ডাক্তার শূণ্য, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, রোগীদের বিক্ষোভ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ ◈ অনুকূল পরিবেশ হলে এইচএসসি পরীক্ষা ◈ কুমিল্লায় বিপুল ইয়াবাসহ দম্পতি আটক!

ডাক্তার শূণ্য, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, রোগীদের বিক্ষোভ

3 November 2016, 5:32:19

মাঈন উদ্দিন দুলাল-
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে কর্মরত ডাক্তারদের না পেয়ে গতকাল সোমবার সকালে প্রায় শতাধিক রোগী বিক্ষোভ করেছে। সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে কর্মরত ৭জন জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং ১জন মেডিক্যাল অফিসারের মধ্যে একজনকেও হাসপাতালে তাদের কক্ষে পাওয়া যায়নি। এসময় রোগীরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আবু ইউছুফকে বিষয়টি জানায়। তিনি তাৎক্ষনিক হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে ডাক্তারদের না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুব আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপির ব্যাক্তিগত সহকারি কে এম সিংহ রতনকে জানান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭জন জুনিয়র কনসালটেন্ট এবং ৪জন মেডিক্যাল অফিসার দায়িত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে মেডিক্যাল অফিসারদের মধ্যে সহকারি সার্জন ডাঃ শফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, ডাঃ হাসান ইবনে আমিন এমওডিসি, ডাঃ ফৌজিয়া বিনতে হাফিজ প্রেষণে ঢাকার মুগদা ৫শ শষ্যা হাসপাতালে কর্মরত আছেন। গতকাল সকাল ১১টা পর্যন্ত জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী) ডাঃ লতিফা আক্তার, জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) বিপরীতে ডাঃ আ.ন.ম শহিদুল ইসলাম, জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি) ডাঃ মোঃ শওকত আলী, জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো-সার্জারী) ডাঃ শাহেদ আনোয়ার ভুঁইয়া, জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডাঃ নিলুফা পারভীন, জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন) ডাঃ জহির উদ্দিন বাবর, জুনিয়র কনসালটেন্ট (এ্যানেসথেসিয়া) বিপরীতে ডাঃ মোহাম্মদ সরওয়ার আলম এবং মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রাশেদ আহমেদ চৌধুরীকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি।

 

nangalkot-pic-31

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সরেজমিনে হাসপাতলে গেলে নাঙ্গলকোট গ্রামের আলহাজ্ব মাষ্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন সকাল ৯টায় হাসপাতালে এসে প্রায় ২ঘন্টা পর্যন্ত বসে থেকেও ডাক্তারদের তাদের কক্ষে পাওয়া যায়নি। এছাড়া অন্যান্য রোগীরা অভিযোগ করেন-হাসপাতালে কর্মরত প্রতিজন ডাক্তার সপ্তাহে ২থেকে সর্বোচ্চ ৩দিন আসলেও দুপুর ১২টায় হাসপাতালে এসে দুপুর ১টার মধ্যে আবার চলে যান। তারা আরো জানান, হাসপাতালে ২-৩জন ডাক্তার নিয়মিত আসলেও অন্যান্য ডাক্তাররা নিয়মিত আসেননা। তারা সপ্তাহে কেউ না এসে আবার কেউ ২থেকে ৩দিন আসলেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর দিয়ে যান। হাসপাতালের বহিঃবিভাগে ডাক্তারদের সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নিয়মিত উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সপ্তাহে প্রতিজন ডাক্তার ২থেকে ৩দিন খেয়ালখুশিমত কখনো সকাল ১১টা আবার কখনো ১২টার মধ্যে এসে দুপুর ১টার মধ্যে আবার চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে প্রতিনিয়ত রোগীরা ডাক্তারদের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
শুধুমাত্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়, ৭টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৭জন সহকারি সার্জন, ৪টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ৪জন মেডিক্যাল অফিসার এবং জোড্ডা ্ইউনিয়নের গোহারুয়া ২০শষ্যা হাসপাতালে ১জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনী), ১জন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার এবং ১জন মেডিক্যাল অফিসারের নাম খাতা-কলমে থাকলেও তাদেরকে নিয়মিত পাওয়া যায় না বলে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও গোহারুয়া ২০শষ্যা হাসপাতালে ডাক্তারদের নিয়মিত অনুপস্থিতির এ চিত্র প্রতিদিন দেখা গেলেও কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে নির্বিকার।

nangalkot-pic-31-10

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

নাঙ্গলকোট উপজেলা আওয়ামীলীগ সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আবু ইউছুফ বলেন, গতকাল সকাল ১১টায় রোগীদের মুঠো ফোনে খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে একজন ডাক্তারকেও উপস্থিত পাই নাই। সকাল ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত ডাক্তারদের ডিউটি কক্ষে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তাদের কাউকে নিয়মিত পাওয়া যায় না। খবর পেয়ে সকাল ১১টার পরে মাত্র ২ থেকে ৩জন ডাক্তার উপস্থিত হন। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মজিবুর রহমান বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুউদ্দিন কালু, পরিকল্পনামন্ত্রীর ব্যাক্তিগত সহকারি কে এম সিংহ রতন আমাকে বিষয়াটি জানিয়েছেন। আমি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে সকল ডাক্তারদের শোকজ করার জন্য বলেছি। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুব আলম বলেন, জুনিয়র কনসালটেন্টরা দেরীতে হাসপাতালে আসেন। তাদের কারণে রোগীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে। এছাড়া গত ১মাসের মধ্যে ৪জন ডাক্তারকে বদলি করা হয়েছে। তাদের পরিবর্তে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। যার ফলে সমন্বয়হীনতা হচ্ছে। ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হলে সমস্যা থাকবে না।

সুত্রঃ নাঙ্গলকোট টাইমস২৪

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: