তিতাসে পুলিশ কর্তার নির্দেশে ঘর ভেঙ্গে উচ্ছেদ | আমাদের নাঙ্গলকোট
সর্বশেষ সংবাদ
◈ বঙ্গবন্ধুর মানবিক গুনাবলী ও ধর্মীয় চেনতা-মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ ◈ সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন সব ছুটি বাতিল! ◈ সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাদ দেয়া সেই লিগ্যাল নোটিশ প্রত্যাহার ◈ বিশ্ব পর্যটন দিবস ও আমাদের সম্ভাবনা ◈ মোল্লা নিয়ে আলোচনা -সমালোচনা- এ,কে,এম মনিরুল হক ◈ বাইয়ারা প্রবাসী কল্যাণ ইউনিট’র বাহারাইন শাখা কমিটি গঠন ◈ পাই যে কৃপার ভাগ – মোঃ জহিরুল ইসলাম। ◈ কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জুতা পেটা খাওয়া ছাত্রলীগ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার ◈ সামাজিক সংগঠন ”খাজুরিয়া সমাজ কল্যাণ সংস্থার” ১৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন ◈ দৌলখাঁড় উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন প্রধান শিক্ষক শাহ আলম মজুমদার ◈ শিক্ষকদের মূল্যায়ন কতক্ষণ করবে- জহিরুল ইসলাম ◈ শুধু ভুলে যাই- গাজী ফরহাদ

তিতাসে পুলিশ কর্তার নির্দেশে ঘর ভেঙ্গে উচ্ছেদ

24 December 2016, 6:57:13

নিজস্ব প্রতিনিধি-হোমনা
কুমিল্লার তিতাসে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রভাবশালী এক পুলিশ কর্তার নির্দেশে অসহায় দিনমজুর শেখ ফরিদের পরিবারকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করতে ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে ট্রলারে ভরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। প্রভাবশালীদের ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের এ হেন কর্মকান্ডে ঘর-বাড়ি ও সহায় সম্বল হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছে ওই অসহায় পরিবারটির।
গত রবিবার উপজেলার জগতপুর সরকার বাড়িতে সরজমিনে গিয়ে এমন করুন দৃশ্যই চোখে পরে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা শওকত হোসেন স্বপন যদিও এ বিষয়ে সংবাদকে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
সরজমিনে গিয়ে বাড়িতে ঢুকতেই সাংবাদিকদের দেখে হাতে পায়ে ধরে কান্না জুড়ে বসে শেখ ফরিদ ও তার স্ত্রী নুরুন্নাহর। পাশে হাউমাউ করে কাঁদছে ফাতেমাÑ(৮) ও বিল্লালÑ(৬) দু’টি অবুঝ সন্তান। ‘বাবাগো আমগো আর কিছুই নাই।’ ঘরটাসহ সবকিছুই ভাইঙ্গা লুটপাট কইরা টলারো ভইরা নিয়া গেছে।’ নুরুল হক ও তার ভাতিজা ওসি স্বপনের নির্দেশেই সব করেছে ভারাইট্টা সন্ত্রাসীরা’ আমরা এহন কোন রকমে এই কাপড়-চোপরের বেড়া দিয়া ছাপড়া তুইল্লা থাহি। ও স্যার আমগোরে কি এ্ই ঘর থেইক্কাও লড়াইয়া দিবো?
এমন করুন আকুতির জবাব দেয়ার ভাষা হারিয়ে সাংবাদিকসহ উপস্থিত লোকজনরা তখন বিচলিত হয়ে উঠে। সভ্য সমাজে এখনো এমন অসভ্য বর্বরোচিত ঘটনার অবতারনা হয়! গ্রামবাসি সবকিছুই দাড়িয়ে দেখেছে বললেও কারো নাম উল্লেখ্য করতে চায়নি ভয়ে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জগৎপুর সরকার বাড়ির মৃত নোয়াব আলীর ছেলে শেখ ফরিদের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ পাশর্^বর্তী কালাইকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার মুন্সি ছেলে আঃ রহমানের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। অর্থ ও ক্ষমতার হার মেনে দীর্ঘ ২৫বছর গ্রামের ভিটে-মাটি ছাড়া ছিলো দিনমজুর শেখ ফরিদের পরিবার। ২৫বছরের যাযাবর জীবন শেষে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও গ্রাম্য সরদারদের সহযোগিতায় পৈত্রিক ভিটায় একটি ঘর নির্মান করে বসবাসের চেষ্টা করলে স্থানীয় প্রভাবশালী নুরুল হক সরকার ও তার ভাতিজা কথিত ওসি শওকত হোসেন স্বপনের নির্দেশে জসিমের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে শেখ ফরিদের ঘরটি ভেঙ্গে মালামালসহ লুট করে নিয়ে যায়।
এসময় প্রতিবেশীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেও ভয়ে কিছুই বলার সাহস পায়নি। তবে নুরুল হক ও তার ভাতিজাসহ প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকার ইঙ্গিত রয়েছে দিন মজুরের পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর। র্দীঘদিন ভাড়া বাসায় থেকে থেকে হতদরিদ্র শেখ ফরিদ জীবনের সবটুকু স য় দিয়ে আসবাবপত্র ও পৈত্রিক ভিটায় একটি ঘর বানিয়েছিলো। কিন্তু নিধারুন নিয়তি প্রভাবশালীদের কাছে সেই সম্বলটুকুও হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে শঙ্কায় মানবেতর জীবন কাটছে পরিবারটির।
ক্ষতিগ্রস্থ শেখ ফরিদ জানায়, ‘আমার ঘরটি ভাইঙ্গা টলারো ভইরা লইয়া গেছে। এখন আমারে প্রাণে মাইরা ফেলারও হুমকি দিতাছে। আর এই সব কিছুই নুরুল হক সরকারের নির্দেশে হইছে। হের এক ভাতিজা পুলিশের বড় ওসি। হেই গরমে হেয় এমন করে।’ থানায় অভিযোগ দিছি কোন ব্যবস্থা নিতাছে না।
এ বিষয়ে শওকত হোসাইন সপনের সাথে ফোনে জানতে চাইলে তিনি সরকারী কর্মকর্তা ছাড়া আর কোন বক্তব্য দিতে চায়নি। ‘ওসি নাকি ওসি তদন্ত’? এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আরো বড় কিছু।’ তবে তার ফেইসবুক আইডিতে ‘ইন্সপেক্টর অব পুলিশ অব বাংলাদেশ পুলিশ পাওয়া যায়।’
তবে ঘটনার সতস্য স্বিকার করে নুরুল হক সরকার বলেন, ‘২৩বছর পূর্বে কালাইকান্দি গ্রামের আঃ রহমান মুন্সি জায়গাটি কিনেছে। ওরা আমার আত্মীয় বিধায় আমার কাছে আসে। আর এই জায়গায় শেখ ফরিদরা ঘর তুলে থাকছে। আজ ঘর-কাল বিল্ডিং করবে! তাদের উচ্ছেদ্ত প্রশাসনও করতে পারবে না। তাই আমি বলেছি ঘরটি নিয়ে যেতে। তবে কে নিয়েছে আমি আমি জানি না।
আঃ রহমানের ছেলে জসিম জানায়, ‘আমি আমার পিতার ক্রয়কৃত বাড়িতে একটি ছাপড়া ঘর তুলেছিলাম। সেখানে শেখ ফরিদ ও তার পরিবার একটা কুচক্রি মহলের ইন্ধনে বসবাসের চেষ্টা করায় আমি সেটি ভেঙ্গে নিয়ে আসি।’
তিতাস থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুল ইসলাম পিপিএম বলেন, এমন বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবো। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Amader Nangalkot'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।  আমাদের নাঙ্গলকোট পত্রিকা তথ্য মন্ত্রনালয়ের তালিকাভক্তি নং- ১০৫।

পাঠকের মন্তব্য: