জেগে উঠুন কালো আইনের বিরুদ্ধে | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

জেগে উঠুন কালো আইনের বিরুদ্ধে

4 July 2014, 11:04:02

katon

 

 

 

 

 

সাংবাদিক সমাজের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফলে ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের আমলে ১৯৭৩ সালের প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস আইনের পত্রিকা বন্ধসংক্রান্ত ধারাটি বাতিল করা হয়। বর্তমান সরকার সেই ধারাটি পুনর্বহালের চিন্তা–ভাবনা করছে বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিক ইউনিয়নের দুজন শীর্ষস্থানীয় নেতার অভিমত প্রকাশ করা হলো


তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনুর একসময়ের চিন্তাগুরু দুনিয়া কাঁপানো কার্ল মার্ক্সের কথা দিয়েই শুরু করি। জগদ্বিখ্যাত বহু লেখকের মতো তাঁর তারুণ্যও শুরু হয়েছিল নির্ভীক সাংবাদিকতা দিয়ে। প্রুশিয়ার রাজা আরোপিত সেন্সরশিপের কাটা-ছেঁড়া-লবণ-মাখা সমালোচনা করায় তাঁর Deuteche Jahrbucher পত্রিকাটি অক্কা পায়। অদম্য মার্ক্স এরপর কোলন থেকে বের করলেন Reinische Zeitung. ১৮৪২-এর মে মাসের কথা। রাজা, সংসদ সদস্যদের দুর্নীতি, অনিয়ম প্রকাশ করে চললেন। একদল এমপি বললেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দরকার, কিন্তু এতটা না।
মার্ক্সের জবাব—এই আইন সভায় অংশগ্রহণকারী সংবাদপত্রের পক্ষে সমর্থনকারীরা কী রক্ষা করছেন সামগ্রিকভাবে এর সঙ্গে কোনো প্রকৃত সম্পর্ক নেই। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়টি তাঁদের কাছে অতি আবশ্যক এমনটি কখনো দেখাতে আসেননি। এটি সম্পূর্ণ মস্তিষ্কের বিষয়, যেখানে হৃদয়ের কোনো ভূমিকা নেই। (মার্ক্স জার্নালিজম: দ্য গ্রাব স্ট্রিট ইয়ার্স, ক্রিস্টোফার হিচেনস, দ্য গার্ডিয়ান, জুন ২০০৭।)
রাশিয়ার জার নিকোলাস ওয়ান মার্ক্সের পত্রিকার ওপর বেজায় নাখোশ ছিলেন। তাঁর অনুরোধে প্রুশিয়ার রাজা শুধু পত্রিকাটিকে বন্ধ নয়, মার্ক্সকেও দেশছাড়া করলেন। মার্ক্স ছিলেন স্বাধীনচেতা। জোর গলায় বলতেন আমার পত্রিকাকে স্তব্ধ করার শক্তি কারও নেই।
এই উদাহরণ এ জন্য যে সভ্যতার উষালগ্নে ভিন্নমতের গণমাধ্যম হত্যার কাণ্ডকারখানা যেমন চলেছে, তেমনি তার বিরুদ্ধে সগর্জন প্রতিবাদও হয়েছে। ঔপনিবেশিক আইন সূত্র হিসেবে আমরা পেয়েছিলাম প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অ্যাক্ট। প্রকাশক-সম্পাদকের দায়িত্বশীলতা নির্ধারণের জন্য ১৮৬৭ সালে ব্রিটিশরা ‘প্রেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অব বুকস অ্যাক্ট’ চালু করে। ১৯৩১ সালে হয় ‘প্রেস (ইমার্জেন্সি পাওয়ার্স) অ্যাক্ট’। ১৯৬০ সালে আইয়ুব শাহি দুটি আইনকে এক করে ‘প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস অর্ডিন্যান্স’ (পিপিও) বানায়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে আলোচ্য আইন। পত্রিকার ডিক্লারেশন বা প্রকাশনার লাইসেন্স নিতে গেলে শর্ত সাপেক্ষে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রশাসকের অনুমতি লাগবে। তিনি আবার চাইলে এর ডিক্লারেশনস বাতিল করে দিতে পারেন।
১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পিপাসু মানুষের তীব্র আন্দোলন হয়েছিল। সাংবাদিক সমাজ তার অকুতোভয় শরিক ছিল এবং ’৯০-এর ২৭ নভেম্বর ডা. মিলন হত্যার পর জাতীয় প্রেসক্লাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, যখনই ইমারজেন্সি জারি হবে, তখন থেকে সারা বাংলাদেশে পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ এবং এরশাদের পতন না হওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকেরা কাজ করবেন না। সেদিন সন্ধ্যায় জরুরি অবস্থা চাপল, আমরাও ধর্মঘটে গেলাম। ভেঙে পড়ল স্বৈরাচার।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাংবাদিক সমাজের অনুরোধে সংবাদপত্রকে কালো আইন মুক্ত করার জন্য বিচারপতি মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন। সিনিয়র সাংবাদিকেরা এর সদস্য ছিলেন। কমিটির সুপারিশে বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং প্রিন্টিং প্রেসেস অ্যান্ড পাবলিকেশনস

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: