ঝুমার অজানা অতীতৃ- মুকুল মজুমদার | Amader Nangalkot
শিরোনাম...
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ জমকালো আয়োজনে বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র ওমান শাখার কমিটি গঠন ◈ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার কমিটিতে ভোলাকোটের দুই রতন ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

For Advertisement

ঝুমার অজানা অতীতৃ- মুকুল মজুমদার

15 November 2016, 10:12:20

সুপতা! এই সুপতা কোথায় গেলি?
– আসছি আব্বু, কি বল?
– তোমার চাচা চাচি আসছে আজ। ওদের ঘরটা ঝাড়- মোছা দিয়ে একটু পরিষ্কার করে দিসতো।
– ও তাই নাকি! তাহলে তো খুব মজা হবে। আব্বু ঝুমা আসবে তো? কত দিন ওকে দেখিনা সে যে গেলো! ছোট্ট সেই ঝুমা, আজ জানি কত বড় হয়েছে?
হাবিব সাহেব অনেকক্ষণ চুপ থেকে বললো আসবে, ঝুমাও আসবে।
সুপতা আনন্দে আত্মহারা। তার চাচা চাচী দীর্ঘ তের বছর পর আজ বাড়ি ফিরেছে। দৌঁড়ে গিয়ে তালা লাগিয়ে রাখা অনেক দিন আগের ঘরটার দরজা খুললো সুপতা।
ইশ্ কি অবস্থা হয়েছে ঘরটার, আব্বু আব্বু দেখে যাও।
– কিরে কি হল এভাবে চেচাচ্ছিস কেন?
– আব্বু দেখো ঘরটা কি অবস্থা হল। এই নোংরা ঘরটা পরিষ্কার করব কিভাবে?
– শুন আমি পাশের বাড়ির ছায়েরাকে ডেকে দিচ্ছি। ও কাজ করবে তুমি ওকে দেখিয়ে দিও কোথায় কি করতে হবে।
– আচ্ছা ঠিক আছে।
সুপতা ও ছায়েরা মিলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে ঘরটাকে কোন রকম রঙ রুপ দিয়ে সাজিয়েছে। এখন সুপতা আর চাচী এসে বুঝতেই পারবে না যে এ ঘরের এত দিন কেউ ছিল না।
ঝুমা হাবিব সাহেবের ছোট ভাই হামিদুর রহমানে কন্যা। এখন থেকে তের বছর পূর্বে তারা গ্রাম ছেড়ে চলে যায়। ছোট্ট একটা দূর্ঘটনার কারণে হামিদুর রহমান হঠাৎ করে বাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রাম গিয়ে উঠে। আজ অনেক দিন পর সে বাড়ি ফিরে আসছে।
রেল ষ্টেশানে অপেক্ষা করছে হাবিব সাহেব, তার ছোট ভাই হামিদুর আসছে।
দূরের পথে লাল বাতিটা জ্বলার সাথে সাথে হাবির সাহেবের বুকের ভিতর নিভে থাকা অনেক দিন আগের সেই কষ্টের লাল আগুনটা জ্বলে উঠলো। কে জানে সে অতীতটাও ঐ টেনে করে ফিরে আসছে?
ধোঁয়া ধোঁয়া কাঠ ফাটা রোদ্রের ঝলকানি ভেদ করে একটি ট্রেনের মাথা যতই এগিয়ে আসছে ততই বুকের ভিতর থাকা হৃতপিন্ডটা উৎপাত বাড়ছে। ট্রেন এসে থামলো। চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি ট্রেন থেকে কয়েকটি ব্যাগ ও সুটকেস হাতে নেমে এলো হামিদুর, রাশেদা ও ঝুমা। হাবির সাহেব তার ছোট ভাইয়ের কন্যা ঝুমাকে দেখে আর্শ্চয্যের ঝলকানি খেলেন।
চেহেরার রুপ মাধুর্য্য আর মায়া বলতে যতটুকু থাকার দরকার, ঝুমার মাঝে তার বিন্দু মাত্রও কম নেই। গ্রামের আট দশটা ছেলে প্রথম দিনই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবে। হাবিব সাহেব মনে মনে আলহামদুলিল্লাহ বলে বললো-
চল মা তোমাদের জন্য আমি গাড়ি ঠিক করে রেখেছি।
মেইন রোড থেকে গ্রামের বাড়িটা যেতে তাদেরকে খানিটা পথ হাঁটতে হবে। রিক্সায় যাওয়ার মত কোন ব্যবস্থাও নেই। সকলে এক সাথে রাস্তা দিয়ে হাটছে বাড়ির উদ্দেশ্য।
একটি প্রবাদ আছে “অভাগা যে দিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায়”।
গ্রামে প্রবেশ করতে না করতে হাবিব সাহেব ‘মীর জাফরে’র সামনে পড়লো। মীর জাফর এমন এক লোক যার চারিত্রিক অত্যাচারে গ্রামটা অতিষ্ট। হাবিব সাহেব মনে মনে ভাবলেন- কে জানে আজ আবার কি বলে বসে থাকে। আর সামনে আসতেই সালাম দিল হাবিব ও হামিদ।
মীর জাফর বিস্মিত নয়নে বললো- আরে কে এটা হামিদ মিয়া না? দেশে ফিরলে তাহলে। তা তোমার বিপদটা কই?
– বিপদ! কি বিপদ? বলল হামিদ মিয়া।
– না… মানে… তোমার ঐ চরিত্রহীন মেয়েটার কথা বলছি। যার কারণে তোমাকে গ্রাম ছাড়তে হল।
‘মীর জাফরে’র কথা শুনে ঝুমা চমকে উঠলো। আর ঝুমার চমকে উঠাটা দেখে হাবিব সাহেব মাথাটা নিচু করে হাটতে লাগলো। হামিদ মিয়ার দু‘চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরতে লাগলো। সে মনে মনে ভাবলো আজ এত বছর পরও মানুষ এ ছোট্ট বিষয়টাকে ভুলতে পারলো না। যে আসল অপরাধী তাকে খুঁজে বের করতে পারেনি যত দোষ আমার মেয়ের।
ঝুমার ভিতরটা হঠাৎ কেমন যেন হাহাকার করে উঠলো। কিছু একটা হারানোর ব্যাথা সে অনুভব করলো।
বাড়ি পৌঁছে হাবিব সাহেব সবাইকে হাত মুখ পরিষ্কার করে খাওয়া দাওয়ার কথা বললো। আর বললো- তোমাদের ঘরটা গোছানো আছে, খাওয়া শেষে সবাই আজ বিশ্রাম নিবে কেমন?
সুপতার ‘মা’ আলেয়া বেগম আজ অনেকদিন ধরে অসুস্থ্য তাই ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ঝুমা ও তার মা-বাবা তারা সবাই সুপতার মায়ের ঘরে গিয়ে বসলো আর ভালো মন্দ খোঁজ খরব নিল। আলেয়া বেগম তাদেরকে কাছে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেললো। খুব অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ঝুমার দিকে। রাতের খাবার সেরে সকলে ঘুমিয়ে পড়লো। ভোর হতে না হতেই পাড়ায় পাড়ায় জানা জানি হয়ে গেলো হামিদ মিয়ার আগমের কথা। আর জানাজানি হল ঝুমার ফেরার কথা। পাড়ায় কানা-ঘুশা শুরু হলো। হামিদ মিয়া তার সে নষ্ট মেয়েকে নিয়ে গ্রামে এসেছে। অধিকাংশ পরিবার তার সন্তানদের প্রতি কড়া নির্দেশ- সাবধান তোমরা কেউ ভুল করেও হামিদ মিয়ার পরিবারের সাথে মিশবে না।
ঝুমা ও সুপতা প্রথম প্রথম গ্রামের দৃশ্যপট গুলো দেখার জন্য বের হলেও এখন আর বের হতে মন চায় না ঝুমার। ঝুমা বুঝে উঠতে পারছে না যে, তাদের জীবনে কি এমন পরিবর্তন হল যে, গ্রামের মানুষ গুলো কেমন যেন অস্বাভাবিক আচরণ করছে। দিন যায় রাত যায় ঝুমার ঘুম হয় না তার ভিতর মনে হচ্ছে সে যেন জীবনের মূল্যবান কিছু হারিয়ে বসেছে। এভাবে দিন কয়েক গেলো। ধীরে ধীরে হামিদ মিয়ার পরিবারের জীবন চিত্র অস্বাভাবিক হয়ে উঠলো। হাবিব সাহেব ও হামিদ মিয়ার হতাশয় দিন কাটতে শুরু করলো।
ঝুমার এমন অবস্থা দেখে সুপতার মনেও ঝড় বইতে লাগলো। ভিতরের ভিতরে সেও চোখের জল ঝরায়। কিন্তু কি করবে। বুঝে উঠতে পারছে না। দীর্ঘ এতগুলো বছর পর এই গ্রামটা তাদেরকে এভাবে অবহেলা করবে তা সে স্বপ্নে ভাবতে পারেনি। পরিবারের সকল সদস্য মিটিংএ বসেছে সেখানে ঝুমা ও সুপতা যাওয়া নিষেধ। ঝুমা অনুভব করতে পারছে, সত্যি সত্যি তার জীবনে কিছু একটা ঘটেছে যা ঝুমার অজানা অতীত। কিন্তু সে অতীতটা ঝুমার জানা দরকার। এক পা দু’পা করে ঝুমা সুপতার ঘরে গিয়ে হাজির হল। সুপতা ঝুমাকে দেখেই বলে উঠলো-
– কিরে ঝুমা কিছু বলবি?
– হ্যাঁ বলব।
– কি বল?
– আপু? তোমার সাথে আমার জরুরী কথা আছে।
– কি বলবি বল।
– আগে আমাকে কথা দিতে হবে যে আমি যা প্রশ্ন করব তা নির্দ্বিদায় উত্তর দিতে হবে।
সুপতার ভিতরটা কেমন যেন মোছড় দিয়ে উঠলো।
– আচ্ছা ঠিক আছে উত্তর দিব, বল কি হয়েছে?
– আমার জীবনে কি এমন অতীত যা আমি জানিনা। যার জন্য আজ আমাদের ঘরে গোপনে মিটিং হচ্ছে।
সুপতা কিছুটা বিস্মিত হয়ে বললো-
– কে বললো তোকে এ কথা?
– আমাকে কেউ বলেনি। আমি অনুভব করেছি।
– সত্যিই শুনতে চাস?
– হ্যাঁ আমি শুনতে চাই এবং এখনই।
– আচ্ছা ঠিক আছে চল আমরা পুকুর পাড়ে গিয়ে বসি। বাহিরে অনেক আলো সম্ভবত আজ পূর্ণিমার চাঁদ উঠেছে।
– ঠিক আছে চলো।
সুপতা ও ঝুমা পুকুর পাড়ে বসলো। আর সুপতা বলতে শুরু করলো।
আজ থেকে তের বছর পূর্বে তোর মা-বাবা তুই আর আমরা একসাথে এ বাড়িতেই থাকতাম। আমাদের ছিল যৌথ পরিবার। হাসি আনন্দ সবই ছিল আমাদের পরিবারে। একদিন বিকেলে আমি স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ এ পুকুর পাড়ের ঐ পূর্ব প্রাš,Í যেখানে তুই আর আমি আমরা দিনের পর দিন খেলাতাম, সেখানে তোকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গেলো। সাথে সাথে তোকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হল। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বললো- কে বা কারা যে তোর ইজ্জত হনন করেছে। মূহর্তের মধ্যে রটে গেলো গ্রাম জুড়ে। তার পর চাচা তোর জীবন চলার কথা ভেবে তোকে নিয়ে চলে গেলেন শহরে তার পরেরটা তো তোর জানাই আছে।
সুপতা কথাগুলো শেষ করে ঝুমার দিকে তাকাতেই দেখে চোখের জল পড়ে তার জামাটা ভিজতে শুরু করেছে। বসা থেকে উঠে ঝুমা সোজা তার ঘরে গিয়ে প্রবেশ করলো। রাত প্রায় ১১টা বাজতে শুরু করেছে। রাতের ঘুম হারাম হয়ে গলে ঝুমার। তার মা-বাবা তাকে নিয়ে কতইনা কষ্টে আছে তা ভেবে কূল কিনার পাচ্ছেনা সে। এ অভিশপ্ত জীবন নিয়েতো আর এ সমাজে বেঁচে থাকা যায় না। এ জীবন থেকে মুক্ত হওয়ার পথ খুঁজতে শুরু করলো ঝুমা। সে ভাবতে লাগলো তার এক জনের জন্য কেন একটা পরিবার, একটা বাড়ি আর একটা সমাজ অশান্তিতে থাকবে। রাত শেষ ভোর হতে লাগলো বাহিরে সকালে পাখিরা ডাকতে শুরু করেছে। শীতের সকাল, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো গ্রামের সবুজ শ্যামল পথ দিয়ে হাঁটতে শুরু করলো ঝুমা। তার বিবেক তাকে প্রশ্ন করলো- কোথায় যাচ্ছিস ঝুমা? সে উত্তর করলো- আমি কোথায় যাচ্ছি জানি না শুধু জানি আমি একটা পরিবারকে শান্তি দিয়ে যাচ্ছি। তার পর হাঁটতে হাঁটতে এক সময় কুয়াশার অগচোরে চলে গলে সে #

For Advertisement

Unauthorized use of news, image, information, etc published by Amader Nangalkot is punishable by copyright law. Appropriate legal steps will be taken by the management against any person or body that infringes those laws.

Comments: