টি-টোয়েন্টিতেও দাপট বাংলাদেশের | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / খেলাধুলা / বিস্তারিত

টি-টোয়েন্টিতেও দাপট বাংলাদেশের

15 November 2016, 8:56:42

ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ৩৪ বলে ৫৫ রান; সাতটি চার ও দুটি ছক্কায়। পরের খেলায় সেভাবে প্রয়োজন পড়েনি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারার সময় অপরাজিত থাকেন ১ রানে। তৃতীয় ম্যাচ রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে। দলের দরকারে আবার খলবলিয়ে হেসে ওঠে তাঁর ব্যাট। সমান চারটি করে চার-ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে। এরপর চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে কালকের ম্যাচ। এবারও পঞ্চাশের আগে থামানো যায়নি। সাত বাউন্ডারি ও এক ওভার বাউন্ডারিতে ৫৯ বলে করেন ৬৫ রান।

চার ম্যাচে তিন ফিফটিতে ১৮৪ রান। গড় ৬১.৩৩। স্ট্রাইকরেট ১৩৩.৩৩। এমনই আশ্চর্য ধারাবাহিকতা লুকানো ছিল শাহরিয়ার নাফীসের ব্যাটে!

তামিম ইকবাল মুগ্ধ। বরিশাল বুলসের ওই ব্যাটসম্যানের ব্যাটে কাল যদিও পুড়েছে চিটাগং কিংসের স্বপ্ন, তবু জাতীয় দলে একদার ওপেনিং সতীর্থের ব্যাটিং উপভোগের রং ছড়াচ্ছে তামিমের মনে, ‘আমি উনার শেষ ইনিংসটা মাঠে বসে দেখেছি, প্রথম ইনিংসটা দেখি টিভিতে। এই মুহূর্তে বিপিএলে সবচেয়ে ভালো ব্যাটিং করছেন উনি। আমার কাছে মনে হয়, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে রান করার জন্য অনেক কাজ করেছেন এবং সফলতাও পাচ্ছেন। সত্যি বলতে কী, আমিও তাঁর ব্যাটিং খুব উপভোগ করছি।’

উপভোগ্য ব্যাটিংয়ে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) নেতৃত্ব দিচ্ছেন শাহরিয়ার। মিছিলের পরের মুখগুলোতেও জয়জয়কার বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। শীর্ষ পাঁচে যে নেই বিদেশের কোনো ব্যাটসম্যান! কুমার সাঙ্গাকারা, মারলন স্যামুয়েলস, শোয়েব মালিকরা পড়ে রয়েছেন পেছনে। স্বাগতিক দর্শকদের বাড়তি উল্লাসের উপলক্ষ এনে দিয়েছে তা!

শাহরিয়ারের চেয়ে ১০ রান পেছনে মুশফিকুর রহিম। তবে চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে অপরাজিত থাকায় বরিশাল বুলস অধিনায়কের গড়টা তাঁর মোট রানের সমান—১৭৪! এখন পর্যন্ত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের সোহেল তানভীর আউট করতে পারেন তাঁকে—৩৩ রানে। বাকি তিন খেলায় ৫০, ৮১ এবং ১০ রানে অপরাজিত। কালকের সেই ১০ রানও কী গুরুত্বপূর্ণ! শেষ ওভারে ৭ রান প্রয়োজন, এমন অবস্থায় ক্রিজে যান। চার বলের মধ্যে দুই রাউন্ডারিতে মিটিয়ে দেন সে প্রয়োজনীয়তা। আর টি-টোয়েন্টির চাহিদা যে মুশফিক মেটাতে পারছেন দারুণভাবে, সে সাক্ষ্য দেবে ১৫১.৩০ স্ট্রাইকরেট।

মেহেদী মারুফের স্ট্রাইকরেট আরো বেশি, ১৫৪.৫৪! ঢাকা ডায়নামাইটের এই ওপেনার বরিশাল বুলসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই খেলেন চোখ ধাঁধানো অপরাজিত ৭৫ রানের ইনিংস। পরের দুই খেলায় ২৫ ও ১০ করে আউট হলেও কাল আবার ৬০। সব মিলিয়ে ৫৬.৬৬ গড়ে ১৭০ রান নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে মেহেদী। চারে সাব্বির রহমান। রাজশাহী কিংসের এই ক্রিকেটার বরিশাল বুলসের বিপক্ষে পরশু খেলেন ১২২ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। এবারের বিপিএলে এখন পর্যন্ত ওই একটিই সেঞ্চুরি। তিন ইনিংস ব্যাটিং করে ১৫৭ রান নিয়ে রানসংগ্রাহক তালিকার চার নম্বরে সাব্বির। ৫২.৩৩ গড় ও ১৫০.৯৬ স্ট্রাইকরেট তাঁর। শীর্ষ পঞ্চকের শেষ নামটিও বাংলাদেশের—তামিম ইকবাল। দল চিটাগং কিংসের বিপর্যয়ের মধ্যেও অধিনায়কের ব্যাট থেকে রান আসছে নিয়মিত। প্রথম ম্যাচে ৫৪ রান করার পরের দুই ম্যাচে বিবর্ণ কিছুটা। আউট হন ১১ ও ৩ রানে। তবে কাল আবার ৭৫ রানের দাপুটে ইনিংস দিয়ে রাজসিক প্রত্যাবর্তন তামিমের। সব মিলিয়ে বিপিএলের চার ম্যাচে ৩৫.৭৫ গড় ও ১২৮.৮২ স্ট্রাইকরেটে ১৪৩ রান তাঁর।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের এমন পারফরম্যান্স দারুণ তৃপ্তি দিচ্ছে মুশফিককে। না হয় শিরোপার জন্য দলগুলো লড়াই করছে পরষ্পরের সঙ্গে! কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ঝলমলে পারফরম্যান্সে শেষ পর্যন্ত দেশেরই তো লাভ! আর বিপিএলেও ভালো করার জন্য স্থানীয়দের ভালো খেলার বিকল্প নেই বলে জানিয়ে দেন বরিশাল বুলসের অধিনায়ক মুশফিক, ‘শাহজাদের ওই এক ইনিংস ছাড়া সব কিন্তু আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়রাই ভালো করেছে। সেরা রান সংগ্রহকারীর দিকেও দেখবেন প্রায় সবাই স্থানীয়। আসলে বিপিএলে ভালো করতে হলে স্থানীয় খেলোয়াড়দেরই ভালো খেলতে হবে। কারণ প্রতি ম্যাচে সাতজন স্থানীয় খেলোয়াড় থাকে বলে সেখানে ভালো খেলার সুযোগ বেশি।’

সুযোগটা ব্যাটসম্যানরা যেভাবে নিচ্ছেন, বোলাররা হয়তো সেভাবে লুফে নিচ্ছেন না। তার পরও মন্দ কী! সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তো বাংলাদেশের শফিউল ইসলামই! তিন ম্যাচে ৭ উইকেট নেন ৯.৫০ গড় ও ৬.৩৩ ইকোনমিতে। সাত উইকেট নিয়ে ঠিক পরে রংপুর রাইডার্সের পাকিস্তানি লেগ স্পিনার শহীদ আফ্রিদি, চিটাগং ভাইকিংসের আফগান অফ স্পিনার মোহাম্মদ নবী ও খুলনা টাইটানসের পাকিস্তানি বাঁহাতি পেসার জুনাইদ খান। ছয় উইকেট শিকারে এরপর খুলনা টাইটানসের অফ স্পিনার মাহমুদ উল্লাহ এবং রাজশাহী কিংসের পেসার আবুল হাসান।

বাংলাদেশের বোলারদের সামনে চ্যালেঞ্জ তাই ব্যাটসম্যানদের পদাঙ্ক অনুসরণের। আর ব্যাটসম্যানদের চ্যালেঞ্জ ফর্ম ধরে রাখার। সে চ্যালেঞ্জে তাঁরা জিততে পারলে গত বিপিএলের মতো অন্তত সর্বোচ্চ রান-উইকেটের শিখরে বিদেশি কারো নাম থাকবে না।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: