তিতাসে গোমতীর ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ
প্রচ্ছদ / রাজনীতি / বিস্তারিত

তিতাসে গোমতীর ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি

9 July 2014, 3:15:42

নাজমুল করিম, তিতাস, কুমিল্লা:


তিতাস উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের নারান্দিয়া পশ্চিমপাড়ে গোমতী নদী রুদ্রমূর্তি ধারন করেছে। এর ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে এখানে চিত্র পরিবর্তন হচ্ছে। ভাঙ্গনের ভয়াবহতায় বিভিন্ন বসতবাড়ী ও গাছগাছালি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরো অনেক বসতবাড়ী, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হলে ‘এ মুহুর্তে তাদের কিছুই করার নেই, তবে প্রয়োজনে কিছু ব্যাগ সরবরাহ করা যেতে পারে ’।


সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গোমতীর ভাঙ্গনে একের পর বিলীন হচ্ছে উপজেলার কলাকান্দি, ভিটিকান্দি নারান্দিয়া ও জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বসতবাড়ী, গাছপালা ও রাস্তাঘাট। বিগত মৌসুমগুলোতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন স্থানে ইটের ব্লক, বালির বস্তা ফেলা ও ডুবন্ত বাঁশ নির্মাণ ছিল প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগন্য। স্থানীয়ভাবে লোকজনও বাঁশের বেড়া ও নানা কিছু ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে ভাঙ্গন থামছে না।


এদিকে বর্ষার শুরুতেই আকস্মিক এ ভাঙ্গনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। দক্ষিণ নারান্দিয়ার পশ্চিমপাড় ছাড়াও আফজালকান্দি, খানেবাড়ী গৌবিন্দপুর, উত্তর ও দক্ষিণ মানিকনগর, ঘোষকান্দি, দাসকান্দি, হরিপুর বাজার, দুলারামপুর, দড়িকান্দি, নারায়নপুর, হাইধরকান্দি, আসমানিয়া, নারান্দিয়া পূর্বপাড়, রসূলপুর, জিয়ারকান্দি, শোলাকান্দি ও লালপুর গ্রামের সংলগ্ন অংশেও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। তবে ভাঙ্গন রোধে নূন্যতম কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড।


কুমিল্লার দুঃখ গোমতী; এখন তিতাসের দুঃখে পরিণত হয়েছে। গোমতীর এ ভয়ঙ্কর থাবায় কয়েক বছরের স্মৃতি বলতে গিয়ে দঃ নারান্দিয়া পশ্চিমপাড়ের মৃত আশ্রাফ উদ্দিন বেপারী পুত্র আবু কালাম বলেন, আমার পিতার প্রায় ৩৩০ শতাংশ জমি ও বসতবাড়ী নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। আমার ও আমার ভাই আবুল বাসারের যে অল্পটুকু বসতবাড়ী আছে তাও গত বছর আস্তে আস্তে ভেঙ্গে গেছে এবং মৃত আঃ মজিদের পুত্র আবুল কাসেম, আবুল হাসেম, তোরা মিয়া ও মঙ্গল মিয়াও পিতার বসতবাড়ী-ঘর হারিয়ে ফেলেছে। তিনি আরো জানান, গত ১৯৮২ সাল থেকে সাবেক দাউদকান্দি বর্তমানে তিতাস উপজেলার বিভিন্ন অংশ ভাঙ্গা শুরু হয় যা অদ্যবধি চলমান রয়েছে। কথা হয় নদীর ভাঙ্গনে ভিটেবাড়ী হারিয়ে ১০ বছর যাবৎ গোমতী নদীর এপাড় থেকে ওপাড়ে লোকজন পারাপারের মাঝির সাথে। তিনি জানান, আট-দশ জনের মতো আমারও বসতবাড়ী ছিল, ১০ বছর পূর্বে গোমতীর স্রোতে আমার বসতবাড়ী ভেঙ্গে যায়। বর্তমানে আমি অন্যের বাড়ীতে একটি দো”চালা ঘর তুলে বসবাস করছি। নিজের জায়গা সম্পত্তি হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে আছেন নারান্দিয়া পশ্চিমপাড়ের খুরশিদ মিয়ার ছেলে সাহাবুদ্দি, মহিউদ্দিনের ছেলে নাছির উদ্দিন, সাদর আলীর ছেলে সুরুজ মিয়া, সুরুজ মিয়ার ছেলে আবু কালাম ও রুহুল আমিনের ছেলে হোসেন মিয়া। জালাল উদ্দিন, জাকির হোসেন ও মন্টু মিয়া তাদের বাড়ীঘর হারিয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন।

দক্ষিণ নারান্দিয়া পশ্চিমপাড়ে যাদের ঘরবাড়ী ভাঙ্গনের মুখে রয়েছে তারা হলেন, আবু কালাম, আবুল বাসার, আবুল কাসেম, আবুল হাসেম, তোরা মিয়া, মঙ্গল মিয়া, মুনাফ মিয়া, ছবির হোসেন, শিপন মিয়া, আদু মিয়া, ফিরোজ হোসেন, মোস্তাক আহম্মেদ, নায়েব আলী, হবু মিয়া, তোতা মিয়া, মিজান মিয়া, মোসলেম আজিম, হানিফ হোসেন, লিল মিয়া, হানিফ মিয়া, মোস্তাক মিয়া, ছালাম মিয়া, জাকির হোসেন, মোকবল হোসেন, সাজু বেগম, মামুন মিয়া, মফিজ মোল্লা, সাইজুদ্দিন মোল্লা, শহীদ উল্লাহ, হোসেন মিয়া প্রমূখ। এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করলে তারা জানান, দক্ষিণ নারান্দিয়া পশ্চিম পাড়ের কয়েকটি বিদ্যুৎ খুঁটি, দঃ নারান্দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একাধিক জামে মসজিদ নদীতে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গোমতী নদীর ভাঙ্গনে উপরে উল্লেখিত গ্রামগুলো ছাড়াও দাসকান্দি বাজার, ভিটিকান্দি ইউনিয়ন অফিস, খেলার মাঠ এবং হরিপুর বাজার বিলীন হয়ে যায়। একাধিক স্থানের বেঁড়ি বাঁধও ভেঙ্গে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিহা ফেরদৌসী জানান, নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করি। তারা প্রতি উত্তরে জানায়, এ মুহুর্তে তাদের কিছুই করার নেই। তবে কিছু ব্যাগ দেয়া যেতে পারে। তবে ভয়াবহ এ ভাঙ্গন রোধ করার জন্য উপজেলা ল্যান্ড ট্রান্সপার ফান্ড থেকে যে ওয়ান পার্সেন নির্বাহী কার্যালয়ের ফান্ডে জমা হয়, সে ফান্ড থেকে ব্যয় করে গোমতী নদীর ভাঙ্গন রোধ করতে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: