ডাকাতি হয়ে যাচ্ছে চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদী | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / সম্পাদকীয় / বিস্তারিত

ডাকাতি হয়ে যাচ্ছে চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদী

9 July 2014, 3:11:23

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস।

ডাকাতি হয়ে যাচ্ছে চাঁদপুরে ডাকাতিয়া নদী। চাঁদপুর মেঘনার মোহনা থেকে শুরু হয়েছে ডাকাতিয়া নদী। জেলার সদর উপজেলা, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন অংশে বহমান এই নদী। কিন্তু ডাকাতিয়া নদীতে প্রকাশ্যে দখলদারদের ডাকাতির কারণে নদীর আয়তন ছোট হয়ে আসছে ক্রমান্বয়ে। নদীর মাতৃরূপ না বুঝে এক ধরনের অসাধু ব্যবসায়ী ও মানুষ প্রতিনিয়ত নদীর বিভিন্ন পাড় দখল করে আসছে। এসব দখল বন্ধ করার যেন কেউ নেই।


সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হাজীগঞ্জ উপজেলার ডাকাতিয়াপাড় থেকে শুরু করে চাঁদপুর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীর পাড়গুলো মানুষ দখল করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। আবার অনেকেই শুরু করেছে বালু কিংবা অন্যান্য মালামালের ব্যবসা। আবার কেউ কেউ নিজেদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি দাবী করে বাড়ীঘর তৈরীর জন্য প্লট তৈরী শুরু করেছেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ৫নং ঘাট, ৩নং ঘাট, ১০নং ঘাট, চৌধুরী ঘাট ও নতুন বাজার এলাকার নদীর দু’পাড়ে শত শত পাকা বিল্ডিং ও পাকা টিনসেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর নির্মান করে ডাকাতিয়া পাড় দখল করায় শহরে পানি নিষ্কাশনে বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে । তাই নদী পূর্বের চাইতে অনেকগুন ছোট হয়ে গেছে। ডাকাতিয়া দখল সম্পর্কে স্থানীয়, জাতীয় দৈনিক ও বেসরকারি টেলিভিশনগুলোও বহুবার প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করেছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত দৌরাত্ম্য থামেনি দখলদারদের। শহরের বাগাদী রোড বিআই ডাব্লিউটিএর মোড়ে বালু ব্যবসা অনেকটা বন্ধ হলেও একটু দক্ষিণে গিয়ে আবার একটি সংঘবদ্ধ চক্র শুরু করেছে বালু ব্যবসা। কিন্তু তারা নিজেদের সম্পত্তি দাবী এবং প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ হয়েছে বলে দাবী করেন। নতুন করে দখল শুরু হয়েছে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের চাঁদপুর সেতুর উত্তর ও পশ্চিমপাশ। এখানে বিশাল আয়তন নিয়ে নদীর পাড় দখল করে শুরু হয়েছে বালুর ব্যবসা। সরকারের কোন দপ্তর তাদের নদী দখলের অনুমতি দিয়েছে  ?-এমন প্রশ্নের জবাব মিলেনি তাদের কাছ থেকে। শ্রমিকদের প্রশ্ন করা হলে কোন সঠিক জবাব দিতে পারেনি। ওই স্থানে একটি ড্রেজার পাইপ রেললাইন সুরঙ্গ করে মাটি কাটার কাজ করছে। যারা এসব দখল বাণিজ্যে রয়েছেন, তাদেরকেও দিনের বেলায় পাওয়া অসম্ভব। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব বালু ব্যবসায়ীরা বেশীরভাগ রাতেই বিচরণ করেন বেশী।

শহরের চৌধুরীঘাট এলাকায় প্রশাসন নদীরপাড় দখলমুক্ত করার জন্য গত বছর এবং এ বছর কয়েকবার অভিযান চালায়। কিন্তু কয়েকদিন পর আবারও দখলদাররা অবৈধ দখলে মেতে উঠে। নদীটি আয়তনে কমে আসার কারণে মালবাহী নৌ-যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং বর্ষার মৌসুমে পানির প্রবাহ বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। ধীর গতিতে পানি নামার কারণে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে বেড়িবাধেঁর বাহিরের মানুষগুলো ফসলের ক্ষতি ও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগের শিকার হন। জেলা সদরের মাঝখান দিয়ে বহমান এই নদীর মাতৃত্বরূপ টিকিয়ে রাখতে নদী তীরবর্তী বসবাসকারী জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। সচেতনতা, সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আত্মপরিচয় হারাবে ঐতিহ্যের ডাকাতিয়া নদী।

 

লেখক পরিচিতি

বাপ্পি মজুমদার ইউনুস।

সম্পাদক

দৈনিক আমাদের নাঙ্গলকোট।

সাধারন সম্পাদক

লায়ন্স ক্লাব অব নাঙ্গলকোট।

ব্লগার,সাংবাদিকতা,চিকিৎসক,লেখালেখি,পড়াশুনা।

এই সব নিয়ে আমার সময় কাটে।

authorbappy@gmail.com

https://www.facebook.com/cadetbappy

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: