ছাত্রদলের সভাপতি পদে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বাগেরহাটের ছেলে হাফিজুর রহমান

২২ আগস্ট ২০১৯, ১১:২৫:২০

রামিম চৌধুরীঃ

মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা নামে খ্যাত হাফিজুর রহমান।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিএনপির একটি শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন। ছাত্র রাজনীতি থেকে যোগ্য ব্যক্তিরাই জায়গা পায় মূল দলে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন নিয়ে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তার অবসান ঘটেছে। কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে ‘নির্বাচিত’ নেতৃত্বের অপেক্ষায় আছেন সংগঠটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। প্রথম দফায় ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ১৫ জুলাই কাউন্সিল হওয়ার কথা ছিল থাকলেও বিক্ষুব্ধ একটি অংশের আন্দোলনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন তফসিল পিছিয়ে চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহের যেকোনো একদিন ছাত্রদলের কাউন্সিলের ভোটগ্রহণ হবে।
ইতিমধ্যে ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্য মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন অনেকে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অনেকে শুরু করেছেন প্রচার-প্রচারনা। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। মৃত প্রায় সংগঠন ছাত্রদলের হাল কে ধরবে তা নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। দলের প্রতি আনূগত্য ও যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে ছাত্রদলের দায়িত্ব তুলে দিতে চান কেন্দ্রীয় নেতা-কর্মীরা।
তবে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা নামে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হাফিজুর রহমান হাফিজ। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাট জেলায়। শিক্ষাগত যোগ্যতা বা দলের প্রতি ভালোবাসা কোন টার কমতি নেই এই ছাত্রনেতার। সে কারনের তৃনমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের কাছে জায়গা করে নিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা হিসাবে।
ছাত্রনেতা হাফিজুর রহমান হাফিজ দীর্ঘদিন ব্যাপক সততার সাথেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। ঢাবির দর্শন বিভাগ হতে অনার্স মাস্টার্স শেষে বর্তমানে এমফিলে অধ্যায়নরত হাফিজুর রহমান ঢাবির নিয়মিত একজন ছাত্র। তিনি ঢাবি ছাত্রদলের জিয়া হলের সদস্য ও ঢাবি শাখার সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক এবং বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দূরদর্শিতার সাথে ছাত্রদলের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।
নবীন প্রবীণ সবার কাছেই গ্রহণযোগ্যতার শীর্ষে রয়েছেন হাফিজুর রহমান। দলের দুঃসময়ে নিবেদিত প্রান গা বাচিঁয়ে চলা হাজারো নেতা কর্মীদের ভিড়ে হাফিজুর রহমান দলীয় আদর্শের পরিচয় দিয়েছেন। বিএনপির দুর্দিনে- দুঃসময়ে তার ভূমিকা ও কর্মযজ্ঞ ছিল ব্যাপক প্রশংসনীয়। দলের প্রতি নিবেদিত প্রান হাফিজুর ১/১১ এ ছাত্র আন্দোলন পরিষদের যুগ্ন আহবায়ক ছিলেন। ১৪ই জানুয়ারীর একতরফা নির্বাচনে যখন ঢাকার আন্দোলন ফ্লপ ছিল তখন জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছাত্রদলের নেতা কর্মীদের নিয়ে মিছিল করে রাজপথেই সরব ছিলেন। একাধিক মামলা হামলার শিকার হয়ে কারাভোগ করেন তিনি। শত অত্যাচার নির্যাতন সয়েও দলীয় নীতি আদর্শের পথ হতে নূন্যতম বিচ্যুত হন নি ছাত্রনেতা হাফিজুর রহমান হাফিজ। বিভিন্ন ভাবে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েও বেঁচে থেকে শুধু লড়াই করেছেন দলের হয়ে। সে কারনেই তিনি সবার মাঝে মৃত্যুঞ্জয়ী ছাত্রনেতা হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছেন।
বিভিন্ন মানবিক কাজ ও দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রসংসনীয় ভূমিকা রেখে দল মত নির্বিশেষে জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছেন ছাত্রনেতা হাফিজ। সকল নেতাকর্মীদের নিকট জনপ্রিয় মৃত্যুঞ্জয়ী নেতা হাফিজুর রহমান বলেন- রাজনীতি করি একটি দলীয় আদর্শের জায়গা থেকে। রাজনীতি করতে গিয়ে মেধা, সোনালী জীবন, যৌবনের অনেক কিছুই হারিয়েছি, তবুও নীতি ও আদর্শের জায়গা হতে এক চুলও পিছপা হইনি। দল ও দলের নেতা কর্মীদের জন্য কাজ করেছি। সকল নেতা কর্মীদের সমর্থন, দোয়া ও ভালবাসা পেলে দলীয় হাইকমান্ড ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া সম্মলেনে সকলের মূল্যবান ভোট ও সমর্থন কামনা করে তিনি বলেন সকলের অন্তপ্রাণ অকৃত্তিম ভালবাসা ও সমর্থনই আমার চলার পথের অনুপ্রেরণা।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল উপলক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ দিনে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন সভাপতি প্রার্থী হাফিজুর রহমান। ছাত্রনেতা হাফিজুর রহমান সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হলে ছাত্রদল তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে এবং ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধ হবে বলে মনে করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: