ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষের অবসারণের দাবীতে মানববন্ধন | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা

ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষের অবসারণের দাবীতে মানববন্ধন

27 September 2016, 10:48:36

আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

ষ্টাফ রির্পোটার ঃ
ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গী আশ্রয়দাতা ও দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারীরা গত বুধবার এ মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে। এছাড়া অতি সম্প্রতি উক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দূর্নীতি, ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যবহার ও অর্থ আত্মসাৎ, স্বজনপ্রীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা, ভাংচুর ও অধ্যক্ষ কে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছিল। স্থানীয় দু’জন এমপির আশ্বাসে পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। আবারও ভাংচুরসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে গত ১৯শে মে ২০১৬ তারিখে স্থানীয় এমপি ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোঃ আবদুল হাই (এম.পি) গত ২২ মে ২০১৬ ইং তারিখে স্থানীয় এমপি তাহজিব আলম সিদ্দিকী, গত ৮ মে ২০১৬ ইং তারিখে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মকর্তা ও কর্মচারী, গত ২০ জুলাই ২০১৬ ইং তারিখে ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ, গত ২০ মে/১৬ তারিখে মোঃ সমসের আলী নামে একজন অভিভাবক কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবরে উক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণের দাবীতে পৃথক-পৃথকভাবে ডিও লেটার ও অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
স্থানীয় এমপিদের ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তির মতাদর্শী, তিনি গোপনে জামায়াতের রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থ জোগান দিচ্ছে। তার আচরণে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবকসহ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ ক্ষুব্ধ। এ বিষয়ে সাবেক মহা-পরিচালকের সাথে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে, স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ও উক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। যার কারণে প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।
শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দের অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বিভিন্ন অর্থনৈতিক, একাডেমিক প্রশাসনিক অনিয়ম, অসামাজিক কার্যকলাপসহ স্বেচ্ছাচারিতামূলক কাজ করে চলেছেন। বোর্ড সমাপনী পরীক্ষা, ১ম পর্ব, ২য় পর্ব ও ৩য় পর্ব ফলাফল প্রকাশের আগে ও পরে বিভাগীয় প্রধানদের বদলীর হুমকি দিয়ে অধ্যক্ষ তাঁর পছন্দের ছাত্র-ছাত্রীদের পাশের উপযোগী নম্বর পায়নি তাদেরকে পরীক্ষায় পাশ করিয়া দিচ্ছেন, প্রতিষ্ঠানের কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধানদের কোন মতামত না নিয়ে জোরপূর্বক বিভিন্ন কাগজ পত্রে স্বাক্ষর করিয়া নিচ্ছেন। অধ্যক্ষের আস্থাভাজন কর্মচারী বেলাল হোসেন এবং অধ্যক্ষের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে সিকিউরিটি গার্ড তোবারক হোসেন মারা গিয়েছেন বলে জানা যায়। ৩য়-৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সার্বক্ষনিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছেন।
গত কিছুদিন আগে ৪র্থ শ্রেনীর মহিলা ক্লিনার রাজিয়া বেগমকে সামান্য ভুলের জন্য ২য় তলা থেকে লাথি মেরে ফেলে দেবে বলে গালমন্দ করেন। ঐ কর্মচারী একজন শারিরীক প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। এছাড়া উক্ত অধ্যক্ষ একজন জামায়াত ইসলামী পরিবারের সন্তান ও জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা সহ দেশদ্রোহী বিভিন্ন কর্মকান্ডে জড়িত।
স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ড লিপ্ত থাকা ও জাতীয় দিবসগুলোতে প্রতিষ্ঠানে সু-কৌশলে অনুপস্থিত থেকে পালন করছেন না।
উক্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব গ্রহণের পর নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি করেই চলছেন। অসংখ্য ছাত্র-ছাত্রী পাশ করিয়ে দেয়ার বিনিময়ে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের বেসকারী খাতের সমুদয় অর্থ সোনালী ব্যাংকে জমা না দিয়ে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে জমা রাখছেন। এ ব্যাংকের ম্যানেজার একজন জামায়াত শিবির সমর্থক, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে ভাউচারে অতিরিক্ত মূল্য ওঠিয়ে তা আত্মসাত করছেন। এছাড়া টেন্ডার ও কোটেশন ক্রয়ের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে অবৈধ অর্থ আদায় করে নিজের ও প্রতিষ্ঠানের জন্য নি¤œমানের মালামাল ক্রয় করছেন।
এসব কাজে প্রতিষ্ঠানের গাড়ীও ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের ব্যক্তিগত ও বেসরকারী নিয়োগ সংক্রান্ত কাজে প্রতিষ্ঠানের গাড়ী ব্যবহার করে (সরকারী-জ্বালানী) অর্থ অপচয় করছেন।
অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে গেষ্টরুম তৈরী করে সেখানে বসবাস করছেন। তার নিজস্ব বাসভবন থাকা স্বত্ত্বেও সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বাসা ভাড়া উত্তোলন করে আসছেন, এছাড়া পদার্থ ও রসায়ন ল্যাবের ব্যবহৃত ফ্রিজ, গ্যাস সিলিন্ডার, ইন্ডাকশন চুলা, ব্যায়াম করার যন্ত্রপাতি প্রতিষ্ঠানের নামে ক্রয় করে ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করছেন। তার নিকট আত্মীয় ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী বেলাল হোসেন, গার্ড জুলফিকার আলীর মাধ্যমে বর্তমানে মাষ্টার রোলে মোটা অংকের বিনিময়ে জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। যা বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন নেই, প্রতিষ্ঠানে ৯ জন ক্লিনারের মধ্যে ৮ জন থাকার পরও উক্ত অধ্যক্ষ আরও ২ জন ক্লিনার নিয়োগ দিয়ে আফরোজা খাতুন নামের একজন তার ব্যক্তিগত রান্নাসহ বাসার কাজে ব্যবহার করছেন। অধ্যক্ষের পরিবার ঢাকায় অবস্থান করায় ক্লিনার আফরোজা নিয়ে নানা গল্প কাহিনী প্রচারিত হচ্ছে।
একইভাবে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরাও উক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনেছে। অধ্যক্ষ মিজানুর রহমানের এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদে গত ১৫ মে ২০১৬ তারিখে ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক কর্মচারী অভিভাবকরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর ও অধ্যক্ষকে তার কক্ষে কয়েক ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে, পরে স্থানীয় এমপিদের হস্তক্ষেপে তিনি রক্ষা পান।
উল্লেখ্য, উক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্থানীয় ২ জন এম.পি, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মকর্তা, কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকগণ মহা-পরিচালক বরাবরে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ করলেও আজও বহাল তবিয়তে দাপটের সাথে অবস্থান করছেন তিনি, যার কারণে প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ক্ষুব্ধ অভিযোগ কারীরা।
এ ব্যাপারে জরুরী ভিত্তিতে উক্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক অপসারনের দাবী জানাচ্ছে ভূক্তভোগীরা, না হয় আবারও বড় ধরণের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটার আশংকা করা হচ্ছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: