭-১ গোলের লজ্জা। পরশু মিনেইরোতেই তাদের সব আক্ষেপ, অপেক্ষার শেষ হলো কি! আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এদিন ৩-০ গোলের জয়ে শুধু জয়ই তো নয়, সেলেসাওদের প্রাপ্তি যে অনেক। এই ছন্দময় ব্রাজিলকেই বুঝি এত দিন খুঁজে ফিরেছে জোগো বোনিতোর দর্শকরা। হলুদ-সুরে যেখানে বেসুরো হয়ে পড়ে লিওনেল মেসির জাদুকরীও। নেইমার তো ছিলেনই, তরুণ ফিলিপে কৌতিনিয়োর চঞ্চল পায়েও মুখ লুকিয়েছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স। সুপার ক্লাসিকো এদিন তাই শুধু ব্রাজিলের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ছাপ সেখানে নেই, কেবল সাম্বার ছন্দ।

ম্যাচের শুরুতে আর্জেন্টিনা বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না। মেসিকে প্রায়ই মাঝমাঠে নেমে আসতে হচ্ছিল বল বানাতে। খেলার ২০ মিনিটে গোলে প্রথম শট লুকাস বিলিয়ার। এলিসন যেটি দারুণ সেভ করেছেন। ম্যাচের গতি-প্রকৃতি তখনো বোঝা যায়নি। মিনিট দুয়েক পর কৌতিনিয়ো এমন চমক উপহার দেবেন কে জানত! বাঁ-দিক থেকে ইনসাইড কাট করে ঢুকে আচমকা শটে লিভারপুলে ইয়ুর্গেন ক্লপকেও মুগ্ধ করেছেন তিনি অনেকবার। পরশু মিনেইরোর দর্শকরা আস্বাদন করলেন তা। নেইমারের পাস ধরে আপাতদৃষ্টিতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ডানে সরতে থাকেন, আর্জেন্টিনার ডিফেন্স লাইন তাঁকে ছুঁতে পারেনি, বক্সের কোণে পৌঁছেই সেই ট্রেডমার্ক শট, যাতে গোলরক্ষকের তেমন সুযোগই থাকে না। বল প্রায় ২০ গজ হাওয়ায় ভেসে ডানদিকের ওপরের কোণ দিয়ে জালে। ম্যাচের প্রথম ‘কোয়ালিটি’ মুহূর্ত সেটিই। আর তাতেই এগিয়ে ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার প্রতিক্রিয়া বলতে এরপর আবারও পজেশনে জোর দেওয়া, কিন্তু অ্যাটাকিং থার্ডে তেমন প্রভাব নেই। কম পজেশনে থেকেও ব্রাজিলকে বরং সংগঠিত লাগছিল। ১-০ গোলে এগিয়েও তারা। লিওনেল মেসি পার্থক্য গড়ে দিতে পারছিলেন না, শুরু থেকেই ফের্নান্দিনিয়ো শারীরিকভাবে হলেও তাঁর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন। ৩৩ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে ড্রিবল করে কিছু করতে যাবেন তখনই আবার মিরান্দার ফাউল। এদিন ফ্রিকিকেও জাদুকরী কিছু হলো না। কিন্তু অন্য প্রান্তে হুমকি হয়ে উঠলেন আর্জেন্টাইন তারকার বার্সা সতীর্থ নেইমার। প্রথমে একটা সলো রানে সাদা-নীল ডিফেন্সকে পেছনে ফেলেও ফিনিশ করতে পারেননি, বল মেরেছেন সাইড নেটে। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে নেওয়া পরের চেষ্টায় ঠিক সফল ব্রাজিলের নাম্বার টেন। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের থ্রু পাস ধরে বাঁ-দিক থেকে শুধু সের্হিয়ো রোমেরোকে হারানোটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। দারুণ মুন্সিয়ানায় সেই কাজটি সেরে বেরিয়ে এসেছেন বার্সা ফরোয়ার্ড। রোমেরোর জন্যই বরং সেটি ছিল কঠিন পরীক্ষা। তিনি অসহায়ের মতো হার মেনেছেন, পুরো প্রথমার্ধজুড়ে দিশা পায়নি আর্জেন্টিনাও। ব্রাজিলের মাঠে ২-০ পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরা আরো কঠিন, তারা পারেওনি।

এই অর্ধে হারের ব্যবধান বরং আরো বড় হতে পারত। হাভিয়ের মাসচেরানো, বিলিয়ার পর এনজো পেরেজকেও মিডফিল্ডে রাখা এদগার্দো বাউসার সতর্ক কৌশলেরই জানান দিচ্ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে তিনি সের্হিয়ো আগুয়েরোকে মাঠে এনেছেন পেরেজের বদলে। কিন্তু সেলেসাওরা ততক্ষণে উড়তে শুরু করেছে। বিরতি থেকে ফিরেই জেসুসকে বক্সের ভেতর ‘গোল’ বানিয়েই দিয়েছিলেন নেইমার, তিনি শুধু তা পোস্টে ঠেললেই হতো। নিশানা ঠিক না হওয়ায় সফরকারীরা বেঁচে গেছে সেই দফায়। হিগুয়েইন-আগুয়েরো জোড়া স্ট্রাইকার ওপরে, ডানে মেসি, বাঁয়ে দি মারিয়া—তাতে আলবিসেলেস্তারা আক্রমণে গতি বাড়ালে কী হবে, ব্রাজিল যখন ছন্দ পেয়ে গেছে তখন অন্য প্রান্তে আবার ভুল করা শুরু করেছে আর্জেন্টিনার ডিফেন্স। ৩-০ করে ফেলা পাউলিনিয়োর গোলটি সেই সুযোগেই। প্রথমবার ওতামেন্দি ও ফিউনেস মোরি জট পাকালে মাসচেরানো গোললাইন থেকে সেভ করেছিলেন পাউলিনিয়োর শট। পরেরবার গুয়ানজো এভারগ্রেন্ডের মিডফিল্ডারকে আর ফেরানো যায়নি। বাঁ-দিক থেকে মার্সেলোর ক্রস ডান প্রান্তে, সেখান থেকে রেনাতো আগুস্তোর কাটব্যাক সেন্টার—তাতেই পাউলিনিয়োর শট জালে। আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডাররা যেন তখন দর্শক। দুই বছরের আগের ৭-১ গোলের লজ্জা তখন কোথায় হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে! মিনেইরোর ৬০ হাজার দর্শক তখন সাম্বার ছন্দে দুলছে। নিজেদের মাঠে আর্জেন্টাইনদের এমন পতনও তাদের আনন্দের আলাদা উৎস। ১১ ম্যাচে মাত্র ১৬ পয়েন্ট—বিশ্বকাপে সত্যিই ডুবতে বসেছে এখন আলবিসেলেস্তে। পঞ্চম দল কন্টিনেন্টাল প্লে-অফ খেলার সুযোগ পাবে, সেই পাঁচেও নেই তারা। এই রাউন্ডেই আগে গোল ব্যবধানেই শুধু এগিয়ে ছিল চিলি। কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্রয়ে বাউসার দলের চেয়ে এখন পয়েন্টেও এগিয়ে গেছে তারা। আর ব্রাজিল তো শীর্ষেই, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এখন ৮ পয়েন্ট এগিয়ে তারা।

 

 

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: