তিতাসের ঐতিহাসিক আমিরাবাজ খেলার মাঠ প্রভাবশালীদের দখলে | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

তিতাসের ঐতিহাসিক আমিরাবাজ খেলার মাঠ প্রভাবশালীদের দখলে

19 November 2016, 10:48:45

প্রতিনিধি হোমনা (কুমিল্লা)
কুমিল্লার তিতাসের জগতপুর ইউনিয়নের ২শ’ বছরেরও পুরনো “জাতীয় চার নেতা”র স্মৃতি বিজরিত প্রায় ৩কোটি টাকা মূল্যের ঐতিহাসিক ‘আমিরাবাজ খেলার মাঠ’ স্থানীয় আ’লীগ নামধারী একটা প্রভাবশালী টাউট-বাটপাররা মহল দখল করে নিয়েছে। ‘তিতাস হাউজিং’ নামে সাইন বোর্ড লাগিয়ে মাঠের একপাশ কেটে পুকুর অপরপাশে ঘরের ভিটি বানাচ্ছে। ২১৫-বাতাকান্দি মৌজার ৩১নং-দাগের পৌনে ২একরের সরকারী খাস খতিয়ান ভূক্ত ঐতিহ্যবাহী এই খেলার মাঠটি ভূমিদস্যুদের দখলে নেয়ায় সুশিল সমাজের সর্বমহলে তোলপাড় ও নিন্দা চলছে।
দখলবাজদের প্রতি ধিক্কার ছুড়ছে স্থানীয় রাজনীতিক, সুশীল সমাজ, শিক্ষক, সাংবাদিক, ক্রিড়ামোদি, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেনী পেশার লোকজন। উক্ত খেলার মাঠ দখলে নিতে স্থানীয় ভূমি অফিসের কতিপয় দুর্নীতি পরায়ন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজস থাকারও অভিযোগ উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।
স্থানীয়রা বলছেন, দাউদকান্দি, হোমনা, তিতাস ও মেঘনা উপজেলার বড় বড় খেলা আমিরাবাজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্র এলাকায় সবচেয়ে বড় খেলার মাঠ বলতে আমিরাবাজ মাঠকেই মানুষ চিনে। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে দখলবাজদের বিরুদ্ধে একটা চাপা ক্ষোভ বইছে। স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, উক্ত আমিরাবাজ মাঠটি দখলকারী ও ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আমজনতা ফুঁসে উঠলে আশ্চার্য হবার কিছু থাকবেনা। কেননা এই মাঠের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। দেশ স্বাধীন হবার পর জাতীর ৪ বীর সেনানী ক্যাপটেন মনসুর আলী, তাজউদ্দিন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং কামারুজ্জামান’ এই ৪ নেতাসহ নেতৃবৃন্দ অবহেলিত এ অঞ্চল পরিদর্শনে এসে হেলিকপ্টারযোগে এই মাঠে নামেন এবং জনসভা করেছিলেন। তখন থেকেই এই চার নেতার নামে ‘আমিবাজ মাঠে’র নাম করনের দাবি উঠে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।
এদিকে উন্নয়ন বান্ধব বর্তমান সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খেলা-ধূলার মতো বিনোদনকে সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কারণ ছাত্র-ছাত্রী ও যুবকরা লেখা-পড়ার পাশাপাশি খেলা-ধূলায় মনোনিবেশ থাকলে সমাজে অপরাধ থাকবেনা। স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীরা বলছেন, ২শ’ বছরের ঐতিহাসিক ‘আমিরাবাজ মাঠ’ ভূমি দস্যুরা গ্রাস করে আ’লীগের ইতিহাস মুছে ফেলতে চাচ্ছে। তারা এসব কুকর্ম করে সরকারের বদনাম ছড়াচ্ছে। উক্ত আমিরাবাজ মাঠে জাতীয় চার নেতার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই এলাকাবাসী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ‘আমিরাবাজ মাঠ’ দখলমুক্ত করতে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন।
কুমিল্লার তিতাসের ঐতিহাসিক আমিরাবাজ খেলার মাঠ দখলের বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ আবদুল আউয়াল সরকার সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের এলাকার ঐতিহাসিক আমিরাবাজ খেলার মাঠ দখলের খবরে আমি হতবাক হয়েছি। মনে কষ্ট পেয়েছি। কেননা ৫০বছর আগে এই মাঠে আমি ফুটবল খেলেছি। তিনি বলেন, জাতীয় চার নেতা এই মাঠে জনসভায় বক্তব্য দিয়েছেন। এই মাঠের সাথে চার নেতার স্মৃতি জড়িত। আজ এই মাঠ দখলবাজরা গ্রাস করে কিভাবে! তিতাসের প্রশাসন কি করে, এসব দেখেনা?
তিতাস উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শওকত আলী বলেছেন, ঐতিহাসিক আমিরাবাজ খেলার মাঠ দখলে স্থানীয় প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত। এই মাঠ দখলে কারা কারা জড়িত সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে ওইসব দর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ মহসিন ভূইয়া বলেন, তিতাসের প্রশাসনের কর্তাগন কোনো বিষয়েই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সম্বনয় করছেন না। সরকারের বদনাম হলেও তাদের কিছু আসে-যায়না। তারা ব্যস্ত থাকে নিজেদের পকেট ভারি করতে। সুতরাং যা ঘটার ঘটছে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: